Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

রসিক রবির সেরা ১০ টি রসিকতা, পড়লে না হেসে পারবেন না

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বহুমাত্রিক সাহিত্য প্রতিভার অধিকারী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কাব্যমানসে ছিল হাস্য রসিকতা। আপাতদৃষ্টিতে তাঁকে দেখতে রাশভারী লাগলেও তিনি মোটেই একেবারে গুরুগম্ভীর ছিলেন না। আসলে তিনি ছিলেন ভরপুর রসিক মানুষ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রসবোধ ও রসিকতার বিভিন্ন কাহিনি উঠে আসে শান্তিনিকেতনের বুক থেকে। আজ কবিগুরুর ৮৩ তম প্রয়াণ দিবসে তাঁর হাস্য রসিকতার ১০টি  ঘটনার স্মৃতিচারণ করা যাক। যা এই বেদনার দিনেও আপনাকে হাসাতে বাধ্য করবে।

১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে যখন বাস করতেন, তখন তাঁর আবাসস্থল হয়ে উঠত বাংলা সাহিত্যের আড্ডাস্থল। রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে আলোচনা, আড্ডা, গান হত। একবার কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শান্তিনিকেতনে একটি আসরে যোগদান করেন। একবার আসরের বাইরে তিনি জুতো খুলে আসার কারণে তাঁর জুতো চুরি হয়ে যায়। অগত্যা পরের দিন শরৎচন্দ্র তাঁর নতুন জুতো দুটো কাগজে মুড়ে সেটা বগলদাবা করে আসরে ঢুকলেন। কবিগুরু সেটা বুঝতে পেরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করলেন, “শরৎ, তোমার বগলে ওটা কী পাদুকাপুরাণ?” রবি ঠাকুরের মুখে এই কথা শুনে উপস্থিত আড্ডাবাজরা হো হো করে হেসে উঠলেন।

২. শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক বিধুশেখর শাস্ত্রীকে রবীন্দ্রনাথ একবার লিখে পাঠালেন, “আজকাল আপনি কাজে অত্যন্ত ভুল করছেন। এটা খুবই গর্হিত অপরাধ। এজন্য আগামিকাল বিকেলে আমি আপনাকে দণ্ড দিব।” পরদিন শাস্ত্রীমশাই উপস্থিত হলেন কবির কাছে। বেশ কিছুক্ষণ পর পাশের ঘর থেকে একটি মোটা লাঠি হাতে আবির্ভূত হলেন রবীন্দ্রনাথ। শাস্ত্রী মশাই তখন ভয়ে কাণ্ডজ্ঞান লুপ্তপ্রায়। তিনি ভাবলেন, সত্যি বুঝি লাঠি তাঁর মাথায় পড়বে। কবিগুরু সেটি বাড়িয়ে ধরে বললেন, “এই নিন আপনার দণ্ড! সেদিন যে এখানে ফেলে গিয়েছিলেন। তা একদম ভুলে গেছেন আপনি!”

৩. প্রখ্যাত সাহিত্যিক ‘বনফুল’ তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের এক ছোট ভাই বিশ্বভারতীতে অধ্যয়নের জন্য শান্তিনিকেতনে পৌঁছেই একজনের কাছে জানতে পারেন, বয়স হওয়ার কারণে রবীন্দ্রনাথ কানে একটু কম শোনেন। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি যখন বললেন, “কী হে, তুমি কি বলাইয়ের ভাই কানাই নাকি?” তখন বনফুলের ভাই চিৎকার করে জবাব দিলেন, “আজ্ঞে না, আমি অরবিন্দ।” রবীন্দ্রনাথ তখন হেসে উঠে বলেন, “না কানাই নয়, এ যে দেখছি একেবারে সানাই!”

৪. একবার এক শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত হয়ে হাজির হয়েছেন কবিগুরু। একের পর এক নিজেদের গায়কি উপস্থাপন করছেন সঙ্গীতজ্ঞরা। বিখ্যাত ধ্রুপদ গানের শিল্পী গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান গাওয়ার পর সবাই রবীন্দ্রনাথকে ধরলেন। কিন্তু, কবিগুরু নিজে গান করতে রাজি হচ্ছিলেন না। তবে, সবার তুমুল আবদারে শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন তিনি। বললেন, “বুঝেছি তোমরা আমাকে ছাড়বে না। গোপেশ্বরের পর এবার দাড়িশ্বরের পালা।” গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছিল বড় গোঁফ। অন্যদিকে কবিগুরুর বড় দাড়ি থাকায় তিনি নিজেকে বললেন দাড়িশ্বর।

৫. একদিন শান্তিনিকেতনের ছেলেদের সঙ্গে অন্য এক প্রতিষ্ঠানের ছেলেদের ফুটবল খেলা ছিল। শান্তিনিকেতনের ছেলেরা আট-শূন্য গোলে জিতে গেছে । সবাই তো দারুণ খুশি। তবে এ জয় দেখে রবীন্দ্রনাথ মন্তব্য করলেন “জিতেছে ভাল, তা বলে আট গোল দিতে হবে? ভদ্রতা বলেও তো একটা কথা আছে!”

