Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

জঙ্গিপুরের দখল ধরে রাখতে তৃণমূলের ভরসা সংখ্যালঘুরাই

উনিশের ভোটে অতিবড় মোদি হাওয়ার মধ্যেও জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। নেপথ্যে ছিল সংখ্যালঘুদের সমর্থন।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: জঙ্গিপুর(Jangipur Constituency) তুমি কার? বামেদের না তৃণমূলের(TMC) নাকি কংগ্রেসের(INC)? ঘটনা বলছে, জঙ্গিপুর যতনা বামেদের তার থেকে বেশি কংগ্রেসের। এই লোকসভা কেন্দ্র গঠনের পর থেকে দুই দফায় এই কেন্দ্র মোট ২৫ বছর ধরে ছিল বামেদের দখলে। আর ৩ দফায় ২৭ বছর ধরে তা ছিল কংগ্রেসের দখলে। কিন্তু হালে এই কেন্দ্র রয়েছে তৃণমূলের দখলে। উনিশের ভোটে অতিবড় মোদি হাওয়ার মধ্যেও এই কেন্দ্র কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। আর এই ছিনিয়ে নেওয়ার পিছনে অনুঘটক হয়ে উঠেছিল সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কের(Minority Vote Bank) ঢালাও সমর্থন। সেই নির্বাচনেই কংগ্রেসকে তৃতীয় স্থানে ঠেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল বিজেপি(BJP)। নেপথ্যে ছিল হিন্দুভোট এক বাক্সে জড়ো হওয়া এবং বাম ভোট রামের ঝুলিতে চলে আসা। এবারে অর্থাৎ ২৪’র ভোটে সেই পরিস্থিতি কতখানি বদলেছে? চলুন উঁকি মারা যাক জঙ্গিপুরের অন্দরে।

মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম মহকুমা হল জঙ্গিপুর। এই মহকুমার মধ্যে রয়েছে ৬১টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৭টি ব্লক, ২টি পুরসভা। এই কারণে জঙ্গিপুর মহকুমাকে পৃথক জেলা হিসাবে গড়ে তোলার দাবিও রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। রাজ্যের ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই দাবিকে মান্যতা দেওয়ার বড় ইঙ্গিতও দিয়েছে। এই মহকুমার একপ্রান্ত দিয়ে বয়ে গিয়েছে পদ্মা। আর তাই নদী ভাঙন এই মহকুমার একটা বড় সমস্যা। হাজার হাজার মানুষ পদ্মা ভাঙনে তাঁদের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি, জমিজমা সব হারিয়ে বসে আছেন। কেন্দ্র সরকার কোনওদিন এই ভাঙন ঠেকাতে কিছুই করেনি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার উদ্যোগী হয়েছে এই ভাঙন ঠেকাতে। এর জন্য দফায় দফায় প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ করছে। এই মহকুমার অর্থনীতির বড় স্তম্ভ হল বিড়ি শিল্প। সেই বিড়ি শ্রমিকদের জন্যও কাজ করে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এলাকার বিড়ি শিল্পের অন্যতম শিল্পপতি জাকির হোসেন আবার জঙ্গিপুরই তৃণমূল বিধায়ক। ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রীও।

জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ৭টি বিধানসভা কেন্দ্র। এগুলি হল – সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘী, লালগোলা, নবগ্রাম, খড়গ্রাম এবং জঙ্গিপুর। একুশের ভোটে এই ৭টি কেন্দ্রই চলে গিয়েছে তৃণমূলের দখলে। আসলে উনিশের লোকসভা ভোটের আগে থেকেই মুর্শিদাবাদ ও বাংলার মাটিতে বিজেপি উত্থান বেশ চোখে পড়ছিল। আর তাই তলে তলে মুর্শিদাবাদ জেলার সংখ্যালঘু মানুষজনও কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের পতাকার নীচে আশ্রয় নিতে শুরু করেছিল। আর অন্ধ মমতা বিরোধী বামেরা ভেবেছিল, আগে রাম, পরে বাম। তাঁরা জড়ো হচ্ছিল গেরুয়ার তলে। উনিশের ভোটে সেই কারণেই তৃণমূল প্রার্থী খলিলুর রহমান জিতেছিলেন ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে। কিন্তু বিজেপি উঠে এসেছিল দ্বিতীয় স্থানে। কংগ্রেস আবার ৬২ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ে বিজেপির থেকে। আসলে কংগ্রেসের হাতে থাকা সংখ্যালঘু ভোটের একটা বড় অংশই সেই সময় চলে যায় তৃণমূলের দিকে। তার জেরেই জয়ের মুখ দেখেছিল জোড়াফুল। একুশের ভোটে সেই ভোট আরও সংগঠিত হয়েছে। আর তার জেরে জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভাতেই জয়ী হয় তৃণমূল।

সেই হিসাবে জঙ্গিপুর তো খুবই নিরাপদ আসন তৃণমূলের জন্য। হ্যাঁ এই কথা চোখ বুজে বলে দেওয়াই যেত, যদি না উঠে আসতো সাগরদিঘী মডেল। এবারেও সেই সাগরদিঘী মডেলেই ভর দিয়ে তৃণমূলকে হারাতে চাইছে বাম-কংগ্রেস জোট। তলে তলে বাম-কংগ্রেস আর বিজেপি এক হচ্ছে, সাগরদিঘী মডেলে সংখ্যালঘু ভোট একবাক্সে এনে ফেলতে। আর সেই বাক্স হল কংগ্রেস প্রার্থী মোর্তাজা হোসেন। গত বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাগরদিঘী মডেলে এই এলাকায় জোট বাঁধার চেষ্টা করেছিল বিরোধীরা। কিছু জায়গায় সফলও হয়েছিল। যদিও জঙ্গিপুর মহকুমায় সামগ্রিক ভাবে দাপট বজায় রেখেছে তৃণমূলই। কিন্তু তাঁদেরও ভাবাচ্ছে সাগরদিঘী মডেল। তবে জোড়াফুল শিবিরের আশা, যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নানা আর্থসামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের উন্নয়ন করে চলেছে এবং বিজেপির সরকার যেভাবে জনবিরোধী নীতি নিয়ে চলেছে তার বিরুদ্ধে মানুষ গর্জে উঠবেনই। বিরোধীরা যতই জোট ঘোঁট পাকাবার চেষ্টা করুন না কেন, বিজেপির সুবিধা হবে এমন কোনও পদক্ষেপই জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যালঘু ভোটাররা নেবেন না।

ক্যানসার প্রতিরোধের চিকিৎসার পথে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

টানা ৭৭ দিন নিশ্চিন্ত! Airtel আনল দীর্ঘমেয়াদী নতুন প্ল্যান, সাথে আনলিমিটেড কলিং

অক্ষয় তৃতীয়ায় পঞ্চ মহাপুরুষ রাজযোগ, ভাগ্যের চাকা ঘুরবে ৬ রাশির জাতকদের

গ্রিনের লড়াকু ইনিংসের সৌজন্যে গুজরাতকে ১৮১ রানের লক্ষ্য দিল কলকাতা

ভোটের মাঝে আচমকাই অভিষেককে ফোন রাহুলের!

মালদা টাউন স্টেশন থেকে ২ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার

0:00