নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘আমি একজন পুলিশ, দয়া করে আমাকে গুলি করো না’, নিজের জীবন বাঁচাতে অপরাধীদের কাছে আর্তি করলেন খোদ পুলিশের হেড কনস্টেবল। পুলিশের কাজ অপরাধীদের খুঁজে বের করা, তাঁদের শাস্তি দেওয়া। যেখানে পুলিশের চোখ রাঙানিতে অপরাধী দের ভয়ে কেঁপে ওঠার কথা, সেখানে পুলিশই কিনা গুণ্ডাদের ভয়ে জবুথুবু খাচ্ছেন! হ্যাঁ, পুলিশের এই কাণ্ডটি এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলুন ঘটনাটি খুলে বলা যাক! ঘটনাটি হরিয়ানার গুরুগ্রামের ঘটনা। সম্প্রতি গুরুগ্রামের সেক্টর ১০ ক্রাইম ব্রাঞ্চে নিযুক্ত হেড কনস্টেবল দলজিৎ খবর পেয়েছিলেন যে, দুই যুবক বাইকে করে ব্রিস্টল চকের কাছে চিকেন কর্নারে আসছে, যাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের ধরতে গতকাল (১ আগস্ট) রাত ১১ টা নাগাদ চিকেন কর্নারে পৌঁছন কনস্টেবল দলজিৎ এবং বাইক আরোহীদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এরপরেই রাত ১১ টা ১০ মিনিট নাগাদ চিকেন কর্নারে একটি বাইক থামে। এর পরে, তথ্যদাতা হেড কনস্টেবলকে ইঙ্গিত করেন যে, এই বাইকেই রয়েছে দুষ্কৃতীরা। আর তাঁদের একজনের কাছে একটি অবৈধ পিস্তল রয়েছে। এরপর হেড কনস্টেবল তৎক্ষণাৎ বাইক আরোহীর কাছে পৌঁছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন, তখন বাইক আরোহী ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর হেড কনস্টেবল তাঁকে ধরার চেষ্টা করেন।
এরপরে বাইক আরোহীর শব্দ শুনে তাঁর অন্য সঙ্গী ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেশীয় পিস্তলে গুলি ভর্তি করে হেঢ কনস্টেবলের বুকে তাক করে। তখন তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য যুবক তাঁর সশস্ত্র সঙ্গীকে চিৎকার করে বলেন, হেড কনস্টেবল এভাবে শুনবে না, অবিলম্বে তাঁকে গুলি করো। আর তখনই নিজের জীবনের ঝুঁকি দেখে হেড কনস্টেবল সশস্ত্র অপরাধীকে বলেন যে, ‘আমি পুলিশ কর্মী, আমাকে গুলি করো না, আমাকে ছেড়ে দাও।’ এরপর সশস্ত্র যুবকটি বাতাসে পিস্তল উঁচিয়ে বাতাসে গুলি চালায় এবং হেড কনস্টেবলের তাঁর হাত থেকে কোনক্রমে বেঁচে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায়, প্রচন্ড ভয় পেয়ে গিয়েছেন ওই যুবক। এই ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। তবে বাইকে থাকা দুই অপরাধীর পরিচয়, তাদের নাম কী এবং তারা কোথা থেকে এসেছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। বর্তমানে ওই হেড কনস্টেবল মামলাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন। এর পর হেড কনস্টেবলের অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএলএফ ফেজ ১ থানায় অজ্ঞাত যুবকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছজ এবং তদন্ত শুরু করেছে।