নিজস্ব প্রতিনিধি: আশঙ্কাই সত্যি হল। এইচএমপিভিতে আক্রান্ত দেশের একমাত্র মহিলা রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। গতকাল বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধে সাতটা নাগাদ মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সানজিদা আক্তার নামে ৩০ বছর বয়সী তরুণী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল বাশার এ খবর জানিয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুতেই চিনে শনাক্ত হয় এইচএমপিভি। তার পর থেকে জাপান, ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাবা বসাতে শুরু করে ওই ভাইরাস। আমজনতার মনে ফের করোনা কালের ভয়াবহ স্মৃতি ফিরে আসে। আতঙ্ক ছড়াতে থাকে। যদিও চিকিৎসকদের দাবি, এইচএমপিভি নতুন কোনও ভাইরাস নয়। ২০০১ সালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি, ২০০১ সালে নয়, ২০০ বছর আগে এইচএমপিভির দেখা মিলেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন হাঁপানি বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ তৈরি করতে পারে। গর্ভবর্তী মহিলা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন এইচএমপি ভাইরাস।
বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে থাবা বসিয়েছে মারণ ভাইরাস। বেশ কয়েকজনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে এইচএমপিভি। গত ১২ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা সানজিদা আক্তার এইচএমপিভিতে সংক্রমিত হয়ে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই খবর জানাজানি হতেই আতঙ্ক ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সানজিদা।