নিজস্ব প্রতিনিধি,বনগাঁ: নাবালিকা শ্যালিকাকে ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার জামাইবাবু ।চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ থানার এলাকায় ।পুলিশ জানিয়েছে ধৃত জামাইয়ের নাম শুভ দেবনাথ ।বাড়ি পেট্রাপোল থানার(Petropol P.S.) ছয়ঘড়িয়া এলাকায় ।বুধবার সকালে নাবালিকার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ।ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে বুধবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে(Banga Court) পাঠালে বিচারক তার তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রেম প্রণয়ের মাধ্যমে শুভ দেবনাথ কয়েক বছর আগে বনগাঁয় বিয়ে করে। বাড়িতে তার শাশুড়ি থাকতেন না।
তিনি পুনেতে থাকেন। বাড়িতে শ্বশুর বাড়ি অন্যান্য লোকজনের সঙ্গে শুভ দেবনাথের স্ত্রীর ১৭ বছরের বোন থাকে। সম্প্রতি সে তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ঘুরতে যায়। সেখানে গিয়ে থাকার সময় একদিন স্ত্রী ও শ্যালিকাকে নিয়ে মদ্য পানের আসর বসায়। নিজের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে ঠান্ডা পানিও এনে দেয় শুভ। সেই ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়ার ওষুধ মিশিয়ে দেয়। নিজে মদ্যপান করতে থাকে। এদিকে ওই ঠান্ডা পানীয় খেয়ে বেঁহুশ হয়ে পড়ে নাবালিকা শ্যালিকা। শুভর স্ত্রী অসুস্থ বোধ করায় উঠে বাথরুমে যান। সেই সময় জামাইবাবু শুভ বাইরে থেকে নিজের স্ত্রীকে বাথরুমের ভেতর আটকে দেন। এরপর ফিরে এসে বিছানায় অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকা ১৭ বছরের নাবালিকা শ্যালিকার ভরা যৌবন দেখে নিজেকে সামলাতে পারে না। ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ওপর। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাকে নগ্ন করে ধর্ষণ করে। এদিকে জামাইবাবুর এই পাশবিক অত্যাচারে শ্যালিকার হুশ ফিরে আসে।
সে তখন চিৎকার করে প্রতিবাদ করতে গেলে, জামাইবাবু হুমকি দেয় সে তাকে ও তার দিদিকে খুন করবে। ভয়ে নাবালিকা শ্যালিকা চুপ করে থাকে। এদিকে মঙ্গলবার পুনে থেকে বাড়ি ফিরে আসেন ওই নাবালিকা শ্যালিকার মা। মেয়ে তখন কান্নায় ভেঙে পড়ে সব কথা খুলে জানায় তার মাকে। গুণধর জামাইয়ের এই কুকীর্তির কথা শুনে শাশুড়ি বুধবার সকালে বনগাঁ থানায়(Banga P.S.) গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরেই জামাইবাবুকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে পুলিশ। একই সঙ্গে আদালতের অনুমতি নিয়ে নাবালিকা শ্যালিকাকে মেডিকেল টেস্ট(Medical Test) করানোর প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে নাবালিকা শ্যালিকাকে আদালতে গোপন জবানবন্দী করানো হবে। পস্কো ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।