নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দুর্গাপুজো হোক বা কালীপুজো, মদ বিক্রি সব থেকে বেশি থাকে এই সময়েই। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বড়দিন এবং নিউ ইয়ার্স। মদ বিক্রিতে সমান সমান টক্কর দিয়ে উঠে এসেছে এই দুই মরসুম।
আবগরি দফতর সূত্রে খবর, দুর্গাপুজোর শুধু নবমী ও দশমীর দিনে মদ বিক্রি হয়েছে চার কোটি করে মোট আট কোটি টাকা। অন্য দিকে, কালীপুজো ও বিসর্জনের দিন মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে ১৫ কোটি টাকার মদ। তুলনায় ইয়ার এন্ডিং কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ক্রমশ তা বাঙালির সেরা উৎসবের ধরাছোঁয়ার মধ্যে চলে আসছে। বড়দিন, ৩১ ডিসেম্বর ও নতুন বছরের পয়লা জানুয়ারি, এই তিন দিনে মদ বিক্রিতে পূর্ব বর্ধমান অল টাইম রেকর্ড করেছে বলে দাবি। ২৫ ডিসেম্বর জেলায় মদ বিক্রির পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা। আর বর্ষবরণের উৎসবে বিক্রি পৌঁছে যায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকায়। পয়লা জানুয়ারি ওই অঙ্ক পৌঁছয় ৫ কোটি ২ লক্ষে। সব মিলিয়ে জেলায় ওই তিন দিনে প্রায় ১২ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে।
সূত্রের খবর, জেলায় মদ বিক্রির পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। শুধু নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে মিক্রি হয়েছে প্রায় ১৪৬ কোটি টাকার মদ। জিটি রোডের মদ ব্যবসায়ী সায়ন্তন সোম বলছেন, ‘এ বার পুজো থেকে বর্ষবরণে রাম, হুইস্কির বিক্রি ভালোই হয়েছে। তবে ভদকার বিক্রি তুলনামূলক কম। বিভিন্ন কোম্পানির বিয়ারের বিক্রিও ভালো। অনেকটা সময় দোকান খুলে রাখতে পেরেছিলাম আমরা, ফলে গ্রাহকদের ফিরে যেতে হয়নি।’
দেশি মদের বিক্রিতে অবশ্য খুব একটা হেরফের হয়নি। খোসবাগানে একটি দেশি মদের দোকানের কর্মী শেখ আখতার জানাচ্ছেন, তাঁদের দোকানে প্রতিদিন বিক্রি ভালোই হয়। পুজো বা নতুন বছরে বিক্রির তফাৎ তাঁরা বুঝতে পারেননি।জেলা আবগারি দপ্তরের আধিকারিক সন্দীপ ভুঁইয়া এতে নিজেদের সাফল্য দেখছেন। তিনি বলেন, ‘অবৈধ মদ বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে ভালো ফল মিলেছে। উৎসবের মরশুমে অবৈধ মদ বিক্রি বন্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছিল।’