নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভৃত্য’ হিসাবে পরিচিত অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতা দখলের এক মাস পূর্ণ হতে না হতেই বাংলাদেশকে পাঁচ টুকরো করার দাবি তুললেন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন সেনা আধিকারিক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত হোসেন। আর তাঁর দাবি ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, ‘বাংলাদেশকে টুকরো করার পরিকল্পনা কার্যকর করতেই যে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলেছিল, তা স্পষ্ট হচ্ছে। দেশ ভাগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।’
অন্তর্বর্তী সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে বাংলাদেশকে পাঁচ টুকরো করার পক্ষে সওয়াল করেছেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রকের উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে অষ্টম বৃহত্তম দেশ। জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি। ছোট দেশ হলেও এত বিরাট জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারকে নিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে ন্যূনতম পাঁচটি প্রদেশে ভাগ করে একটি ফেডারেল কাঠামোর রাষ্ট্র করা যেতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে দুটি করে চারটি প্রদেশ ও বৃহত্তর ঢাকা নিয়ে আরেকটি প্রদেশ।’
দেশকে পাঁচ টুকরো করার পরে কীভাবে শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হবে তার একটি রূপরেখাও হাজির করেছেন পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা। তিনি লিখেছেন, ‘‘মেট্রোপলিটন ঢাকা কেন্দ্রশাসিত থাকবে। কেন্দ্রের হাতে প্রতিরক্ষা, বিদেশ, সীমান্ত ও সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও বৈদেশিক সাহায্য-সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো থাকবে। বাকি বিষয়গুলোতে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধান থাকলেও প্রদেশগুলো ব্যবস্থাপনায় থাকবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণও হবে প্রাদেশিক সরকারের কাঠামোতে।’ দেশকে পাঁচ টুকরো করার দাবি জানানোর পাশাপাশি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর পক্ষেও সওয়াল করেছেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি লিখেছেন, ‘এটি শুধু সময়ের দাবিই নয়, আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনা ও সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির জন্য অত্যাবশ্যক। উপমহাদেশ ও সার্ক দেশগুলোকেও যদি আমরা বিবেচনায় নিই তাহলে দেখব, একমাত্র মালদ্বীপ ছাড়া অন্য সব দেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বিদ্যমান।’