Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

দিল্লিতে নামল মুম্বই হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানাকে বহনকারী বিমান

অবশেষে ২৬/১১ মুম্বইয়ে সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড তাহাউর রানাকে নিয়ে দিল্লির পালামো বিমানবন্দরে সফলভা্বে অবতরণ করল জাতীয় তদন্ত শাখার বিশেষ বিমান। 

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অবশেষে ২৬/১১ মুম্বইয়ে সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড তাহাউর রানাকে নিয়ে দিল্লির পালামো বিমানবন্দরে সফলভা্বে অবতরণ করল জাতীয় তদন্ত শাখার বিশেষ বিমান।  মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট ভারতের কাছে তাহাউর রানাকে হস্তান্তর করার পর থেকেই উত্তেজিত দেশবাসী। গতকাল সন্ধ্যায় তাহাউর রানাকে নিয়ে ভারতে নামার কথা ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুর ২.৪১ মিনিট নাগাদ তাহাউর রানাকে নিয়ে দিল্লি পালামো বিমানবন্দরে অবতরণ করল বিশেষ বিমান। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে তাহাউর রানাকে গ্রেফতার করবে জাতীয় তদন্ত শাখা (NIA)।  প্রথমে তাকে NIA সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।  এরপর তাঁকে দিল্লির তিহার কারাগারে রাখা হবে। যেখানে ইতিমধ্যেই উচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করা হবে।

সেখানেই NIA টিম তাহাউর রানাকে নিজেদের হেফাজতে রাখার আর্জি জানাবে। যদিও তাহাউর রানার দিল্লি বিমানবন্দরে আসার আগেই দিল্লি বিমানবন্দরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। যেখানে আগে থেকেই মোতায়েন করা ছিল পালামো টেকনিক্যাল টিমকে। তার মধ্যে চারটি ইনোভা, দুটি সাফারি, জ্যামার, এবং একটি বোমা নিষ্ক্রিয় দলও রয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে তাহাউরকে NIA সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইতমধ্যেই NIA অফিসের ভেতরে এবং আশেপাশের উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে যে, নিরাপত্তার কারণে তাহাউরকে পাতিয়ালা হাউস কোর্টে ভার্চুয়ালি NIA বিচারকের সামনে হাজির করা হবে। এবং তার আগে রানার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হবে। এরপর রানকে দিল্লির তিহার কারাগারে উচ্চ নিরাপত্তা ওয়ার্ডে রাখা হবে। জেল প্রশাসক ব্যবস্থা বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার আইন জীবি নরেন্দ্র মানকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত করেছে। এই মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে এই মামলার দায়িত্বে রাখা হয়েছে।

এদিকে ভারতে তাহাউরের প্রত্যার্পণের বিষয়ে পাকিস্তানও প্রথম মুখ খুলেছে। তাহাউরের থেকে নিজের দেশকে সরিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, গত দুই দশক ধরে তাহাউর পাকিস্তানের নথি নবায়ণ করেনি। তাই পাকিস্তানের আর নাগরিক নন তিনি, তিনি এখন কানাডার নাগরিক। উল্লেখ্য, তাহাউর রানা পাকিস্তানি সেনাবাহিনী/ISI এর একজন আভ্যন্তরীণ সদস্য ছিলেন। যিনি ২৬/১১ মুম্বইয়ের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানের সরাসরি ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও তাঁর জন্মও হয়েছিল পাকিস্তানে। তবুও পাকিস্তান এখন তাহাউরের সমস্ত দায় থেকে নিজেকে মুক্ত করল।

