Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

‘সুন্দর’ মুখের ফাঁদে NRI তরুণ, খোয়ালেন আড়াই কোটিরও বেশি টাকা

Share:

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিয়ের স্বপ্ন, মন ছুঁয়ে যাওয়া প্রোফাইল, প্রেমের মিষ্টতা মাখা কথাবার্তা , তারপর একদিন বিশ্বাস ভাঙা। পাত্র দেখলেন যাকে এত বিশ্বাস করলেন, ভালবাসলেন সেই আখেরে তাঁকে সর্বস্বান্ত করল। সম্প্রতি ইন্দোর ক্রাইম ব্রাঞ্চ এমনই একটি প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছে। এক এনআরআই যুবককে একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রেমের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছে। এ কাহিনী কোনও ক্রাইম থ্রিলারের চেয়ে কম কিছু নয়।

অন্ধ্রপ্রদেশের যুবক ভেঙ্কট কালাগা বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনায় একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত। বিয়ের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজছিলেন তিনি। ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে তাই নিজের প্রোফাইল তৈরি করেন। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর মন কেড়ে নেয় অন্য আর একটি প্রোফাইল। এক সুন্দরী যুবতী, ব্যক্তিত্বময়ী, সরল কথাবার্তা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রবল। অচিরেই সে ভেঙ্কট কালাগারের মন কেড়ে নেয়। নাম বরখা জয়সওয়ানি, ইন্দোরের বাসিন্দা।

ভেঙ্কট নিজেই প্রোফাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর হোয়াটস অ্যাপে নম্বর বিনিময়, কথা বলা শুরু। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়, বরখা জানায় সে বিয়ে করতে চায় ভেঙ্কটকে। কিছুদিনের মধ্যেই নিজের খারাপ লাগা, ভাল লাগা, অসুস্থতা, বাড়িতে আর্থিক সমস্যা, ঋণ, সর্বোপরি আমেরিকায় এসে দেখা করার ইচ্ছা সবই প্রকাশ করে। ফলে ভেঙ্কট তার সঞ্চয় থেকে টাকা পাঠাতে থাকেন।

কখনও চিকিৎসার জন্য জরুরি প্রয়োজনে, কখনও বিমানের টিকিটের জন্য, কখনও বাড়ির জন্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত- ভেঙ্কট মোট ২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেছিলেন। একসময় আমেরিকার প্রবাসী ভারতীয় তরুণটির সন্দেহ হতে শুরু করে। তিনি বারবার ভিডিও কল করার জন্য জোর দিতে থাকেন। এখানেই আসে কাহিনীর মোড়। ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে দেওয়া ছবির সঙ্গে ভিডিও কলে বরখার মুখশ্রীর কোনও মিল ছিল না। যে পেশার কথা উল্লেখ করাও ছিল তাও সত্যি নয়, এমনটা জানতে পারেন ভেঙ্কট।

সন্দেহ আরও ঘনীভূত হতে থাকলে, ভেঙ্কট আমেরিকা থেকে ভারতে এসে সরাসরি ইন্দোর পুলিশের কাছে যান। তিনি ক্রাইম ব্রাঞ্চে অভিযোগ দায়ের করেন। ডিসিপি ক্রাইম ব্রাঞ্চ রাজেশ ত্রিপাঠী বিষয়টি তদন্ত শুরু করেন এবং মামলাটি প্রকাশ্যে আসার সাথে সাথে সাইবার জালিয়াতির স্তরগুলি উন্মোচিত হতে থাকে।

তদন্তে জানা গেছে যে ভেঙ্কট যে ছবিগুলো দেখে ভেঙ্কট আকর্ষিত হয়েছিলেন, সেগুলি একজন বিখ্যাত ইনস্টাগ্রাম মডেলের। প্রোফাইল তৈরি করার জন্য গুগল থেকে ডাউনলোড করা হয়েছিল আসলে। প্রোফাইলটি তৈরি করেছিল সিমরান জয়সওয়ানি নামে ২৭ বছছর বয়সী এক ইন্দোরের বাসিন্দা। ভাই বিশাল জয়সওয়ানির সাহায্যে এই প্রোফাইলটি বানিয়েছিল সে।

ক্রাইম ব্রাঞ্চ প্রথমে ইন্দোর থেকে সিমরানকে এবং তারপর আহমেদাবাদ থেকে বিশালকে গ্রেফতার করে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে, অভিযুক্তরা জানিয়েছে যে তারা প্রতারণার টাকা দিয়ে তাদের ঋণ পরিশোধ করেছে, গাড়ি কিনেছে, নিজস্ব পোশাকের ব্যবসাও শুরু করেছে। দুজনকেই পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ডিসিপি রাজেশ ত্রিপাঠী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের সাইবার অপরাধ বাড়ছে। মানুষ আবেগে ভেসে যায় এবং যাচাই না করেই টাকা স্থানান্তর করে, যার সুযোগ নেয় এই চক্রগুলি। তাই সাবধানে থাকুন, সতর্ক থাকুন।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00