নিজস্ব প্রতিনিধি, খুলনা: একই অঙ্গে কত রূপ। শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে বাংলাদেশ জুড়ে হিন্দু তথা সংখ্যালঘুদের উপরে নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে জামায়াত ইসলামীর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। অথচ ঘটা করে সেই কট্টর মুসলিম মৌলবাদী দলটির তরফে শুরু হয়েছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দুদের নিয়ে কমিটি গঠন। রংপুরের পরে এবার খুলনার ডুমুরিয়ায় হিন্দু কমিটি ঘোষণা করল জামায়াত ইসলামী। গতকাল রবিবার ওই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণা করেছেন খোদ জামায়াত ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার।
খুলনার ডুমুরিয়ার ৯০ শতাংশ বাসিন্দাই হিন্দু। মৎস্য চাষ আর কৃষিকাজই মূল জীবিকা। গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পরেই ডুমুরিয়ায় একাধিক হিন্দু বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। রেহাই পায়নি মন্দিরও। রাতে হিন্দু বাড়িতে গিয়ে দেশ ছাড়ার জন্য হুমকি দিয়েছিল জামায়াত ইসলামী আর বিএনপি সন্ত্রাসীরা। সেই হুমকির মুখে ভিটেমাটি ছেড়ে আজানা গন্তব্যে পাড়ি জমিয়েছিল কয়েকশো হিন্দু পরিবার।
আচমকাই সেই হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় ডিগবাজি খেয়েছে জামায়াত ইসলামী। রাতারাতি হিন্দু দরদী সেজে উঠেছে। গঠন করেছে হিন্দু কমিটি। কৃষ্ণ নন্দীকে সভাপতি, অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদকে সাধারণ সম্পাদক ও গৌতম মণ্ডলকে কোষাধ্যক্ষ করে ১১ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেই সঙ্গে তিনি জানান, ডুমুরিয়ার শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য জামায়াত নেতা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। জামসায়াতের এমন উদ্যোগকে অবশ্য কটাক্ষ করেছেন নেটা নাগরিকরা। অনেকেই কটাক্ষের সঙ্গে বলেছেন, ‘এ তো অনেকটা বিড়ালকেই মাছ পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার মতো।’ কেউ বা বলেছেন, ‘ধর্মান্তরকরণের প্রথম প্রক্রিয়া সম্পন্ন। পরবর্তী প্রক্রিয়ার খবরের জন্য অপেক্ষা করুন।’ সুত্রের খবর, ভয় দেখিয়ে ডুমুরিয়ায় হিন্দুদের সংগঠনে নাম লেখাতে বাধ্য করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতারা। দলে যোগ না দিলে এলাকায় থাকা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছেন। তাই মন থেকে না চাইলেও জামায়াতে নাম লেখাতে বাধ্য হয়েছেন।