নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে আলপনার(Lakshmi Puja Alpona) আদিম সম্পর্ক কতখানি দৃঢ় তা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার(Kojagori Lakshmi Puja) দিন গোটা বাড়ির চৌকাঠ ও উঠোনে সাদা রঙের শৈল্পিক চিত্র আঙুলের টানে রূপ নেয় আলপনার(Alpona Design), বাড়ির মা-বোনেরা খুব যত্ন নিয়ে কাজটি করে থাকেন। এই ছবি মোটামুটি সকলের চেনা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে কি পিছিয়ে পড়ছে খড়ি মাটি কিংবা চাল বাটার আলপনা? প্রশ্ন উঠছে কারণ, আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্মীপুজোর(Maa Lakshmi Puja) দিনে দশকর্মার দোকানে তেমন কোনো চাহিদা নেই খড়ি মাটির। এ কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন খোদ বিক্রেতারাই। খড়ি মাটির আলপনার বেশকিছু অসুবিধা রয়েছে। প্রথমত, ধৈর্য্য সহকারে করে হয়। দ্বিতীয়ত, অসাবধানতাবশত কারোর পা লেগে নষ্ট হওয়ার ভয় থেকে যায়। কিন্তু রঙবেরঙের রেডিমেড আলপনায়(Readymade Alpona) এসব অসুবিধা একেবারেই নেই।
আরও পড়ুনঃ নদীর চরে পুঁতে রাখা তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার, তুমুল চাঞ্চল্য পুরুলিয়ায়
বাজার চলতি রেডিমেড আলপনাতেই ভরসা রাখছেন সাধারণ মানুষ, দাবি বিক্রেতাদের। অন্যদিকে জনৈক ক্রেতা রাম রায়ের বক্তব্য, তিনি খড়ি মাটির ধারও মাড়াননি। মা লক্ষ্মীর পায়ের ছাপযুক্ত স্টিকারের আলপনা কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। কোনও ঝামেলা নেই। শুধু মেঝেতে বসিয়ে দিলেই কাজ শেষ। রেডিমেড আলপনার দামও সাধ্যের মধ্যেই।
বিভিন্ন দোকানে সমীক্ষা চালিয়ে জানা গিয়েছে, এই ধরণের আলপনার দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ৩ টাকা থেকে। এমনকি ১০০ ও ৫০০ টাকারও রেডিমেড আলপনা রয়েছে তাঁদের স্টকে। এরমধ্যে মা লক্ষ্মীর পায়ের ছাপযুক্ত আলপনার চাহিদাই সবথেকে বেশি। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই পেঁচার আলপনাও। এছাড়া বিভিন্ন সাবেকি ডিজাইনের আলপনা তো রয়েছেই। ‘হু হু করে বিক্রিও হচ্ছে এই প্রোডাক্ট’ একবাক্যে স্বীকার করছেন দোকানদাররা। ফলে খড়ি মাটির আলপনার চল যে খুব শীঘ্রই শেষের পথে সেই লাল সংকেতই মিলছে বারবার। গ্রামাঞ্চলে অবশ্য খড়ি মাটির আলপনার প্রচলন আজও রয়েছে কিন্তু রেডিমেড আলপনার বাড়বাড়ন্তে সেই ঐতিহ্য কতদিন টিকে থাকবে তা বলা কঠিন।