নিজস্ব প্রতিনিধি: বৃন্দাবনের মন্দিরের টাকা নাকি গিয়েছে ব্যাঙ্ককর্মীর পকেটে। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও উঠেছে এমনই অভিযোগ। এক ব্যাঙ্ক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে প্রণামী বাক্সে জমা পড়া টাকা গুনতে গুনতে হাতিয়ে নেওয়ার। শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশি গ্রেফতারের পর ওই ব্যাঙ্ক কর্মীর কাছ থেকে নগদ ন’লক্ষ টাকারও বেশি উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর।
বৃন্দাবন শহরের ঠাকুর বাঁকে বিহারি মহারাজ মন্দিরের টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এই মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত। বাঁকে বিহারি মন্দিরের টাকা গুণতেন অভিনব সাক্সেনা। তিনি মথুরার ড্যাম্পিয়ার নগরে নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের শাখায় কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, টাকা গোনার সময়ই চুরি করেন তিনি!
পুলিশ সূত্রে খবর, গত তিন দিন ধরে টাকা সরাচ্ছিলেন অভিনব। বুঝতে পেরে তাঁকে পাকড়াও করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পুলিশি জেরায় চুরির কথা স্বীকারও করেছেন তিনি।খবর প্রকাশ্যে আসতেই অভিনবকে বরখাস্ত করেছেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সাল থেকে ওই ব্যাঙ্কের বৃন্দাবন শাখায় কাজ করছেন অভিনব কুমার। চুরির বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় মন্দির কমিটির এক জন সদস্য থানায় তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এফআইআর অনুসারে, মন্দির চত্বরে রাখা ১৬টি ‘দানপাত্রে’ ভক্তেরা প্রণামী দেন। ওই বাক্সগুলিতে জমা হওয়া টাকা প্রতি মাসে এক বার বা কখনও দু’বার গুনে মন্দির ট্রাস্টের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। বৃন্দাবনের বিদ্যাপীঠ ক্রসিংয়ের কানাড়া ব্যাঙ্কের শাখায় চাকুরিরত অভিনব এবং অন্য এক কর্মী এসেছিলেন টাকা গোনার জন্য জন্য। কিছু যে গোলমাল হচ্ছে তা বুঝতে পারছিলেন কর্তৃপক্ষ। শনিবার সন্ধ্যায় বাঁকে বিহারি মন্দির ট্রাস্টের একজন কর্মী সিসিটিভি ফুটেজ দেখার সময় টাকা চুরির বিষয়টি সামনে আসে।
এরপর মন্দির থেকে যাওয়া হয় অভিনব’র কাছে। তিনি অবশ্য প্রথমে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে চাননি।পরে তাঁর ব্যাগ এবং তাকে তল্লাশি করে এক লক্ষ টাকার বেশি পাওয়া যায়। খবর দেওয়া পুলিশে। পুলিশ এসে বাকি টাকা উদ্ধার করে।