নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন। সেই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাজা শোনাল আদালত। আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে। সেই সঙ্গে আসানসোল আদালত শুনিয়েছে ফাঁসির সাজা । নিজের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল বাবা। শিউরে উঠেছিল আসানসোলের হীরাপুর থানা এলাকা। ২০২৪ সালের মে মাসে এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গত সোমবার অর্থাৎ ৪ আগস্ট দোষী সাব্যস্ত করেছিল আসানসোল আদালত। বুধবার ছিল সাজা ঘোষণা হওয়ার তারিখ। অবশেষে এই দিনই সাজা ঘোষণা করলেন বিচারক সুপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৩ মে সকালবেলা উদ্ধার হয়েছিল ১৪ বছরের কিশোরীর দেহ। তার দেহ পাওয়া যায় বাড়িতে বিছানা থেকে। প্রথম মৃতদেহ দেখতে পান কিশোরীর মা। তিনি ঘরে এসে দেখেন মেয়ের নাক কান দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে ওঠেন কিশোরীর মা। সেই শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তারা মেয়েটির পরিবারকে পরামর্শ দেয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মেয়েকে নিয়ে যেতে মা রাজি থাকলেও বাবা কিছুতেই রাজি হয়নি হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কিন্তু জোর করেই সকলে মিলে মেয়েটিকে ওই অবস্থাতেই হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা কিশোরীকে পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্ত করলে রিপোর্টে আসে যে কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।
কিশোরীর মা স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরে তার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোরীর বাবা কিশোরীকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে করে খুন করে। পরে পুলিশ সেই দড়িটি ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার মামলায় ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আসে আরও বেশ কিছু প্রমাণ। সেই সমস্ত প্রমাণ এবং সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্তের ফাঁসির সাজা শোনায় আদালত। ১৫ মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মৃত কিশোরীর মা’কে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দেওয়ার।