নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: দিল্লির বুরারি কাণ্ডের ছায়া এবার উত্তরপ্রদেশের মেরঠে। বাড়ির বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হল একই পরিবারের তিন শিশু সহ ৫ জনের মৃতদেহ। প্রত্যেকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ফলে খুন নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে পুলিশও। পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে যেমন নমুনা সংগ্রহ করেছেন, তেমনই ডগ স্কোয়াডও দিয়ে গোটা বাড়ি তন্নতন্ন করে তল্লাশি করা হচ্ছে। একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর খবরে স্তম্ভিত এলাকার বাসিন্দারা।
মেরঠের স্পেশাল পুলিশ সুপার বিপিন নাডা জানিয়েছেন, লিসাড়ি গেট এলাকার সোহেল গার্ডেনে স্ত্রী আসমা ও তিন কন্যা সন্তান আফসা (৮), আজিজা (৪) ও আদিবাকে (১) নিয়ে থাকতেন পেশায় রাজমিস্ত্রি মইন। গত বুধবার থেকেই পরিবারের কারও কোনও সাড়াশব্দ পাননি পড়শিরা। বাড়ির গেট বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। ২৪ ঘন্টার বেশি সময় ধরে সাড়া শব্দ না থাকায় পড়শিদের একাংশের সন্দেহ হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানান তারা। খবর পেয়েই মইনের বাড়িতে যায় পুলিশ। মূল গেটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুলিশ আধিকারিকদের। ঘরের মধ্যে ঢুকে যা দেখেন তারা, তা কল্পনাও করতে পারেননি। মেঝেতে পড়ে রয়েছে মইন ও তার স্ত্রী আসমার নিথর দেহ। তিন সন্তানের খোঁজে তল্লাশি চালাতে গিয়ে হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার উপক্রম হয় খাকি উর্দিধারীদের। খাটের বক্সের মধ্যে একটি চাদরের মধ্যে জড়ানো অবস্থায় মেলে এক বছর বয়সী আদিবার নিথর দেহ। বেড বক্সের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় আফসা ও আদিবার দেহ।
মেরঠের স্পেশাল পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, যে পাঁচ দেহ উদ্ধার হয়েছে তার প্রত্যেকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া যেভাবে তিন শিশু সন্তানের দেহ খাটের বক্সের ভিতরে পাওয়া গিয়েছে তাতে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, পাঁচ জনকেই খুন করা হয়েছে। ঘটনার পিছনে বড়সড় কোনও চক্রান্ত রয়েছে। ময়নাতদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে পাঁচ জনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। ডগ স্কোয়াডকেও আসরে নামানো হয়েছে।