নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শংসাপত্রহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগে দেশের দুই প্রথম সারির ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস)। সূত্রের খবর, ‘গত মার্চ মাসে দুই ই-কমার্স সংস্থার গুদামে অতর্কিতে হানা দিয়ে একাধিক পণ্যের নমুনা বাজেয়াপ্ত করেছিলেন বিসের আধিকারিকরা। নিয়ম ভেঙ্গে প্রত্যয়িত না হওয়া পণ্য বিক্রির অপরাধে দুই সংস্থার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রকের আওতাধীন সংস্থাটি’। অ-প্রত্যয়িত পণ্য বিক্রি করা নিয়ে অবশ্য অভিযুক্ত দুই সংস্থার তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
বিআইএসের এক আধিকারিক বৃহস্পতিবার (৫ জুন) জানিয়েছেন, ‘চলতি বছরের মার্চে শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্টের গুদামে অতর্কিতে হানা দেওয়া হয়। ওই অভিযানে চেন্নাইয়ে অ্যামাজন ফেসিলিটি কেন্দ্রে তল্লাশি অভিযানের সময় বাধ্যতামূলক বিআইএস চিহ্ন ছাড়াই ৩,০০০ টিরও বেশি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তার মধ্যে ছিল ইনসুলেটেড ফ্লাস্ক, খাবারের পাত্র, ধাতব জলের বোতল, সিলিং ফ্যান এবং খেলনা। বাজেয়াপ্ত জিনিসের বাজারদর ৩৬ লক্ষ টাকা। আর ফ্লিপকার্টের গুদাম থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় ২৮৬ প্যাকেট বেবি ডায়াপার (প্রতিটিতে ৪২টি করে পিস), ৩৬ বাক্স ক্যাসেরোল, ২৬টি স্টেনলেস স্টিলের জলের বোতল এবং ১০টি ইনসুলেটেড স্টিলের বোতল। কোনওটাতেই বিআইএসের শংসাপত্র ছিল না।’ যদিও ফ্লিপকার্ট থেকে কত টাকা মূল্যের পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তা জানানো হয়নি।
নিয়মানুযায়ী, কোন নথিভুক্ত সংস্থা বিশেষ করে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম বিআইএসের অ-প্রত্যয়িত বেশ কিছু পণ্য বিক্রি করতে পারে না। অথচ বহু সংস্থা বিআইএসের প্রত্যয়িত নয় এমন পণ্য অবলীলায় বিক্রি করে চলেছে। বিআইএসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘২০১৬ সালের বিআইএস আইনের অধীনে অভিযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে বিক্রিত অ-প্রত্যয়িত পণ্যের মূল্যের দশগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করার ক্ষমতা রয়েছে। তাছাড়া ত্রুটির জন্য সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষমতাও রয়েছে। ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’