Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

লকেট রচনা দ্বৈরথের আড়ালে লুকিয়ে কৃষি-শিল্পের বিবাদ, সাক্ষী সিঙ্গুর

দুই নায়িকার লড়াইয়ের আড়ালে এখনও লুকিয়ে রয়েছে শিল্প-কৃষির বিরোধ। যদিও এই ৫ বছরে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে হুগলির মাটিতে।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ৩৪ বছরের জগদ্দল বাম অপশাসনের অবসান ঘটিয়েছিল যে জমি আন্দোলন তার সূচিকা গৃহ ছিল সিঙ্গুর(Singur)। হুগলি জেলার বুকে সেই জমি আন্দোলনের পীঠস্থান আজ ভারতে সর্বত্র পরিচিত। এই জমি আন্দোলনের হাত ধরেই বাংলার বুকে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ঘটনা ২০১১ সালের। অথচ তার ৮ বছরের মাথায় ২০১৯ সালে সেই সিঙ্গুর থেকেই লোকসভা নির্বাচনে লিড তুললো বিজেপি। তাও এক আধ হাজারের নয়, ১৫ হাজার ভোটের লিড। একইসঙ্গে তৃণমূলকে ধাক্কা দিয়ে হুগলি লোকসভা আসনও(Hooghly Constituency) ছিনিয়ে নেয় পদ্মশিবির। তৃণমূলের দুই দফার টানা ১০ বছরের সাংসদ রত্না দে নাগকে ৭৩ হাজার ভোটে হারিয়ে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির তারকা প্রার্থী(BJP Candidate) তথা তৃণমূল ছেড়ে আসা টলি নায়িকা লকেট চট্টোপাধ্যায়(Locket Chatterjee)। সেই লকেট এবারেও হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী। তৃণমূলও পাল্টা তারকা প্রার্থী(TMC Candidate) দিয়েছে এই কেন্দ্রে। ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ খ্যাত টলি নায়িকা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়(Rachana Banerjee)। এই দুই নায়িকার লড়াই ঘিরে এবার প্রথম থেকেই হুগলি লোকসভা কেন্দ্র বাংলার অন্যতম নজরকাড়া ও চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই দুই নায়িকার লড়াইয়ের আড়ালে এখনও লুকিয়ে রয়েছে শিল্প-কৃষির বিরোধ। যদিও এই ৫ বছরে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে হুগলির মাটিতে।

বাংলার মধ্যে গেরুয়া শিবিরের দাপট অনবেকেই বিজেপির উত্থানের মধ্যে দিয়ে দেখতে পান। কিন্তু পিছনে ফিরে অতীত ঘাঁটলে দেখা যাবে বাংলার মাটিতে তো বটেই সারা ভারেতের মাটিতে এই হুগকি লোকসভা কেন্দ্রেই প্রথমবারের জন্য গেরুয়া শক্তির উত্থান ঘটেছিল। সেটা ১৯৫২ সাল। হুগলি লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার প্রার্থী নির্মল চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত টানা ২৭ বছর এই কেন্দ্রে টানা জিতে এসেছেন বাম প্রার্থীরা। ১৯৮৪ সালে সেই বাম বিজয় রথ আটকে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের ইন্দুমতী ভট্টাচার্য। সেই ছন্দপতন অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৮৯ সাল থেকে এই কেন্দ্রের ফের দখল নেন বামপন্থীরা, আরও বলা ভাল রূপচাঁদ পাল। ১৯৮৯ থেকে ২০০৯ টানা ২০ বছর এই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন রূপচাঁদ পাল। যদিও তাঁকেও পরাস্ত হতে হয় ২০০৯ সালের প্রবল পরিবর্তনমুখী ঝড়ের কাছে। জয়ী হন তৃণমূলের রত্না দে নাগ। ২০১৪ সালেও ভাগ্যদেবী রত্নার পক্ষেই ছিলেন। অথচ ২০১৯ সালে সেই রত্নাই পরাস্ত হলেন বিজেপির লকেটের কাছে। এবার লকেটের লড়াই শুধু আসন ধরে রাখার নয়, লড়াই হুগলির মাটিতে গেরুয়া প্রভাব ধরে রাখারও। যদিও এই ৫ বছরে লকেটের পায়ের নীচ থেকে অনেকটাই মাটি ধ্বসে গিয়েছে। লকেট নিজেও পরাস্ত হয়েছেন একুশের ভোটে, চুঁচুড়া থেকে। দফ্লের অনেকেই এখন তাঁর বিরুদ্ধেও চলে গিয়েছেন। মুখ ঘুরিয়েছেন জনতার বড় অংশই।

বাম জমানার একদম শেষ দিকে লাল পার্টি শ্লোগান তুলেছিল ‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’। সেই শ্লোগানে আস্থা রেখেছিল বাংলার গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষ। কিন্তু খুন জখমের রাজনীতি, হুমকি-ধমকির রাজনীতি, গণহত্যা আর গণধর্ষণের রাজনীতি থেকে বার হয়ে আসতে পারেননি বাংলার লাল শাসকেরা। সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম যার জ্বলন্ত নিদর্শন। বিশ্বের কোথাও খুব জখম করে, গণধর্ষণ করে শিল্প গড়ে ওঠেনি। এরি সার সত্যটাই ভুলে গিয়েছিলেন বামনেতারা। গায়ের জোরে সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রামে কৃষকদের কাছ থেকে হাজার হাজার একর জমি দখল করে জমি হাঙ্গরদের হাতে তুলে দিতে গিয়ে নিজেদের পতম্ন ডেকে এনেছিলেন তাঁরা। হুগলি লোকসভা কেন্দ্র কিন্তু সেই শিল্প-কৃষির মেলবন্ধনের জমি। এখানে যেমন সম্পূর্ণ কৃষি ভিত্তিক বিধানসভা কেন্দ্র বলাগড়, সিঙ্গুর, ধনিয়াখালি, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম রয়েছে তেমনি রয়েছে চুঁচুড়া ও চন্দননগরের মতো পুরোদস্তুর শহুরে বিধানসভা কেন্দ্রও। আছে শিল্প-কৃষির দ্বন্দ্বও। তৃণমূল প্রার্থী রচনার পক্ষে যদি একুশের ভোটে হুগলি লোকসভা কেব্দ্রের মধ্যে থাকা ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রেই জোড়াফুলের জয় এবারের ভোটে বাড়তি অক্সিজেন এনে দেয় তো লকেটের পক্ষে সিঙ্গুরে শিল্পের প্রত্যাবর্তনের প্রচারও রয়েছে। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই যে তৃণমূল এবারের ভোটে নামছে দেড় ভোটের লিড নিয়ে। সেই জায়গায় লকেটের হাত প্রায় খালি।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00