নিজস্ব প্রতিনিধি: দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদ নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে অপপ্রচার চলছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। শুক্রবার (৬ জুন) নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই কয়েকটি চ্যানেলে জগন্নাথ ধামের মহাপ্রসাদ নিয়ে কিছু মানুষের কিছু কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কথা জানতে পেরে আমরা মর্মাহত। আমার বিশ্বাস বাংলার মানুষ বিব্রত হবেন না।’
মন্ত্রীর কথায় ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী (CM Mamata Banerjee) হিসাবে পেয়ে আমরা গর্বিত। বাংলার মানুষ কি চায়, বাংলার মানুষের কি প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন ।সেই জন্য তিনি দিন রাত মগ্ন থাকেন। উনি কোনও ধর্মীয় মেরুকরণে বিশ্বাস করেন না। ওনার কথায়, ধর্ম আমার ধর্ম তোমার, মহাপ্রসাদ সবার। শুধু হিন্দুরা প্রসাদ পাবেন, বা কোনও হিন্দু ডিলাররা প্রসাদ বিতরণ করবেন এরকম কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই। আমি এইধরনের মন্তব্যের প্রবল ধিক্কার জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দিঘার এই কাজ ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। এটা নাকি হিন্দুদের সেন্টিমেন্টে আঘাত করা হয়েছে। আমি ধিক্কার জানাই। ২০১১ সালের পর থেকে তারাপীঠ, তারকেশ্বর, কঙ্কালীতলা সহ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণে সব মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন বা অন্যান্য কাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন। অন্য কেউ এই দিকে নজর দেননি।’ রাজ্যের বিরোধী দল নেতার দিকে নিশানা করে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বলেন, ‘অনেকের ইচ্ছা জগন্নাথ দেবের(Jagannath Deb) পুজো দিয়ে তার মহা প্রসাদ পাওয়ার। যাতে বাংলার সব ঘরে সব মানুষ যাতে এই মহা সাদ পান। আমরা পর্যায়ক্রমে খোয়া জগন্নাথের চরণে সমর্পণ করে আমরা বিভিন্ন জেলায় এটা সরবরাহ করি। সেখান থেকে এই খোয়া দিয়ে প্রসাদ বানানো হচ্ছে জেলায় জেলায়। এটা ৭ – ৮ দিনের বেশি থাকে না। এই ভাবেই বিভিন্ন জেলায় যাবে। বাংলার প্রত্যেকের বাড়িতে এটি দেওয়া হবে। হিন্দু হোক বা মুসলমান সবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রধান সচিব শান্তনু বসু (Santanu Basu) জানান, ২৭ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে রথ যাত্রা। ৫ তারিখ উল্টোরথ। তার মধ্যেই রাজ্যের সকল জেলাগুলিতে একসাথেই পৌঁছে দেওয়া হবে এই মহাপ্রসাদ।’