মুক্তিযোদ্ধা-হিন্দু নিধনে ‘আল-বদর’ বাহিনীর আদলে নয়া সংগঠন গড়ল জামায়াত ইসলামী

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ‘আল-বদর’ ও ‘আল-শামস’ বাহিনী গড়ে পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর হয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও হিন্দুদের গণহত্যায় মেতে উঠেছিল জামায়াত ইসলামী। গোলাম আজম-মতিউর রহমান নিজামী-আলী আহসান মুজাহিদী-কাদের মোল্লা-এটিএম আজহারুল ইসলাম-শফিকুর রহমানরা নির্বিচারে চালিয়েছিলেন গণধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ। হিন্দু মহিলাদের ধরে ধর্ষণের জন্য উপহার দিতেন পাক সেনাদের। অনেক রক্ত ঝরিয়ে অবশ্য দেশ স্বাধীন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। স্বাধীনতার ৫৪ বছর বাদে বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তথা রাজাকার বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে ফের মুক্তিযোদ্ধা ও হিন্দু নিধনে ঝাঁপিয়েছে জামায়াত ইসলামী। ইতিমধ্যেই ‘আল-বদর’ –এর আদলে গঠন করা হয়েছে  ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’ নামে নয়া সন্ত্রাসী সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। একাত্তরে যেমন ‘আল-শামস’ বাহিনীর সদস্য ছিল ইসলামী ছাত্র শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা। এবারেও ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’ সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘রগকাটা শিবির’ হিসাবে পরিচিত ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডারদের।

গত কয়েকদিন ধরেই নখদাঁত বের করে হিন্দু ও মুক্তিযোদ্ধাদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’ নামাঙ্কিত সংগঠনের ক্যাডাররা। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, রাজশাহি, খুলনা, বরিশাল-সহ একাধিক জায়গায মুক্তিযোদ্ধাদের উপরে হামলা চালানো হয়েছে। ইউনূসের নির্দেশে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত কুখ্যাত রাজাকার এবং গণধর্ষক ও গণহত্যাকারী এটিএম আজহারুল ইসলামের সাজা মকুবের প্রতিবাদে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হওয়া মিছিলের উপরে হামলা চালানো হয়েছে। প্রকাশ্যেই ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’ মঞ্চের সদস্যরা শ্লোগান দিয়েছেন, ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’, ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান ভাই ভাই/মুক্তিযোদ্ধা-হিন্দুদের নিস্তার নাই’, ‘এক-একটা হিন্দু ধর ধরে ধরে জবাই কর’।

ইউনূস পুলিশ ও প্রশাসনের ইন্ধনে গতকাল বুধবারই জামায়াত ইসলামীর নতুন সন্ত্রাসী সংগঠন ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’-এর সদস্যরা চট্টগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে হিন্দু পড়ুয়াদের বেধড়ক মারধর করেছে। রেহাই পাননি ছাত্রীরা। এমনকি কসাই আজহারের মুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে যে ব্যানার লাগানো হয়েছিল, তা পুড়িয়ে ফেলা হয়। হিন্দু ছাত্রীদের মারধর করার পাশাপাশি শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো দুই ইসলামী সন্ত্রাসী হলেন আকাশ চৌধুরী ও ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’র প্রধান সমন্বয়কারী আবরার হাসান রিয়াদ। দুজনেই ছাত্রশিবিরের প্রথম সারির নেতা। নয়া সংগঠনের মাথায় বসানো হয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রাক্তন নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলামকে। সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন ইউনূস সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মতিউর রহমান আকনদ ও সেলিমউদ্দিনকে। রাজশাহীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে  মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও মুজাহিদ ফয়সাল। খুলনার দায়িত্ব পেয়েছেন ছাত্র শিবিরের মহাসচিব নুরুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন মিলন ও রাকিব হাসান।  বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন আকবর হোসেন এবং সাইয়্যেদ আহমেদ।

সূত্রের খবর, বাংলাদেশে কোন-কোন মুক্তিযোদ্ধাকে খতম করতে হবে, কোন হিন্দুদের নিশানা করতে হবে, তার নীল নকশা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন রাজাকার পরিবারের সন্তান আসিফ নজরুল। প্রতিবেদন লেখার সময়ে জানা গিয়েছে, ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’ নামে সংগঠনের সন্ত্রাসীরা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ভাই তথা জাতীয পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে।

‘শেখ হাসিনার মতো পরিণতি হবে’, এবার বিএনপিকে হুমকি জামায়াত মহাসচিবের

ফের নয়া ষড়যন্ত্র, খালেদা দেশ ছাড়তেই জামায়াতের শীর্ষ নেতার সঙ্গে ‘একান্ত’ বৈঠকে মোল্লা ইউনূস

ভেক দরদী! রংপুরের পরে এবার খুলনায় হিন্দু কমিটি গঠন জামায়াত ইসলামীর

হাসিনাকে উ‍ৎখাত নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস কোটা আন্দোলনের সমন্বয়কের

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

[hls_player autoplay="1" fullscreen="1" unmute="0"]