Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

জানেন কী, কেন নব দম্পতির ঘরে সুবচনী পুজো করা হয় ?

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সুবচনী বাংলার এক লৌকিক দেবী। কোনো কোনো স্থানে তিনি আবার শুবুচুনী, শুভবাচনী বা শুভচণ্ডী নামেও পরিচিতা। তবে প্রকৃতপক্ষে এই সুবচনী হলেন আদি দেবী দুর্গারই এক রূপ। সুবচনী ব্রত বাংলার গ্রামীণ সমাজে প্রচলিত একটি অশাস্ত্রীয় বা মেয়েলি ব্রত, যা মূলত বাঙালি হিন্দু পরিবারের মহিলারা পালন করেন। এটি একটি সামাজিক ও ধর্মীয় আচার, যা নববিবাহিত দম্পতির মঙ্গলকামনা বা কোনও বিশেষ সাংসারিক ইচ্ছা পূরণের জন্য পালিত হয়। প্রচলিত রীতি অনুসারে, এই পুজো বছরের বারো মাসেই পালন করা যায়। এই ব্রতকে চলতি ভাষায় ‘জোড়ের পুজো-ও’ বলা হয়ে থাকে । পুরোহিত মশাই আর বাড়ির প্রবীণদের ভাষায় দেবী সুবচনীর নামানুসারে এই পুজোকে ‘সুবচনী পুজো’ বলা হয়।

সুবচনীর ব্রতকথা অনুযায়ী, এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ বালক রাজার খোঁড়া হাঁস মেরে খেয়ে রাজরোষে কারারুদ্ধ হলে দেবী সুবচনীর কৃপায় মুক্তিলাভ করে ও রাজার জামাই হয়।  সুবচনী দেবীর ব্রতকথাটি নিম্নরূপ: কলিঙ্গ রাজ্যে এক বিধবা ব্রাহ্মণী বাস করত। ভিক্ষাবৃত্তি করে অতিকষ্টে সে তার পুত্রের উপনয়ন সংস্কার করিয়েছিল। পাঠশালায় পড়ার সময় ব্রাহ্মণীর পুত্র অন্যান্য পোড়োদের নানাপ্রকার সুখাদ্য খেতে দেখে নিজের মায়ের কাছে সেই রকম খাবার চায়। দরিদ্র ব্রাহ্মণী উত্তম খাদ্য ক্রয় করতে তার অপারগতার কথা জানালে বালক পরদিন সকালে সারা শহর ঘুরে রাজার হংসশাল থেকে একটি খোঁড়া হাঁস চুরি করে আনে। ব্রাহ্মণী সেই হাঁসের মাংস রান্না করে দিলে বালক পরম তৃপ্তি সহকারে তা গ্রহণ করে। এদিকে হংসশালে খোঁড়া হাঁসটিকে দেখতে না পেয়ে রাজা রেগে আগুন হয়ে যান। রাজদূত ব্রাহ্মণীর ঘরের সামনে ছাইগাদায় হাঁসের পাখা দেখে বালককে ধরে আনে রাজার কাছে।

এরপর ক্রুদ্ধ রাজা বালকের মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব দিলে ব্রাহ্মণীর মাথায় বজ্রাঘাত হয়। সেই সময় গ্রামে এক বাড়িতে সুবচনী পূজা হচ্ছিল। ব্রাহ্মণী সেখানে গিয়ে পুত্রের মুক্তিকামনায় সুবচনীর কাছে মানত করে। রাত্রে দেবী রাজাকে স্বপ্ন দিয়ে বলেন, রাজা লোকের কথা শুনে যাকে খোঁড়া হাঁস হত্যার অপরাধে বন্দীশালে আটক করেছেন, সে দেবীর ব্রতদাস। তাছাড়া খোঁড়া হাঁসকে তো কেউ মারেনি। পরদিন সকালে হংসশালে গেলেই রাজা হাঁসটিকে দেখতে পাবেন। দেবী রাজাকে আদেশ করেন, ব্রাহ্মণবালককে মুক্তি দিয়ে তাঁকে অর্ধরাজ্য ও নিজ কন্যা শকুন্তলাকে দান করতে। দেবীর আদেশানুসারে পরদিন সকালে হংসশালে গিয়ে রাজা সত্যই দেখেন যে হাঁসটি নৃত্য করছে। দেবীর কৃপায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে সেটি। তখন রাজা বালককে মুক্তি দেন এবং দেবীর আদেশ মতো তাকে অর্ধরাজ্য দান করে নিজ কন্যার সহিত তার বিবাহ দেন। তারপর প্রভূত ধনরত্ন ও স্ত্রীকে নিয়ে বালক নিজের মায়ের কাছে ফিরলে ব্রাহ্মণী আশ্চর্য হয়ে যান। তখন তিনি নিজের বাড়ির আঙিনায় সুবচনীর পূজা করেন।

জানা যায়, সুবচনী পুজোর প্রসাদ হিসাবে খই, বাতাসা, সন্দেশ, নাড়ু, মুড়কি, ফল (কাঁঠালি কলা আবশ্যক), মিষ্টি, থাকে। এছাড়া গোটা পান, গোটা সুপারি, কড়ি, গাঁট হলুদ, বাটি ভর্তি সর্ষের তেল, গোলা ও গুঁড়ো সিঁদুর এই পুজোর কিছু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী । কলা, পান, সুপারি এগুলো জোড় সংখ্যায় দেওয়া হয়। রীতি অনুসারে, যাঁদের বিয়ে উপলক্ষে ব্রতটি হচ্ছে, সেই দম্পতিকে পূজার স্থানে উপস্থিত থাকতে হয়। অনেক পরিবারে নব দম্পতিকে বিয়ের শাড়ি-জোড় পড়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসে ব্রত কথা শোনার চল আছে।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00