নিজস্ব প্রতিনিধি: ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনিতে (মিম) যোগদান করার জন্য আহ্বান জানালেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। এই মুহূর্তে দলের অত্যন্তরে খুব একটা ভাল অবস্থা নয় হুমায়ুনের। সেখানে এই ডাক তাঁর জন্য সোনায় সোহাগা হলেও হতে পারে। জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাস থেকে কয়েক দফায় হুমায়ুন কবীরের কাছে ফোন এসেছে হায়দ্রাবাদ থেকে। বারবার তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মিমে যোগদানের জন্য।
গত মার্চ মাসে বিধানসভার বাইরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করতে গিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন হুমায়ুন। দলের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের জাতিসত্তাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন তিনি। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি জানিয়েছিলেন যে হুমায়ুন কবীর সবার আগে একজন মুসলিম, তারপর তৃণমূল বিধায়ক। এরপর তৃণমূলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি শো কজের চিঠি ধরায় তাঁকে।
এই ঘটনার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওয়াইসির দল। হুমায়ুনকে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজের প্রতিনিধি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সঙ্গে আরও বলা হয়, বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক যদি মিমে যোগ দেন তাহলে মিমের রাজ্য স্তরের নেতৃত্ব দেওয়া হবে তাঁকে।
আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। তাই ২০২৬ পড়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনের ক্ষেত্রে গতি আনতে চাইছে ওয়াইসির নেতৃত্বে মিম। ইতিমধ্যেই তারা শুরু করেছে সদস্য সংগ্রহ অভিযান। আর তারপরেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে হুমায়ূনকে।
মিমের প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। হুমায়ুন বলেন, ‘‘আমার পক্ষে তৃণমূল ছাড়া সম্ভব নয়। হতে পারে দলের সঙ্গে আমার কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, তবে সেই মতপার্থক্য এমন জায়গায় পৌঁছায়নি যে, তৃণমূল ছেড়ে অন্য কোনও দলে যোগ দিতে হবে।’’
তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘মিমে যোগদান করলে হয়তো মুর্শিদাবাদে আমি নিজের আসন ছাড়াও আরও কয়েকটি আসন জেতাতে পারব। কিন্তু এর ফলে রাজ্যের অন্য প্রান্তে বা মুর্শিদাবাদের আরও কিছু আসনে সংখ্যালঘু ভোট কেটে বিজেপিকে ক্ষমতায় আসার রাস্তা করে দেওয়া হবে। সেটা আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। কারণ, বিজেপি আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ, সবার আগে তাদের রুখতে হবে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার পক্ষে মিম কেন, অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগদান সম্ভব নয়।’’
একসময় প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন হুমায়ুন কবীর। ২০১১ সালে রেজিনগর বিধানসভা থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ীও হন। ২০১৩ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করে প্রতিমন্ত্রীর পদ পান। উপনির্বাচনে পরাজিত হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করার জন্য তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। শেষে ফিরে যান কংগ্রেসে। ২০১৮ সালে দিল্লিতে গিয়ে যোগ দেন বিজেপিতে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে ভোটে লড়াই করে তৃতীয় হন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে ফিরে ভরতপুরে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন।