নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা জুড়ে ফাঁকা জমি ও বাড়ির ক্ষেত্রে অনেক সময় বার্ষিক মূল্য নির্ধারনে সমস্যা হচ্ছিল। দীর্ঘ দিন ধরেই এই সমস্যা চলছিল পুর দফতরে। এবার সেই সমস্ত বিষয়ে রাশ টানতেই রাজ্যের পুরনিগম, পুরসভা ও শিল্পনগরীতে (ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ) সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণের নয়া মেকানিজ়ম চালু করতে আজ, সোমবার বিধানসভায় জোড়া বিল পেশ করতে চলেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। যেখানে বার্ষিক সম্পত্তি মূল্য সহজে নির্ণয় করা যাচ্ছে না, নির্দিষ্ট সময়ে সম্পত্তির সেলফ–অ্যাসেসমেন্ট হচ্ছে না, তথ্য গোপন করা হচ্ছে, সেই সব কিছুক্ষেত্রের জন্যই প্রস্তাবিত এই জোড়া বিলে উল্লেখ থাকবে।
পুর এলাকায় সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করে ভ্যালুয়েশন বোর্ড। এই বোর্ড পাঁচ বছর অন্তর সম্পত্তির অ্যানুয়াল রেন্টাল ভ্যালু নির্ধারণ করে। রেট চার্ট তৈরি হয়। এই অ্যানুয়াল রেন্টাল ভ্যালুর উপর ভিত্তি করে পুরনিগম, পুরসভা ও শিল্পনিগরীতে সম্পত্তির মূল্য প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধির জন্য বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর সম্পত্তির সেলফ–অ্যাসেসমেন্ট না করেন অথবা তথ্য গোপন করেন, তা হলে সেই ব্যক্তি পরিকল্পিত ভাবে এই কাজ করেছেন বলে চিহ্নিত করা হবে। এর জন্য তাঁকে নির্ধারিত করের সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে পেনাল্টি দিতে হবে। পুরনিগম, পুরসভা ও শিল্পনগরী সর্বত্র এই নিয়ম বলবৎ হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩-এর ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট এবং ২০০৬–র ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট— এই দু’টি আইন সংশোধন করেই রাজ্য সরকার পুর–এলাকার জন্য সম্পত্তি মূল্য নির্ণয়ের এই নয়া আইন তৈরি করতে চাইছে। এই দু’টি সংশোধনী বিল আইনে রূপায়িত হলে পুরসভাগুলির কোষাগারে বাড়তি অর্থ আসতে পারে। যদিও সেই অঙ্ক কত, তার আভাস এই বিলে দেওয়া হয়নি। বিধানসভায় বিলের উপর বিতর্কের জবাবি ভাষণ দেবেন বিভাগীয় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আর সেখানে এই আভাস মিলতে পারে বলেই খবর।