৬. একবার এক সভায় বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় দারুণ এক বক্তৃতা দিলেন। সেখানে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও ছিলেন। সভা শেষে সবাই বলাবলি করছেন, ‘দেখেছ বলাইচাঁদ কী দারুণ বলল!’ রবীন্দ্রনাথ সবাইকে থামিয়ে বললেন, “এখানে এত অবাক হওয়ার কী আছে! ওঁর নাম-ই তো বলাই, বলাই তো ওঁর কাজ।” রবীন্দ্রনাথের এমন রসিকতায় বলাইচাঁদসহ সবাই হেসে উঠলেন।

৭. একবার রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধি একসঙ্গে বসে সকালের জল-খাবার খাচ্ছিলেন। তো গান্ধিজি লুচি পছন্দ করতেন না। তাই তাঁকে ওটসের পরিজ খেতে দেওয়া হয়েছিল। আর রবীন্দ্রনাথ খাচ্ছিলেন গরম গরম লুচি। গান্ধিজি তাই দেখে বলে উঠলেন, “গুরুদেব, আপনি জানেন না যে আপনি বিষ খাচ্ছেন।” উত্তরে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “বিষই হবে; তবে এর অ্যাকশন খুব ধীরে। কারণ, আমি বিগত ষাট বছর যাবৎ এই বিষ খেয়েই বেঁচে আছি!”

৮. একবার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিসর্জন নাটকের মহড়া চলছিল । নাটকে রঘুপতির ভূমিকায় ছিলেন দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো), আর জয়সিংহ সেজেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। একটা দৃশ্য ছিল এমন, জয়সিংহের মৃতদেহের ওপর আছড়ে পড়বেন শোকার্ত রঘুপতি। দৃশ্যটার মহড়া চলছিল বারবার। দীনেন্দ্রনাথ ছিলেন স্থুল স্বাস্থ্যের অধিকারী। মহড়ায় বারবার তাঁর ভার বহন করা রবীন্দ্রনাথের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছিল। একবার দীনেন্দ্রনাথ একটু বেকায়দায় রবিঠাকুরের ওপর আছড়ে পড়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ কেঁকিয়ে উঠে বললেন, “ওহে দিনু, মনে করিসনে, আমি সত্যি সত্যিই মারা গেছি!”

৯. একদিন এক শিষ্যের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ বেড়াতে গেছেন। বসার জন্য তাঁকে চেয়ার দেওয়া হলো। চেয়ার দেখে কবিগুরু শিষ্যকে বললেন, “চেয়ারটা বেশ সুন্দর। তা চেয়ারটা সজীব তো?” শিষ্য কিছুতেই রবীন্দ্রনাথের কথার মানে বুঝে উঠতে পারছিল না। হাঁ করে তাকিয়ে রইল কবির মুখের দিকে। শিষ্যের অবস্থা দেখে রবীন্দ্রনাথই বললেন, “বুঝতে পারনি বুঝি? আমি জিজ্ঞেস করছি, চেয়ারটা সজীব কি না, মানে এতে ছারপোকা আছে কি না।”

১০. জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ একটু সামনের দিকে ঝুঁকে উবু হয়ে লিখতেন। একদিন তাঁকে ওভাবে উবু হয়ে লিখতে দেখে তাঁর এক শুভাকাঙ্ক্ষী বলল, “আপনার নিশ্চয় ওভাবে উপুড় হয়ে লিখতে কষ্ট হচ্ছে। বাজারে এখন এ রকম অনেক চেয়ার আছে যেগুলোতে আপনি হেলান দিয়ে বেশ আয়েশের সঙ্গে লিখতে পারেন। ওরকম একটা আনিয়ে নিলেই তো পারেন।” লোকটার দিকে খানিকক্ষণ নিস্পলকে চেয়ে  রবীন্দ্রনাথ জবাব দিলেন, “তা তো পারি। তবে কি জান? এখন উপুড় হয়ে না লিখলে কি আর লেখা বেরোয়! পাত্রের জল কমে তলায় ঠেকলে একটু উপুড় তো করতেই হয়।”

‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…’ রবি ঠাকুরের জন্মদিবসে শ্রদ্ধা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বসন্ত পঞ্চমীর সকালেই ‘তোমায় গান শোনাব’ নিয়ে শ্রোতাদের কাছে হাজির মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

বঙ্গভঙ্গের গান ‘আমার সোনার বাংলা’ যেভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হয়ে উঠল

 জানেন কি, ব্রাজিলেও রয়েছে বিশ্বকবির নামে স্কুল ?

একের পর এক মৃত্যুশোক! যেভাবে বংশধারার সমাপ্তি ঘটেছিল রবি ঠাকুরের

শেষযাত্রায় উপড়ে নেওয়া হয়েছিল চুল-দাঁড়ি! জানেন কী বিশ্ব কবির মৃত্যুদিনে কি হয়েছিল ?

স্মৃতিচারণ থেকে কটাক্ষ, উনিশের সংঘর্ষ থেকে বন্দুকের কারখানা, নোয়াপাড়ায় ছুঁয়ে গেলেন মমতা

‘একটা বিধায়ক রবীন্দ্রনাথের ছবি দিচ্ছে উল্টো করে’, মমতার কটাক্ষে অস্বস্তিতে বিজেপি

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00