সূত্রের খবর, প্রত্যর্পণের সময় মার্কিন আদালতে লিখিতভাবে জমা দেওয়া মামলার ভিত্তিতেই রানার বিচার করবে ভারত। যদিও রানার বিরুদ্ধে ভারতে অনেক মামলা রয়েছে, তবুও তার বিরুদ্ধে কেবল সেই মামলাই বিচার করা হবে যা প্রত্যর্পণ আদালতে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। ভারত সরকার ১৯৯৭ সালের ভারত-আমেরিকা প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে কিছু কঠোর নিয়ম ও শর্তাবলী দ্বারা আবদ্ধ। এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে আইনি সহযোগিতার প্রতীক। তাহাউর রানাকে প্রত্যর্পণের শর্তগুলি ছিল, তাহাউর রানাকে ভারতে আটক, বিচার বা শাস্তি দেওয়া যেতে পারে শুধুমাত্র সেই অপরাধের জন্য যার জন্য তাকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ভারত সরকার যদি অন্য কোনও অপরাধের জন্য তার বিচার করতে চায়, তবে তা সম্ভব হবে না। চুক্তি অনুসারে, প্রত্যর্পণের আগে সংঘটিত কোনও অপরাধের জন্য রানাকে তৃতীয় কোনও দেশে পাঠানো যাবে না। এই শর্ত ভারতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে বাধ্য করে। প্রত্যর্পণের পর, রানা ভারতে ন্যায্য বিচারের অধিকার পাবেন। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং ভারতীয় আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের একটি অপরিহার্য অংশ। রানার বিরুদ্ধে কোনও বৈষম্য করা হবে না এবং তার আইনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকবে।

উল্লেখ্য, ২৬/১১ মুম্বইয়ের সন্ত্রাসী হামলায় মোট ১৬৬ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। জানা যায়, এই হামলার আগে মুলহোতা তাহাউর রানার সঙ্গে পাকিস্তানি আমেরিকান সন্ত্রাসী ডেভিড কোলম্যান হেডলির ক্রমাগত যোগাযোগ রেখেছিলেন। আটবার ভারত সফরের সময় তিনি তাহাউর রানাকে ২৩১ বার ফোন করেছিলেন। হেডলি ছিলেন ২৬/১১-এর অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী। আদালতের রেকর্ড, এনআইএ রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, রানা হেডলিকে ভিসা পাওয়া থেকে শুরু করে ভারতে তার পরিচয় গোপন করা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সাহায্য করেছিলেন। রানা হেডলির ভারতে থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং সন্ত্রাসী হামলার স্থান চিহ্নিত করতেও তাকে সাহায্য করেছিলেন। এরপরেই সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গা ঢাকা দেয়। ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার অভিযুক্ত সেই তাহাউর রানাকে ভারতে আনা হচ্ছে। তিনি পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। আর্মি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেন। এবং ১০ বছর ধরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ডাক্তার হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু তাহাউর রানা চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাহাউর রানা বর্তমানে কানাডার নাগরিক। কিন্তু সম্প্রতি তিনি শিকাগোর বাসিন্দা ছিলেন, যেখানে তার একটি ব্যবসা রয়েছে। আদালতের নথি অনুসারে, তিনি কানাডা, পাকিস্তান, জার্মানি এবং ইংল্যান্ডে ভ্রমণ করেছেন। প্রায় ৭টি ভাষায় তিনি কথা বলতে পারেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তাহাউর রানা পাকিস্তানে ডেভিড হেডলি এবং অন্যদের সঙ্গে হামলার ষড়যন্ত্র করেন। এই সময়ে, তাহাবউর রানা সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং হরকাত উল জিহাদ-ই ইসলামীকে সাহায্য করেছিলেন এবং মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তা বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিলেন। এই মামলায় সন্ত্রাসী হেডলি সরকারি সাক্ষী হয়েছেন।

 

‘হ্যাঁ, আমি পাকসেনার বিশ্বস্ত এজেন্ট ছিলাম’, ২৬/১১ হামলার মাস্টারমাইন্ড তাহাউর রানার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

তাহাউর রানার বিরুদ্ধে এনআইএ’র হয়ে আদালতে লড়ছেন এই দুঁদে আইনজীবী

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00