Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

সিঙ্গুরের এই সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মাহাত্ম্য শুনলে চমকে যাবেন

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বাংলাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন কালীমন্দির, যেগুলির অধিকাংশই বিভিন্ন মাহাত্ম্যে ভরা। জানা যায়, হুগলির সিঙ্গুর অঞ্চলের পুরুষোত্তমপুরে অবস্থিত ডাকাত কালী মন্দির শুধু একটি প্রাচীন দেবালয় নয়, এটি ইতিহাস, জনশ্রুতি এবং আধ্যাত্মিক শক্তির এক বিশেষ সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। প্রায় পাঁচশো বছর পুরনো এই মন্দিরে পূজিতা হন দেবী সিদ্ধেশ্বরী, যাঁকে স্থানীয়ভাবে “ডাকাত কালী” নামে অভিহিত করা হয়। একসময় এই এলাকা ঘন জঙ্গল ছিল, আর এই জঙ্গলের মাঝেই আস্তানা গড়েছিল রঘু ডাকাত ও গগন ডাকাতের দল। তাঁরাই দেবী সিদ্ধেশ্বরীর পূজা করতেন।

মা সারদা ও ডাকাত কালী: এক অলৌকিক সাক্ষাৎ

এই মন্দির এবং দেবীর মাহাত্ম্য আরও জনপ্রিয়তা পায় মা সারদা দেবীর এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। জনশ্রুতি অনুসারে, একবার রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। সেই সময় মা সারদা জয়রামবাটি থেকে দক্ষিণেশ্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁর স্বামী শ্রী শ্রী ঠাকুরকে দেখতে। যাত্রাপথে সন্ধ্যার দিকে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন এবং এসে পড়েন সিঙ্গুর অঞ্চলের এক নির্জন স্থানে, যেটি স্থানীয়ভাবে “ডাকাতে মাঠ” নামে পরিচিত। নিঝুম অন্ধকারে মায়ের ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক হলেও তিনি ছিলেন প্রচণ্ড আত্মসংযমী। হঠাৎ করে সামনে সে পথ আটকান এক দীর্ঘকায় লাঠিওয়ালা ব্যক্তি — স্পষ্টতই এক ডাকাত। তৎক্ষণাৎ তিনি সেই ডাকাতটিকে বলেন, “বাবা, আমি পথ ভুলেছি। তোমার জামাই দক্ষিণেশ্বরে থাকেন। যদি তুমি আমায় পৌঁছে দাও, তিনি তোমায় অনেক আদর যত্ন করবেন।”

মায়ের কোমল ভাষা ও মমতাময় আবেদন শুনে ডাকাতের মন গলে যায়। সে নিজের স্ত্রীকে ডেকে আনে এবং দুজনে মিলে মা সারদাকে দক্ষিণেশ্বরে পৌঁছে দেন। বলা হয়, যখন ডাকাতরা মায়ের অলঙ্কার ছিনিয়ে নিতে উদ্যত হয়েছিল, তখন দেবী সিদ্ধেশ্বরী নিজেই মায়ের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হন এবং ডাকাতদের দর্শন দেন। এই অলৌকিক ঘটনায় আতঙ্কগ্রস্ত ও বিস্মিত ডাকাতদের চৈতন্য হয়।

আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও মানবিকতা

এই ঘটনার মধ্যে নিহিত আছে গভীর আধ্যাত্মিকতা ও মানবিক উপলব্ধি। মা সারদা এই ঘটনার পর বলেন, “ডাকাতি অসৎ কাজ, কিন্তু মানুষটি অসৎ নয়।” তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, কোনও মানুষই সার্বিকভাবে সৎ বা অসৎ হতে পারে না। মানুষ পরিস্থিতির শিকার হতে পারে, কিন্তু তার মধ্যে থাকে শুভবোধ, থাকে পরিবর্তনের সম্ভাবনা। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি বলতেন — “আমি সৎ-এর মা, অসৎ-এরও মা।” মা কখনও কাউকে ছুঁড়ে ফেলেননি। বরং তাঁর কাছে এসে বহু ‘অসৎ’ বলেই পরিচিত মানুষও আত্মশুদ্ধির পথ খুঁজে পেয়েছে।

মন্দির ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

বর্তমানে এই অঞ্চলে আর ডাকাত নেই। কোনও জঙ্গলও নেই। কিন্তু ডাকাত কালী মন্দির আজও তার পূর্ণ পবিত্রতা ও মাহাত্ম্য নিয়ে রয়েছে । প্রতিদিন বহু ভক্ত এখানে দর্শনে আসেন। বিশেষ করে কালীপূজা, অমাবস্যা এবং মাঘীপূর্ণিমার দিনে এখানে ভক্তদের ঢল নামে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, আজও তিনি তাঁর ভক্তদের বিপদে রক্ষা করেন।

মন্দিরের একটি বিশেষত্ব হল এখানকার পুরোহিতরা দেবীর পূজায় এক বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করেন যা অনেকটাই প্রাচীন রীতি অনুসারে হয়ে থাকে। অনেক স্থানীয় পরিবারের ইষ্টদেবী এই সিদ্ধেশ্বরী কালী। কেউ যদি মনের বাসনা নিয়ে এখানে মানত করে, ভক্তদের মতে তাঁর বাসনা পূরণ হয়।

মা সারদা: নারী শক্তির জীবন্ত প্রতিমা

শুধু ডাকাত কালী নয়, মা সারদাও ছিলেন নারী শক্তির প্রতীক। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁকে বলতেন ‘জ্যান্ত দুর্গা’, আর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, “ও সারদা, মহা বুদ্ধিমতী, সরস্বতীর অংশ, জ্ঞান দিতে এসেছে।” তিনি ছিলেন সৎ-অসৎ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের মা।

সিঙ্গুরের ডাকাত কালী মন্দির শুধুই একটি পবিত্র তীর্থস্থান নয়, এটি এক অদ্ভুত সময়, সমাজ ও আধ্যাত্মিকতার সংযোগস্থল। মা সারদার সেই অলৌকিক অভিজ্ঞতা, তাঁর মানবিক উপলব্ধি এবং দেবী সিদ্ধেশ্বরীর প্রকাশ—সব মিলিয়ে এই মন্দির এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মহিমার বাহক। এটি প্রমাণ করে যে, মানবিকতা ও ঈশ্বরচিন্তা যখন একসাথে চলে, তখন মানুষের জীবনেও ঘটে অলৌকিক রূপান্তর।

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00