নিজস্ব প্রতিনিধি: ফের মেইতি-কুকি উপজাতি সংঘর্ষে উত্তাল মণিপুর। গতবছরের মতো আবারও অসন্তোষ মণিপুর। মেইতি দের এলাকায় কুকিদের ঢুকে পড়া, তা নিয়েই বিক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছিল গোটা মণিপুরে। ১ বছরেও পুরোপুরি ঠান্ডা হয়নি মণিপুর। দিন কয়েক আগেই সেনাকে হত্যা, কুকিদের উপর মেইতিদের হামলায় আবারও অশান্ত মণিপুর। এদিকে এমন উত্তাল পরিস্থিতিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মণিপুরের সমস্ত স্কুল-কলেজ। এবং স্নাতক-স্নাতকোত্তর পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
এর ফলে যাতে ছাত্ররা সহিংস বিক্ষোভ তুঙ্গে না উঠতে পারে, সেই কারণে মণিপুর সরকার মেইতি অধ্যুষিত ইম্ফল পূর্ব এবং ইম্ফল পশ্চিম জেলাগুলিতে কারফিউ ঘোষণা করেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। আর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মণিপুর সরকার। মঙ্গলবার কারফিউ ঘোষণার পরেও ছাত্ররা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। আর রাজভবনের দিকে মিছিল করার পরিকল্পনা করছে। ছাত্ররা বিশেষত, কুকিদের জন্যে একটি পৃথক প্রশাসন গড়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে মণিপুরের আঞ্চলিক অখন্ডতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপের দাবি করে আসছে। এমনকী তাঁরা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহার এবং ইউনিফাইড কমান্ডকে মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে আনার দাবিও জানিয়েছে।
বর্তমানে ইউনিফাইড কমান্ড কেন্দ্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টার অধীনে রয়েছে, যাঁকে গত বছরের মে মাসে মেইতি-কুকি সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর মণিপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁরা কুকি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে। যাঁরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইম্ফল পশ্চিম, বিষ্ণুপুর, এবং জিরিবামে হামলা চালাচ্ছে। গতবছরের মে থেকে মেইতি-কুকি সংঘর্ষের কারণে কমপক্ষে ১৩৬ জন মারা গিয়েছিল এবং ৬০,০০০ জনেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেনা-সহ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিত সত্ত্বেও সহিংসতার বিক্ষিপ্ত ঘটনাগুলি রাজ্যকে উত্তেজিত করে রেখেছে।