Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙারও ক্ষমতা হারিয়েছে বঙ্গ বিজেপি

সোমবার দুপুরে মধ্য কলকাতার চিত্তরঞ্জন অ্যাভেন্যুউ লাগোয়া যে মুরলিধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপির কার্যালয় রয়েছে সেখানেই বিজেপির ডাকা আন্দোলন মূষিক প্রসব করেই শেষ হয়ে গেল। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এদিন আর বিজেপির মিছিল বার হতে পারেনি শহরের রাজপথে।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একুশের নির্বাচনে বাংলা দখলে নেমেছিল মোদি বাহিনী। তাতে যেমন বিজেপির নেতারা, সঙ্ঘের সদস্যরা ছিলেন তেমছি ছিল নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। ৭৭ আসন পেয়েই এবারের মতো থেমে যেতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। কিন্তু সেই পরাজয়ের পর থেকে যতই সময় গড়াচ্ছে ততই দুর্বল হচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। সাংসদ ও বিধায়কদের পাশাপাশি নিত্যদিন দল ছাড়ছেন দলের নেতা ও কর্মীরা। দলের ক্ষমতা কমতে কমতে এখন এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যে আন্দোলনের নামে কর্মীদের ডেকে এনে আর রাস্তায় নামার বা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙারও ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে বঙ্গ বিজেপি। সোমবার দুপুরে মধ্য কলকাতার চিত্তরঞ্জন অ্যাভেন্যুউ লাগোয়া যে মুরলিধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপির কার্যালয় রয়েছে সেখানেই বিজেপির ডাকা আন্দোলন মূষিক প্রসব করেই শেষ হয়ে গেল।

পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর থেকে ভ্যাট কমানোর দাবিতে এদিন রাজ্য বিজেপির কার্যালয় থেকে মিছিল করার কথা ঘোষণা করেছিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও বিজেপির ওই মিছিলের অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। কিন্তু তারপরেও রবিবার রাতে বঙ্গ বিজেপির তরফে থেকে জানানো হয়, মিছিল হবেই। কিন্তু এদিন সকাল থেকেই পুলিশ মুরলিধর সেন লেনের দুটি মুখই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেয়। তার জেরে হাজার কর্মীকে ডেকেও আর মিছিল বার করতে পারেনি বঙ্গ বিজেপির নেতারা। তবে মিছিলে যোগ দিতে বিজেপির সব তাবড় তাবড় নেতারা মুরলিধর সেন লেনে চলে আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন, বঙ্গ বিজেপির নয়া সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও রাহুল সিনহা, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়ন্তন বসু, জয়প্রকাশ মজুমদার প্রমুখরা। কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এদিন আর বিজেপির মিছিল বার হতে পারেনি শহরের রাজপথে। কার্যত মুরলিধর সেন লেনের অন্দরেই বঙ্গ বিজেপির আন্দোলনের অপমৃত্যু ঘটলো। সেই সঙ্গে সামনে এল বঙ্গ বিজেপি এখন জোরদার আন্দোলন করার ক্ষমতাটাও হারিয়ে ফেলেছে।

এদিন মুরলিধর সেন লেনে স্বল্প পরিসরের মধ্যেই বিজেপির নেতারা কর্মীদের তাতিয়ে দিতে বেশ গরমাগরম বক্তব্য রাখেন। সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘পুলিশের এদিনের এই বাধা বুঝিয়ে দিল বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে রাজ্য সরকার। এটাই আমাদের জয়। তবে বিজেপিকে না আটকে রাজ্য বরং পেট্রল, ডিজেলের উপর থেকে রাজ্যের চাপানো ভ্যাট কমাক। তাতে সাধারণ মানুষের উপকার হবে।’ দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্র শুল্ক কমানোর পর সমস্ত রাজ্যকেও ভ্যাট কমানোর আবেদন করেছে কেন্দ্র। তৃণমূল যে মানুষকে দেখানোর জন্য আন্দোলন করে সেটা বোঝা গেল। তাই ভ্যাটের লভ্যাংশ তো কমাচ্ছেই না। উল্টে আমাদের কন্ঠ প্রতিরোধের চেষ্টা করছে।’ রীতেশ তিওয়ারি বলেন, ‘বাংলার মানুষের স্বার্থে আমরা পথে নেমেছি। তাই গ্রেফতার হতে হচ্ছে। এরা ত্রিপুরায় গিয়ে বড় বড় কথা বলে। প্রতিদিন এক লাখ লোক বুর্জ খলিফা দেখত। তখন অতিমারি ছিল না। এখন করোনার কথা বলছে। এটা প্রমাণ হয়ে গেল বাংলার মানুষের স্বার্থে পথে নামলেই পুলিশ গ্রেফতার করবে।’

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তথাকথিত বাংলার মেয়ে এখনও ঘুমোচ্ছেন। তথাকথিত মানব দরদী একেবারে সাধারণ লোকের কষ্টে নাকি তাঁর চোখের জল আর নাকের জল এক হয়ে যায়। তাঁর ঘুম ভাঙেনি। আমাদের নেতারা বলেছিলেন ২০০-৪০০ মিটার হাঁটতে দিন। আমরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙতে আসেনি।আমরা এখানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি করতে আসিনি। অথচ অবস্থাটা দেখুন। চারদিক ঘিরে রেখেছে। শুধু গোটা কলকাতা পুলিশ নয়, রাজ্য পুলিশও নিয়ে চলে এসেছে। হাজার পুলিশ দিয়ে গোটা ২০০-৩০০ মিটার এলাকায় চক্রব্যূহ তৈরি করা হয়েছে। গাড়ির লাইন, লালবাজারে নিয়ে যাবে। লালবাজারে নিতে গেলে এই মুহূর্তে ২০০টা বাস লাগবে। আরও লোক আসবে। দিকে দিকে যত বাড়বে, বিজেপি তত বাড়বে। আমরা এখান থেকে আমরা দাবি করি মুখ্যমন্ত্রী নিদ্রা ভাঙুন। আপনি ভ্যাট কমান। কেন্দ্রের দেখানো পথে হাঁটুন। জনগণকে সুরাহা দেখান।’

রাহুল সিনহার বলেন, ‘আমরা জানি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেট্রোল ডিজেলের ভ্যাটে ছাড় দেবে না। আপনারাও তা জানেন। কারণ, ওনারা খেতে জানেন। দিতে কখনও জানেন না। কাটমানি নেওয়া ওদের কাজ। মানুষকে বিলিয়ে দেওয়া ওদের কাজ নয়।’ দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম দীপাবলির আগে প্রধানমন্ত্রী মানুষকে খুশি করলেন, দিদিও সেই রাস্তায় হাঁটবেন। দীপাবলি, ভাইফোঁটায় তো হল না। আশা করছি ছটপুজোয় কমাবেন। লোকে বাইক কিনেছেন। এতদিন ট্রেন বন্ধ করে রেখেছিলেন মানুষকে ক্ষ্যাপানোর জন্য। বাসের ভাড়া বাড়ছে বলে লোককে তাতানোর জন্য বলে বেড়াতেন। এবার কেন্দ্র তো কমাল শুল্ক, রাজ্য কমাক। উনি কমাবেন না জানি। কাটমানি খেয়ে অভ্যাস, জিনিসের দাম কি আর কাট করবেন?’

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00