Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

বিনা চিকিৎসায় মৃত সফিকুল ইসলামের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সফিকুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করল তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে সফিকুলের ক্ষেত্রে।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতার একের পর এক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি বাইক দুর্ঘটনায় সঙ্কটাপন্ন যুবকের চিকিৎসা। শেষমেশ বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হলেও বাঁচানো যায়নি। জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে যুবকের এই মর্মান্তিক পরিনতি বলেই দাবি মৃত যুবকের পরিবারের। সেই যুবকের বাড়িতেই বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছে গেল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। উত্তর ২৪ পরগনা(North 24 Pargana) জেলার বারাসত সদর মহকুমার দেগঙ্গার(Deganga) সোহাই-শ্বেতপুর পঞ্চায়েতের গাংআটি গ্রামে বাড়ি পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক সফিকুল ইসলামের(Safikul Islam)। গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি বাইক নিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। তাতেই মাথায় ও শিরদাঁড়ায় গুরুতর চোট লেগেছিল। প্রথমে বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হলেও পরে তাঁকে কলকাতার National Medical College and Hospital-এ রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানে তো বটেই কলকাতার একের পর এক সরকারি হাসপাতাল ঘুরেও তাঁকে কোথাও ভর্তি করতে পারেননি তাঁর পরিজনেরা। শেষে বারাসতে ফিরিয়ে এনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হয় তাঁর পরিবার। মঙ্গলবার রাতেই সেখানে মৃত্যু হয় সফিকুলের।

আরও পড়ুন, দাবি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের, এখন তিনিই ‘অভিভাবক’, ডাক্তারদের ভোলবদলে উঠছে প্রশ্ন

জানা গিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে হাবড়ার সোনাকেনিয়া গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে গিয়েছিলেন সফিকুল। সেখান থেকে ভোরের দিকে বাইক চালিয়ে তিনি ফিরছিলেন দেগঙ্গার বাড়িতে। হাবড়া-বেঁড়াচাপা রোড ধরে ফেরার পথে কলাপোল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি ৷ রাস্তার ধারে রাখা ইটের ধাক্কায় গুরুতর জখম হন সফিকুল। তাঁর মাথায় এবং শিরদাঁড়ায় আঘাত লাগে বলে জানা যায়। তার পরেই রক্তাক্ত অবস্থায় সফিকুলকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। কিন্তু তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২ অগস্ট তাঁকে রেফার করা হয় কলকাতার National Medical College and Hospital-এ। কিন্তু সেখানে তো বটেই কলকাতার একের পর এক সরকারি হাসপাতাল ঘুরেও সফিকুলকে কেউ কোনও হাসপাতালেই ভর্তি করতে পারেননি। শেষে বারাসতে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অস্ত্রপচারও হয়। কিন্তু তারপর আর সেভাবে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন না সফিকুল। মঙ্গলবার রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন, ২০০ কোটি টাকার অঙ্গপ্রতঙ্গ বিক্রির দুর্নীতি, মাঠে নেমে সূত্র খুঁজছে ED

জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরেই সফিকুলের এই মর্মান্তিক পরিনতি বলে দাবি সফিকুলের পরিবারের। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে এভাবে যদি দিনের পর দিন কর্মবিরতি চলতে থাকে, তাহলে গরিব মানুষেরা কোথায় যাবেন? একজনের মৃত্যুর পরিবর্তে চিকিৎসা না পেয়ে তো হাজার হাজার মানুষ মারা যাবেন? আন্দোলনরত ডাক্তারদের উদ্দেশে এমনই সব প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। সফিকুলের জামাইবাবু জাহাঙ্গীরর গাজির দাবি, ‘মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওযার পর অ্যাম্বুলেন্স থেকে রোগীকে নামিয়ে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওযার জন্য কোনও ট্রলি পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন এখানে ডাক্তারদের কর্মবিরতি চলছে। পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই, তাই রোগীকে ভর্তি নেওয়া যাবে না। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে অনেকবার আবেদন করেছিলাম ডাক্তারবাবুর কাছে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। এরপর এসএসকেএম এবং নীলরতন মেডিক্যাল কলেজ থেকেও চিকিৎসা না পেয়ে ফিরতে হয়েছে। আরজি করের ঘটনায় আমরাও দোষীদের বিচার চাই। কিন্তু একটা প্রাণের বিনিময়ে বহু গরীব মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে।আমাদের জাস্টিস কারা দেবেন? সঠিক সময়ে সরকারি হাসপাতালে যদি চিকিৎসা পরিষেবা পেতেন বাইক দুর্ঘটনায় আহত ওই যুবক। তাহলে এভাবে তাঁকে মরতে হত না।’

আরও পড়ুন, কেন্দ্রের শর্তে থমকে কলকাতার ৭৫টি ওয়ার্ডে Satellite Health Center নির্মাণের কাজ

সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মুখ পুড়েছে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের। এর মাঝেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) নির্দেশে সফিকুলের বাড়ি গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তাঁরা। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী(Narayan Goswami), স্থানীয় বিধায়ক রহিমা মণ্ডল সহ অন্যান্যরা। সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের তরফে সফিকুলের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে এবং পরিবারের ১জন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া যায় কিনা সেটাও তাঁরা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। সম্ভবত, সফিকুলের স্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁকে এবং সফিকুলের ছেলেকে নিয়ে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিতে পারে তৃণমূল।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00