নিজস্ব প্রতিনিধি: এ যেন বলিউডের কোনও সিনেমার প্লট। একজন অস্ত্র পাচারকারী(Arms Dealer) নানান ছক কষে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের ব্যবসা। বেআইনি অস্ত্র পাচার(Arms Smuggling) করে লুফে নিচ্ছেন মোটা মুনাফা। এহেন সিনেমাটিক প্লটের বাস্তব রূপায়ণের কারিগর অস্ত্র পাচারকারী জামাল। সিআইডি(CID) সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারে জড়িয়েছিল জামাল। মুঙ্গেরের অস্ত্র কারবারের দুই গ্যাংয়ের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জেরে অস্ত্র সরবরাহে কোনওদিন ঘাটতি হয়নি।
আরও পড়ুনঃ শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ রোগ, কিসের টানে নিয়মিত শুটিংয়ে আসেন বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়?
উত্তর ২৪ পরগনার জেলার(North 24 Paraganas District) একাধিক এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল জামাল। হাবড়া(Habra) ও বনগাঁর(Bongaon) বিভিন্ন গোপন ডেরায় অস্ত্র তৈরির কারখানা খুলে ফেলেছিল সে। সেখানে মুঙ্গেরের গ্যাং থেকে কারিগররা এসে স্থানীয় কয়েকজনকে হাতেকলমে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কাজ শিখিয়ে দেয়। সেই কারখানাগুলির হদিশ পেয়ে হানা দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তক্কে তক্কে ছিল জামাল নিজেও। পাততাড়ি গুটিয়ে পালিয়ে গেলেও তখন থেকেই জামালের উপর পুলিশের নজরদারি শুরু হয়। গোয়েন্দারাও খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেন। অবশেষে গ্রেফতার হন বেআইনি অস্ত্র পাচারকারী চক্রের মূল পান্ডা জামাল মণ্ডল। কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করার পর চক্ষু চড়কগাছ সিআইডি’র। অস্ত্র পাচারের পাশাপাশি জামালের একটি রোমিও সত্ত্বা রয়েছে।
অস্ত্র ব্যবসায়ী জামালের গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যা একাধিক। এদিকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গিয়েছে স্ত্রী, কিন্তু তাতে ‘কুছ পরোয়া নেহি’। একজন গার্লফ্রেন্ডকেও কাছছাড়া করেনি জামাল। তাঁদের অনেককেই আবার বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছে সে। এর নেপথ্যেও লুকিয়ে রয়েছে জামালের এক মাস্টারপ্ল্যান। নিজের গার্লফ্রেন্ডদের হাতিয়ার বানিয়েই অস্ত্র পাচার করত জামাল। মূলত তাঁর প্রেমিকারাই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তাঁর বেআইনি অস্ত্র পাচারের ব্যবসা।
আরও পড়ুনঃ উপনির্বাচনে ৬ আসনেই এগিয়ে তৃণমূল
ছলে বলে কৌশলে এই সুন্দরী রমণীরা অস্ত্র পাচারের ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। স্মার্ট এবং আধুনিকা ওই যুবতীদের চট করে সন্দেহের তালিকায় আনতে পারেনি কেউ। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ‘দেশি কাট্টা’ আর ‘নাইন এমএম’ পিস্তল বিক্রির রমরমা ব্যবসা যে আচমকা বন্ধ হয়ে যাবে তা বোধহয় অনুমান করতে পারেননি জামাল। ইতিমধ্যেই অস্ত্র কারবারের ‘ক্যারিয়ার’ জামালের তিন বান্ধবীর হদিশ পেয়েছে সিআইডি। এবার শুধু তাঁদের জেল হেফাজতে নেওয়ার অপেক্ষা। কারণ পুলিশের জালে যে ধরা পড়ে গিয়েছে অস্ত্র পাচার চক্রের ফাঁদ।