নিজস্ব প্রতিনিধি,মালদা : মালদায় আমের দেশে এবার ফলছে কমলালেবু। রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। এই কমলা লেবু সহজে পচে না। স্বাদ টক ও মিষ্টি।মালদায় বেকারদের স্বনির্ভর হওয়ার দিশা দেখাচ্ছেন একজন প্রাক্তন শিক্ষক। মালদায় কমলালেবু (Oranges)ফলাচ্ছেন তিনি।দার্জিলিং-এর কমলাবাগানে নয়। মালদা শহরের একটি বাড়ির ছাদেই ফলছে এমন কমলা লেবু। দুটি গাছে ফলেছে শতাধিক কমলা লেবু। এই বছর প্রথম নয়, গত তিন বছর ধরে বাড়ির ছাদেই গাছ ভর্তি কমলা ফলছে। তবে এই বছর সব থেকে বেশি ফলন হয়েছে। আকারে বড় ।খেতেও মিষ্টি কিছুটা মালদার ছাদ বাগানে উৎপাদিত এই কমলা।
মালদা শহরের সিঙ্গাতলা(Singatala) এলাকার বাসিন্দা প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক অতনু কুমার ঝাঁ। বাড়ির তিনতলার ছাদে তৈরি করেছেন ছাদ বাগান। সেখানেই সখে গত চার বছর আগে দুইটি কমলালেবুর চারা লাগিয়েছিলেন তিনি। মালদার মাটিতে আদৌ কমলালেবুর গাছ হয় কিনা, পরীক্ষামূলক ভাবে তিনি গাছ লাগিয়েছিলেন দুটি। কিন্তু চারা লাগানোর এক বছর পর থেকেই ফল হতে শুরু করেছে। দুটি গাছেই তিন বছর ধরে কমলা ধরছে। তাঁর ছাদবাগানের(Roof Garden) গাছের কমলা খেতে মিষ্টি, এমনকি আকারেও বড়। অনেকদিন রেখে এই কমলা লেবু খাওয়া যায়। পরীক্ষামূলক ভাবে গাছ লাগিয়ে তিনি সফল হয়েছেন। মালদার মাটিতেও কমলা লেবুর বাগান তৈরি সম্ভব বলে জানান তিনি। ছাদ বাগানে কমলা গাছ পরিচর্যা করতে তেমন কোন রাসায়নিক ব্যবহার করেননি তিনি। শুধুমাত্র জৈব সার দিয়েই এই ফলন।
নির্দিষ্ট সময়ে গাছে জল দেন তিনি। যে কেউ ছাদ বাগানে ও এই কমলা গাছ লাগাতে পারেন। বেকার যুবকরা অল্প জায়গাতেই কমলা চাষ করে উপার্জন করতে পারবেন। ছাদ বাগানেও কমলার ফলন যে ব্যাপক হারে হতে পারে, তার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন প্রাক্তন শিক্ষক। কমলালেবুর গাছের(Oranges Tree) পাশাপাশি বর্তমানে কাটিমন প্রজাতির আম দেখতে পাওয়া যায় তার ছাদে। এছাড়াও রয়েছে কাঁঠাল কামরাঙ্গা, পেয়ারা, লেবু, জামরুল, আপেল সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। প্রাক্তন শিক্ষক মহাশয়ের দাবি যেহেতু সহজে মালদার আবহাওয়া তৈরি এই কমলা লেবু পচে না তাই এই কমলা লেবু রপ্তানি করা যেতে পারে অন্যত্র নিশ্চিন্তে।