নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে ফের পাকিস্তান জমানা ফেরানোর কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। আর তাতেই বলীয়ান হয়ে উঠেছে জামায়াত ইসলামীর মতো রাজাকার আর জঙ্গিদের দল। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পোষ্যভৃত্য ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশে জামায়াতের মতো রাজাকার আর খুনি-ধর্ষকদের দলের সমর্থকদের আস্ফালন কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তার প্রমাণ মিলল গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) মহা সপ্তমীর সন্ধ্যায়। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের এক পুজোমণ্ডপে ঢুকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করল জামায়াতের একটি সংগঠন। আর হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ঢুকে বিধর্মীদের এমন দাদাগিরির ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নেমেছেন খোদ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানুম। ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহা সপ্তমী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেছিলেন উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন গায়ের জোরে চট্টগ্রামের মেয়র পদ দখল করা শাহাদত হোসেন ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর চট্টগ্রামের আমির শাহজাহান চৌধুরী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আচমকাই হাজির হয় চট্টগ্রাম কালচারাল আকাদেমির বেশ কয়েকজন সদস্য। পুজো উদযাপন পরিষদের নেতা সজল দত্তকে হুমকি দিয়ে তারা বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাদের গান গাইতে দিতে হবে। না হলে পুজো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
হুমকির মুখে নাচের অনুষ্ঠান থামিয়ে চট্টগ্রাম কালচারাল আকাদেমির সদস্যদের গান গাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। আর ওই সুযোগে তরুণদের কালচারাল আকাদেমির ৬ সদস্য মঞ্চে উঠে ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তার মধ্যে একটি গান ছিল ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম’। ওই গান শুনে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হিন্দুরা একে অন্যের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে থাকেন। নিমিষেই ওই গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যে সংগঠনটি এমন অপকর্ম করেছে, সেই চট্টগ্রাম কালচারাল আকাদেমি জামায়াত ইসলামী সমর্থিত।
কেন হিন্দুদের পুজো মণ্ডপে ঢুকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের জন্য ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করলেন তা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কালচারাল আকাদেমির সভাপতি সেলিম জামান ‘প্রথম আলো’কে বলেন, ‘দুটো গান পরিবেশন করা হয়েছে, দুটোই সম্প্রীতির সঙ্গীত। কেউ কেউ ভিডিও এডিট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ যদিও ভিডিও যাচাই করে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, পুজোমণ্ডপে গানের ভিডিওটি আসল। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যাওয়ার পরেই চট্টগ্রামের মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম নগরের আমির শাহজাহান চৌধুরী নিজেদের মোবা-ইল ফোন বন্ধ করে দিয়েছেন। পুজোমণ্ডপে ইসলামি সঙ্গীত পরিবেশনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। পুজো উদ্যোক্তাদের তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ঘটনায় যারাই জড়িত হোক না কেন, তাদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হবে।’