নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাত পোহালেই শীর্ষ আদালতে আরজি কর মামলার শুনানি। আর ওই শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের হয়ে লড়বেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ। আর ওই সিদ্ধান্ত জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে শোরগোল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যাঁর বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি চালিয়েছিল তাঁকেই কেন আইনজীবী হিসাবে নিয়োগ করা হল? এর পিছনেও কী রাজনীতি রয়েছে? সিপিএম নেতাদের নির্দেশেই কী গীতা লুথরাকে সরিয়ে ইন্দিরা জয়সিংহের মতো বিতর্কিত আইনজীবীকে বেছে নেওয়া হল?
ইউপিএ জমানায় সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ইন্দিরা জয়সিংহ কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল পদ পেয়েছিলেন। যদিও তাঁর কাজকর্ম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অনেকবারই মনমোহন সিং সরকারকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল। আইনজীবী হিসাবে ইন্দিরা জয়সিংহ ও তাঁর স্বামী আনন্দ গ্রোভার ‘ল’ইয়ার্স কালেক্টিভিটি’ নামে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালান। ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কংগ্রেস জমানায় বিদেশ থেকে প্রচুর অনুদান পেয়েছে। ওই মোটা অঙ্কের অনুদান নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছিল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে অভিযোগ জমা হয়েছিল।
কংগ্রেস জমানা বদলের পরে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইন্দিরা জয়সিংহ ও তাঁর স্বামী আনন্দ গ্রোভারের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিদেশি অনুদান নেওয়ার লাইসেন্স বাতিল করেছিল। অমিত শাহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার মাস দেড়েকের মধ্যেই ২০১৯ সালের ১১ জুলাই ইন্দিরা ও তাঁর স্বামীর মুম্বই-দিল্লির বাসভবন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় সিবিআই। বেশ কিছু নথিপত্র বাতিলও করে। ওই নথিপত্র থেকে বিস্ফোরক তথ্যও পান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। যদিও পরে এক রহস্যজনক কারণে ওই তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে যায়।