Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

গ্রিন পুলিশের অমানবিকতায় ক্ষমাপ্রার্থী পুলিশ কমিশনার

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই অনেকেই গোটা ঘটনায় মার্কিন মুলুকে ট্রাম্প জমানায় মিনিয়াপোলিসে ঘটে যাওয়া জর্জ ফ্লয়েডের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ছায়া খুঁজে পেয়েছেন। সৌভাগ্যবশ্বত কলকাতার ঘটনায় সেই রকম কিছু ঘটেনি। তবে জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: গায়ে সবুজ জামা, পরনে একই রঙের প্যান্ট। আমজনতা তাঁদের চেনেন গ্রিন পুলিশ হিসাবে। কেউ কেউ বলেন সিভিক ভলান্টিয়ারও। এদের ক্ষমতা আর কার্যাবলী নিয়ে কার্যত শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। কারন এরা হচ্ছে রাজার সেই পেয়াদা যাদের ডেকে আনতে বললে বেঁধে আনে। আর সেই অপার ক্ষমতার মাশুল কী হতে পারে সেটাই রবি রাতে প্রত্যক্ষ করল গোটা কলকাতাবাসীরা। দেখলেন বঙ্গবাসীও। সৌজন্যে অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া। সকলে দেখলেন খাস কলকাতার বুকে রবীন্দ্র সদনের এক্সাইড মোড়ে রোগা চেহারার বছর কুড়ির এক যুবককে বুট পরা পা দিয়ে ঠেসে ধরেছেন এক সিভিক ভলেন্টিয়ার। শুধু ঠেসে ধরাই নয়, ওই যুবককে মাটিতে শুইয়ে রাখতে বার বার তাঁর বুকে-পিঠে লাথি মারছে সেই প্রবল প্রতাপান্বিত গ্রিন পুলিশ। শেষে তাঁর বুকে বুট পরা পা তুলে দিয়ে তাঁকে ঠেসে ধরল সেই গ্রিন পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সবাই সাক্ষী থাকলেন সেই ঘটনার যা মুখ পুড়িয়েছে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি সিটি অফ জয়’রও। আর তার জেরেই ক্ষমা চাইলেন খোদ কলকাতা পুলিশের কমিশনার।   

রবি সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ওই ঘটনাকে ঘিরে এখন বেশ ভালই বিতর্ক ছড়িয়েছে জনমানসে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে নির্যাতিত যুবক আদতে এক ছিনতাইবাজ। রবিবার সন্ধ্যায় এক্সাইড মোড় থেকে হাওড়াগামী একটি চলন্ত বাস থেকে এক মহিলার ব্যাগ ছিনতাই করেছিলেন ওই যুবক। বাস থেকে নেমে পালাতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে মার খাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় তন্ময় বিশ্বাস নামে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁকে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করেন। এই অবধি ঠিকই ছিল। কিন্তু এরপরের ঘটনা ঘিরেই বিতর্ক ছড়িয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের নাগাল থেকে ওই ছিনতাইবাজ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই তাঁকে ফুটপাথে ফেলে জুতো পরা পা দিয়ে ঠেসে ধরেছেন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। আর এই দৃশ্য দেখেই শিউরে উঠেছেন সবাই। প্রকাশ্য রাজপথে এ ভাবে বুট-পরা পায়ে এক জনকে লাথি মারার দৃশ্য কার্যত নজিরবিহীন।

ঘটনার জেরে রাতেই পদক্ষেপ নেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার সৌমেন মিত্র। ঘটনার জেরে তিনি পুলিশের তরফে আমজনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছেন, ‘আমি ঘটনাটি দেখে বিব্রত। ঘটনার জন্য দুঃখিত। রাতেই ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই সময়ে ওখানে ডিউটিতে থাকা ট্রাফিকের সমস্ত অফিসারদের সোমবার সকালে আমার অফিসে ডেকে পাঠিয়েছি। তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কী করে এই অমানবিক ঘটনা ঘটল, তা জানতে চাওয়া হবে। অফিসারদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য তদন্ত হবে।’ তবে ঘটনা হচ্ছে এটাই যে, তন্ময় বাঁচানোর পাশাপাশি এখন এই সব অফিসাররা নিজেদের বাঁচাতে আজব সব যুক্তি খাড়া করে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ওই যুববকে নাকি ঘটনার সময় সামলানো যাচ্ছিল না। নেশাগ্রস্ত ওই যুবকের গায়ে নাকি ভীষণ জোর। তাই বাধ্য হয়েই তার বুকে পা দিয়ে কোনও মতে আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি ওই যুবকের পকেট থেকে নাকি একটা চোরাই মোবাইল উদ্ধার হয়েছে এবং যার মোবাইল তাঁকে নাকি সেটি ফেরতও দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনও অভিযোগ করেননি। যে মহিলার ব্যাগ ছিনতাই করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তিনি নিজের ব্যাগ ফেরত পেয়ে গিয়ে কোনও অভিযোগ করেননি।

আমজনতা কিন্তু এইসব যুক্তি মানতে চাইছেন না। তাঁদের পাল্টা প্রশ্ন, পুলিশকে সাহায্য করার জন্য রাখা হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের। যে অপরাধই ওই যুবক করুন না কেন, ধরা পড়ার পরে এমন অমানবিক ভাবে পা দিয়ে ঠেসে ধরে মারধর করতে হবে কেন? কেন তাঁকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হল না? কার্যত সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই অনেকেই গোটা ঘটনায় মার্কিন মুলুকে ট্রাম্প জমানায় মিনিয়াপোলিসে ঘটে যাওয়া জর্জ ফ্লয়েডের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ছায়া খুঁজে পেয়েছেন। সেখানেও তো এইভাবেই শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিন তাঁর দুই পা দিয়ে ফ্লয়েডের গলা চেপে ধরে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছিলেন। সৌভাগ্যবশ্বত কলকাতার ঘটনায় সেই রকম কিছু ঘটেনি। তবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তথা রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের প্রাক্তন সভাপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ করেছেন ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার। কাউকে ধরতে গিয়ে ধ্বস্তাধ্বস্তি হতে পারে। কিন্তু সিভিক পুলিশের এমন নিষ্ঠুরতা বেআইনি এবং অমানবিক।’ 

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00