নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জেলবন্দি ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর জামিন স্থগিত নিয়ে শুনানি ফের পিছিয়ে গেল। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এম. আই. ফারুকীর মৃত্যুর কারণে আজ রবিবার (৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত রাখা হয়। ফলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন পাওয়া ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে যে শুনানি হওয়ার কথা ছিল, তা হচ্ছে না। ফলে জেলমুক্তি ঘটছে না বাংলাদেশের হিন্দুদের ‘রক্ষাকর্তা’র। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘সম্ভবত আগামিকাল (সোমবার) শুনানির নতুন দিন নির্ধারিত হতে পারে।’ ইসকন সন্ন্যাসীর জামিন শুনানি উপলক্ষে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। আদালতের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি চালায়। বিচারপ্রার্থী ও কর্মরত ব্যক্তিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বেলা এগারোটার দিকে ‘ছাত্রসমাজ’ নামে হিন্দুবিরোধী একটি সংগঠন আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয় এবং আইনজীবী আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও চিন্ময় দাসের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেয়।
গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাংলাদেশের হিন্দুদের ‘ত্রাণ কর্তা’ চিন্ময় প্রভুর জামিন মঞ্জুর করেছিল হাইকোর্টের বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার বেঞ্চ। ওই জামিনের কথা জানতে পেরেই ঘুম উবে যায় ইউনূস সরকারের। তড়িঘড়ি জামিন স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয় আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি রেজাউল হকের কাছে। আর সরকারের সেই আর্জি মেনে চিন্ময়ের জামিন স্থগিত রাখেন বিচারপতি। একতরফা রায় নিয়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠতেই নিজের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর কোটায় বিচারপতি পদে নিয়োগ পাওয়া রেজাউল হক।
গত বছরের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেই বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয় হিন্দু নিধন যজ্ঞ। নির্বিচারে লুট হয় হিন্দুদের বাড়িঘর-দোকান-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। ভাঙচুর হয় মন্দির-প্রতিমা। হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক মঠের অধ্যক্ষ তথা ইসকন সন্ন্যাসী চিনময়কৃষ্ণ দাস ওরফে চিন্ময় প্রভু। গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সনাতনী সম্প্রদায়ের বড় সমাবেশ হয়। ওই সমাবেশের পর গত ৩১ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। তাতে ভয় না পেয়ে ২২ নভেম্বর রংপুরে আরও এক বড় সমাবেশ করেন চিন্ময় প্রভু। মুসলিম প্রধান দেশে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীর এমন দুঃসাহস মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তানি পোষ্যভৃত্য তথা মৌলবাদী মোল্লা ইউনূসের সরকার। গত ২৫ নভেম্বর ঢাকা বিমানবনদর থেকে চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
গত ২ জানুয়ারি চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরবর্তীতে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। যদিও এতদিন ওই মামলার শুনানি হয়নি। বুধবার আচমকাই ওই মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার বেঞ্চ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জামিনের আদেশ দেন। ওই নির্দেশের কথা জানতে পেরেই ইসকন সন্ন্যাসীর জেলমুক্তি রুখতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি তথা জামায়াত ইসলামীর আইনজীবী সেলের শীর্ষ নেতা রেজাউল হকের দ্বারস্থ হয় সরকার পক্ষ। আর প্রভুদের নির্দেশ মেনেই জামিন স্থগিত করেন বিচারপতি রেজাউল হক। এ সংক্রান্ত শুনানিতে সরকারের হয়ে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও আরশাদুর রউফ। তবে চিন্ময় প্রভুর কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। কীভাবে একতরফা শুনানি করে জামিন আদেশ স্থগিত রাখা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বিপাকে পড়ে তড়িঘড়ি নিজের আদেশ প্রত্যাহার করেন জামায়াত স্যাঙাত বিচারপতি রেজাউল।