নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নির্ধারিত সময় মেনেই চলছে চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাস। ক্লাস জুড়ে আছে পড়ুয়ারা। তবে শিক্ষক আসনে রয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী প্রিয়াংশী দাস ও তার বান্ধবী। অভিনয়ের মাধ্যমে প্রিয়াংশী শেখাচ্ছে ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’। এই ক্লাসে প্রিয়াংশী রয়েছে মেয়ের ভূমিকায়। তার বান্ধবী ছেলে। ছেলেটি প্রথমে প্রিয়াংশীর মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করল। মেয়েটি পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলল, ‘এটা গুড টাচ’। ছেলেটি গাল টিপে আদর করে। সেটা ‘গুড টাচ’ বলে অনুমোদন পায়। এ বার ছেলেটি গলা, বুক, পেট, কোমরে হাত দিয়ে আদর করতে চাইলে মেয়েটি সেগুলোকে ‘ব্যাড টাচ’ বলে সঙ্গে সঙ্গে খারিজ করে দেয়। সবশেষে হ্যান্ডশেক। সেটা অবশ্য ‘গুড টাচ’ বলে জানায় মেয়েটি। স্মপ্রতি এমন ছবিই ধরা পড়েছে রায়গঞ্জ শহরের তুলসীতলা এলাকার পার্বতীদেবী ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে।
গত নভেম্বরে দ্বিতীয় শ্রেণির স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষার ক্লাস নিচ্ছিলেন স্কুলের এক দিদিমণি। তিনিই সেদিন ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’-এর কথা বলেন। প্রিয়াংশীও খুব মনোযোগ দিয়ে দিদিমণির কথা শোনে। এরপর বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে সে গোটা বিষয়টি বিশদে জানতে চায়। প্রিয়াংশীর মা গায়ত্রীদেবী জানান, দেশ জুড়ে শিশু ও নারী নির্যাতন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। নিজের মেয়েকে নিয়েও তিনি দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাঁর কথায়, ‘মেয়ে একদিন স্কুল থেকে ফিরে আমার কাছে ব্যাপারটি নিয়ে জানতে চায়। সাধ্যমতো অভিনয় করে ওকে সবটা বুঝিয়েও দিই। বিষয়টি মেয়ের মাথায় এমন ভাবে গেঁথে গিয়েছে যে, সে-ই এখন স্কুলের সব ক্লাসে গিয়ে অভিনয় করে ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’ বোঝাচ্ছে।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরূপকান্তি ঘোষ জানালেন, ‘১৪ নভেম্বর, শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে ওই ছাত্রী প্রথমবার ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’ অভিনয় করে দেখায়। তারপরে আমরা ওকেই স্কুলের রোল মডেল করেছি। সে-ই এখন অন্য ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করছে।’ অন্যদিকে রায়গঞ্জের মহকুমাশাসক কিংশুক মাইতি বলেন, ‘প্রিয়াংশীর জন্য আমরাও গর্বিত। শিশু নির্যাতন রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা জায়গায় সচেতনতা শিবির করা হয়। ওই খুদে ছাত্রীকে এ ব্যাপারে রোল মডেল করার কথা ভাবা হচ্ছে।’