নিজস্ব প্রতিনিধি,সন্দেশখালি: তৃণমূলের পঞ্চায়েত মহিলা প্রধানের শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ দলেরই পঞ্চায়েত মেম্বারদের বিরুদ্ধে।আতঙ্কে প্রধান ন্যাজাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।বসিরহাট মহাকুমার সন্দেশখালি এক নম্বর ব্লকের সেহারা রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান দিপালী দাস(Pradhan Dipali Das) পঞ্চায়েতের বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য পঞ্চায়েতে মিটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল প্রধানের ঘরে। সেই মিটিং চলাকালীন হঠাৎই পঞ্চায়েতের দুই সদস্য সাজিদুল ইসলাম গাজী ও গফফার সর্দার তারা প্রধানের একাধিক দুর্নীতির কথা সামনে এনে মিটিং ভুণ্ডল করতে চায় বলে অভিযোগ । তারই প্রতিবাদ করতেই প্রধানের উপর হামলা চালিয়ে মারধোর করে জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং দরকারী কাগজপত্র ছিড়ে টুকরো টুকরো করে দিয়ে চেয়ার ,টেবিল, পাখা ভাঙচুর করে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পঞ্চায়েত প্রধান সহ বাকি সদস্যরা। তারা চাইছেন অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করা হোক। এই ঘটনার পর সেহারা রাধানগর এলাকায় ন্যাজাট থানার(Nejjat P.S.) আউট পোস্টে পঞ্চায়েতের দুই সদস্যর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান প্রধান দিপালী দাস।
সেই অভিযোগ পাওয়ার পরেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তার কারণ তারা সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর অনুগামী বলে পরিচিত। এরপর মঙ্গলবার গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে দোষীদের গ্রেফতার ও বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের দাবি সুকুমার মাহাতো(Sukumar Mahato) দলের বিধায়ক হয়ে দলেরই মহিলা প্রধানের উপরে হামলা চালিয়েছে। যা একেবারেই নিন্দনীয় ।একজন পঞ্চায়েত মহিলা প্রধানের যেভাবে গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হল তাতে করে আতঙ্কে রয়েছে ।গোটা গ্রাম অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনায় সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার (MLA Sandeshkhali)মাহাতো পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, বিধায়ক যদি দোষী হবে তাহলে কেন বিধায়কের নামে থানায় অভিযোগ করা হল না? যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল প্রধানের দুর্নীতি নিয়ে। তাদের উপরেও হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়েছে। প্রধান দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। খোদ দলের বিধায়ক দলের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে। তাহলে কি সন্দেশখালির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও একবার প্রকাশ্যে উঠে এলো? না এর পেছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে। এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে।