নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশে হিন্দুদের রক্ষা কর্তা চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ওরফে চিন্ময় প্রভুর ৩১ শিষ্যর নামে খুনের মামলা দায়ের করল পুলিশ। মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে চন্দন দাসকে। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের নিহত আইনজীবী তথা জাম,আয়াত ইসলামীর রোকন (সদস্য) সাইফুল ইসলামের বাবা জামালউদ্দিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্ময় প্রভুর শিষ্যদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার তারেক আজিজ।
গত সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামে আসার মুখে গ্রেফতার করা হয় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র তথা পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় প্রভুকে। পরের দিন মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) তাঁকে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয়। বিচারক জামিনের আর্জি নাকচ করে চিন্ময় প্রভুকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আদালত চত্বরে থাকা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। চিন্ময় প্রভুকে জেলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে প্রিজন ভ্যানের পথ আটকান তাঁরা। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় চিন্ময়ের অনুসারীদের। তখনই বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী তথা জামায়াত ইসলামীর সদস্য সাইফুল ইসলাম। হিন্দুদের দেশ ছাড়ার কথা বলেন। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। চট্টগ্রাম আদালতের বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা পুলিশ ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে মিলে হিন্দুদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়। জনরোষের শিকার হয়ে প্রাণ হারান আইনজীবী সাইফুল ইসলাম।
ওই ঘটনার পরেই মঙ্গলবার রাত থেকে চট্টগ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা শুরু হয়। ঘটনার ৯৬ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরে শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি থানায় ছেলের খুন হওয়া নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাইফুল ইসলামের বাবা জামালউদ্দিন ও ভাই খান এ আলম। অভিযোগে চিন্ময় প্রভুর ৩১ শিষ্যর নাম উল্লেখ করেন। মওকা পেয়েই অভিযোগপত্রে থাকা ৩১ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে পুলিশ। চন্দন দাস বাদে তালিকায় রয়েছে, আমান দাস, শুভ কান্তি দাস, রনব, বিকাশ, রমিত, নয়ন দাস, গগন দাস, বিশাল দাস, ওমকার দাস, লালা, সোহেল দাশ, শিবকুমার, গণেশ, রাজ কাপুর, পপি, দেব, অজয়ের নাম। পুলিশ ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। বাকিদের গ্রেফতার করতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার তারেক আজিজ।