নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দেওরের সঙ্গে পরকীয়া, পথের কাঁটা ভাসুরের নাবালক ছেলে, পথের কাঁটা দূর করতে এবার পরিকল্পনা করে ভাসুরের নাবালক ছেলেকে খুন করল মহিলা। সম্প্রতি এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, বিহার মুজাফফরপুরে। জানা গিয়েছে, রাগিনী নামে ওই মহিলা তাঁর ভাসুরের ১২ বছরের নাবালক ছেলে বিক্রমকে গলা কেটে খুন করেছে। চলুন ঘটনাটা এবার খোলসা করে বলা যাক!
চারবছর আগে থেকেই অবিবাহিত দেওরের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে লিপ্ত রাগিনী নামক মহিলাটি। যেটি জানতে পেরে গিয়েছিলেন রাগিনী শ্বশুর এবং তাঁর স্বামী। এরপর রাগিনীর স্বামী তাঁকে অনেকবার বাধা দিয়ে ছিলেন, কিন্তু তিনি শোনেননি। এমনকী রাগিনীর ভাসুর বৌদির সঙ্গে প্রেম নিয়ে তাঁর ছোট ভাইকে অনেকবার তিরস্কার করেছেন। এবং তিনি তাঁকে শেষমেশ দিল্লিতে পাঠিয়ে দেন। এবং বলেছিলেন, যতদিন তাঁর বিয়ে ঠিক না হচ্ছে, সে যেন বাড়িতে ফিরে না আসে। বিষয়টি খুবই রাগান্বিত করেছিল রাগিনীকে। এরপর থেকেই সে বিক্রমের বাবা তথা তাঁর ভাসুরের উপর প্রতিশোধ তোলার জন্যে ছক কষতে থাকেন। এমন সময়ে বিক্রমের বাবার সঙ্গে তাঁদের এলাকার এক জমিদারের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিবাদ বাধে।
যাতে উভয় পরিবারই ক্ষুব্ধ হয়ে যান। এর সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বিক্রমের বাবার শত্রুর সঙ্গে হাত মেলান বিক্রমের কাকিমা রাগিনী দেবী। এবং তাঁরা পরিকল্পনা করে বিক্রমের শ্বাসরোধ করে গলা কেটে খুন করেন। ঘটনার দিন, রাগিনী প্রথমে বিক্রমকে ঘুড়ি কেনার অজুহাতে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যান। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়েই রাগিনী তাঁর চাদরের মধ্যে লুকিয়ে সবজি কাটার ছুরি নিয়ে নেন। এরপর বিক্রমের বাবার শত্রু বিদ্যাপতি, তার মা ও রাগিনী দেবী মিলে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। বিদ্যাপতির মা পুনিতা দেবী প্রথমে ছুরি দিয়ে বিক্রমের গলা কেটে ফেলেন।
এরপর সে ছটফট করতে শুরু করলে রাগিনী তাঁর পা ও হাত চেপে ধরেন। এবং শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয় ১২ বছর বয়সী বিক্রমের। ঘটনার পর, রাগিনী বাড়ি চলে যান, যাতে কেউ সন্দেহ না করতে পারে। এবং ভাসুরের ছেলের মৃত্যুর জন্যে কান্নাকাটি জুড়ে দেন। এরপর জমি সংক্রান্ত বিরোধের কথা জানতে পেরে বিদ্যাপতি ও তার মা পুনিতাকে গ্রেফতার করে আওরাই থানার পুলিশ। এরপর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রাগিনীর তাঁদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ঘটনা জানতে পারেন। এরপর পুলিশ রাগিনীকে গ্রেফতার করে এবং বিক্রমকে খুনের জন্যে ব্যবহৃত ফাসুলও উদ্ধার করা হয়।