নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ছন্নছাড়া বোলিংয়ের পরে হতশ্রী ব্যাটিং। রবিবার (২৫ মে) রাতে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে জঘন্য পারফরম্যান্সের নজির রেখে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ১১০ রানে হেরে আইপিএল অভিযান শেষ করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ট্র্যাভিস হেড ও হেনরিখ ক্লাসেনদের তাণ্ডবে প্রথমে ব্যাট করে তিন উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান তুলেছিলেন প্যাট কামিন্সরা। জবাবে ১৮.৪ ওভারে ১৬৮ রানে গুটিয়ে গেলেন অজিঙ্ক রাহানেরা। এদিন হেরে ১৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পেয়ে আট নম্বরে থেকে আইপিএল অভিযান শেষ করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আর জিতে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে ষষ্ঠস্থানে উঠে এল সানরাইজার্স।
টসে জিতে এদিন প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। শুরু থেকেই তাণ্ডব শুরু করে দেন ট্র্যাভিস হেড। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করেন অভিষেক শর্মাও। কলকাতার বৈভব অরোরা-এনরিখ নোখিয়েদের নিয়ে ছেলেখেলা শুরু করেন দুজনে। নির্দয় মার খেয়ে লাইন, লেংথ গুলিয়ে ফেলে ছন্নছাড়া বোলিং করতে শুরু করেন কেকেআরের বোলাররা। মাঠে চার ও ছয়ের বন্যা বয়ে যায়। বৈভব, এনরিখ এবং হর্ষিত মিলে প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ৭৯ রান দেন। সপ্তম ওভারে বল করতে এসে অভিষককে (৩২) ফেরান সুনীল নারাইন। যদিও ততক্ষণে বড় রান তোলার ভিত গড়ে ফেলেছে হায়দরাবাদ। ৭.২ ওভারে ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় কামিন্সের দল। ২৬ বলেই ব্যক্তিগত অর্ধশতরান তুলে নেন হেড। উল্টোপ্রান্তে থাকা ক্লাসেনও হাত খুলতে মারতে শুরু করেন। ৫৪ রানে হেডের ক্যাচ ফেলেন কুইন্টন ডি’কক।
কলকাতার বোলারদের তুলোধনা করে মাত্র ১৭ বলেই অর্ধশতরান তুলে নেন ক্লাসেন। ১৩তম ওভারে বল করতে এসে হেডের (৪০ বলে ৭৬) তাণ্ডব থামান নারাইন। যদিও তাতে কোনও লাভ হয়নি। তাণ্ডব নয়, কার্যত ধ্বংসলীলা চালাতে থাকেন ক্লাসেন। ক্রিজের অন্যপ্রান্তে থাকা ঈশান কিশনও যোগ্য সঙ্গত করেন। যদিও হাতে উইকেট থাকলেও খানিকটা রক্ষণাত্মক খেলতে থাকেন তিনি। ১৭.৪ ওভারেই ২৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় হায়দরাবাদ। মনে হচ্ছিল আইপিএলের ইতিহাসে দলগতভাবে সর্বাধিক রানের রেকর্ড হয়ত ভেঙে যাবে। ১৯৩ম ওভার ঈশানকে (২৯) সাজঘরে ফেরান বৈভব। ৩৭ বলে ছয়টি চার ও নয়টি ছক্কার সাহায্যে শতরান তুলে নেন ক্লাসেন। শেষ পর্যন্ত ২৭৮ রানে থামে হায়দরাবাদের ইনিংস। ক্লাসেন ১০৫ রানে ও অনিকেত বর্মা ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। কলকাতার সফলতম বোলার নারাইন চার ওভারে ৪২ রান খরচ করে দুই উইকেট নিয়েছেন। এনরিখ নোখিয়ে চার ওভারে ৬০, আন্দ্রে রাসেল ২ ওভারে ৩৪, বরুণ চক্রবর্তী ৩ ওভারে ৫৪ রান দিয়েছেন।
জয়ের জন্য ২৭৯ রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলার চেষ্টা চালান সুনীল নারাইন। যদিও তিনি বেশিক্ষণ টিঁকতে পারেননি। চতুর্থ ওভারে জয়দেব উনাদকটের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। নারাইন করেন ১৬ বলে ৩১ রান। কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেও শুরু থেকে হাত খুলে খেলার চেষ্টা চালান। উনাদকটের শিকার হয়ে তাঁকেও ফিরতে হয়। আউটের আগে ৮ বলে ১৫ করেন রাহানে। আর তার পরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে কেকেআরের ব্যাটিং অর্ডার। নিয়মিত উইকেটের পতন ঘটতে থাকে। কুইন্টন ডি কক (৯), রিঙ্কু সিংহ (৯), আন্দ্রে রাসেল (০) দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
চার নম্বরে নামা অঙ্গকৃশ রঘুবংশী দলের বিপদে পরিত্রাতা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। বরং তাঁর খেলা দেখে মনে হচ্ছিল মাঠে শরীর থাকলেও, মন পড়ে রয়েছে অন্য কোথাও। ১৮ বলে ১৪ রান করে এসান মালিঙ্গার বলে ফিরে যান অঙ্গকৃশ। সপ্তম উইকেটে জুটি বেঁধে মণীশ ও রমনদীপ দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। ১৪তম ওভারে রমনদীপকে (১৩) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন হর্ষ দুবে। এর পরে অষ্টম উইকেটে মণীশ এবং হর্ষিত রানা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজনে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে হায়দরাবাদের বোলারদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের পথ ধরেন। ১৮তম ওভারে কলকাতাকে জোড়া ধাক্কা দেন উনাদকট। তৃতীয় বলে মণীশকে (৩৭) ফিরিয়ে ৫২ রানের জুটি ভাঙেন। পরের বলে শূন্য রানে ফেরেন বৈভব অরোরা। ১৯তম ওভারে হর্ষিত রানাকে (৩৪) ফিরিয়ে কলকাতার কফিনে শেষ পেঁরেক পোতেন এসান মালিঙ্গা। হায়দরাবাদের হয়ে জয়দেব উনাদকট ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পকেটস্থ করেছেন ব্যাটিংয়ে তাণ্ডবলীলা চালানো হেনরিখ ক্লাসেন।