Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

তিন বছরের অনাথ শিশুকে বুকে তুলে হয়েছিলেন মা, নিয়তির ফেরে কন্যার হাতেই হল মৃত্যু

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, ওড়িশা: তিন বছর বয়সী এক শিশুকে রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বুকে তুলে নিয়েছিলেন এক মহিলা ও তাঁর স্বামী। নিজ সন্তান হিসাবে দত্তক নিয়ে বড় করছিলেন তিনি। বড় হয়ে সেই মেয়েই হত্যা করল মাকে। শিহরণ জাগানো ঘটনাটি ওড়িশার গজপতি জেলার পারালখেমুন্ডি শহরের।

পুলিশ সূত্রে খবর, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ১৩ বছর বয়সী মেয়ে তার দুই পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে মিলে ২৯শে এপ্রিল ভাড়া বাড়িতে ৫৪ বছর বয়সী রাজলক্ষ্মী করকে হত্যা করে। জানা গিয়েছে রাজলক্ষ্মী মেয়েকে ছেলে দুটির সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে নিষেধ করেছিলেন। সেই জন্যই এই হত্যা।

রাজলক্ষ্মীকে প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তারপর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়। যাতে কেউ সন্দেহ না করে সেই জন্য অভিযুক্তরা মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিশোরী জানায় তার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা রাজলক্ষ্মী করকে সেখানেই মৃত ঘোষণা করেন। ভুবনেশ্বরে আত্মীয়দের উপস্থিতিতে রাজলক্ষ্মীর দেহ দাহ করা হয়। তাঁদেরও জানানো হয় যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন মহিলা।

এরপর ঘটনা ধামা চাপা পড়ে যায়। কেটে গিয়েছিল দু’সপ্তাহেরও বেশি সময়। আচমকা রাজলক্ষ্মীর ভাই শিবপ্রসাদ মিশ্র ভুবনেশ্বরে ফেলে আসা কিশোরীর মোবাইল ফোন খুঁজে পান। সেটি খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে ইনস্টাগ্রামে দুই যুবকের সঙ্গে হওয়া ভাগ্নির কথোপকথন শিবপ্রসাদের সামনে চলে আসে। সেখানে খুনের পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়াছিল। রাজলক্ষ্মীকে হত্যা, তাঁর সোনার গয়না এবং নগদ টাকা কীভাবে নেওয়া হবে সেই বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল চ্যাটে।

এরপরই ১৪ মে পারলাখেমুন্ডি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে একজন মৃতার দত্তকপুত্রী, দ্বিতীয় জন পেশায় এক মন্দিরের পুরোহিত গণেশ রথ (২১) এবং তার বন্ধু দীনেশ সাহু (২০)।

মেয়েটিকে দত্তক নেওয়ার এক বছর পর রাজলক্ষ্মীর স্বামী মারা যান। তখন থেকে একা হাতেই মেয়েকে লালন-পালন করছিলেন মা। কয়েক বছর আগে, মেয়েকে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য পারালখেমুন্ডিতে চলে আসেন তিনি। সেখানে বাড়ি ভাড়া করে থাকতেন দুজনে।

এখানে এসেই কিশোরীর সঙ্গে রথ এবং সাহুর সম্পর্ক তৈরি হয়। রাজলক্ষ্মী এই সম্পর্কের আপত্তি জানিয়েছিলেন। পুলিশের মতে, রথ মেয়েটিকে খুন করার জন্য প্ররোচিত করেছিল। ওই যুবক কিশোরীকে বোঝাতে শুরু করে রাজলক্ষ্মী এই পৃথিবীতে না থাকলে তাদের সম্পর্কে আর কোনও বাধা থাকবে না। পাশাপাশি সম্পত্তিতেও অধিকার থাকবে।

২৯শে এপ্রিল সন্ধ্যায় কিশোরী নিজে হাতে মাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। রাজলক্ষ্মী অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর, সে রথ এবং সাহুকে ডাকে। এরপর তিনজন মিলে বালিশ চাপা দিয়ে রাজলক্ষ্মীকে শ্বাসরোধ করে। পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মায়ের। রাজলক্ষ্মীর আগে হৃদরোগ ছিল, তাই কেউই কোনও সন্দেহ করেনি।

পুলিশের মতে, মেয়েটি এর আগে রাজলক্ষ্মীর কিছু সোনার গয়না চুরি করে প্রায় ২.৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সেগুলো বন্ধক রেখেছিল। অভিযুক্তের কাছ থেকে পুলিশ প্রায় ৩০ গ্রাম সোনার গয়না, অপরাধে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন এবং দুটি বালিশ উদ্ধার করেছে।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00