Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

জানেন কী, কত সালে জন্ম হয়েছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের?

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় :              হে কৃষ্ণ করুণা সিন্ধু দীনবন্ধু জগৎপথে।

                                               গোপেশ গোপীকা কান্ত রাধা কান্ত নমহস্তুতে।।

                                                    নম ব্রহ্মণ্য দেবায় গো ব্রহ্মণ্য হিতায় চ।

                                            জগদ্ধিতায় শ্রীকৃষ্ণায় গোবিন্দায় বাসুদেবায় নমঃ নমঃ।।

লীলাবতার শ্রীকৃষ্ণ হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান দেবতা, যিনি জগৎপালক শ্রী বিষ্ণুর অষ্টম অবতার এবং স্বয়ং পরমেশ্বর রূপে পূজিত। তিনি সুরক্ষা, করুণা, কোমলতা ও প্রেমের দেবতা হিসেবে হিন্দু সমাজে সর্বাধিক জনপ্রিয়। প্রতি বছর তাঁর আবির্ভাবের স্মরণে চন্দ্র-সৌর হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণা অষ্টমী তিথিতে ভক্তরা কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন। তবে জানেন কী, শ্রীকৃষ্ণ কত বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ? হ্যাঁ, এই প্রশ্নটি আপনার আমার মতো বহু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরই জিজ্ঞাস্য।

কৃষ্ণের জীবন কাহিনী ও উপাখ্যানকে “কৃষ্ণলীলা” বলা হয়ে থাকে। মহাভারত, ভাগবত পুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ ও শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতায় তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র। এসব গ্রন্থে তাঁকে বিভিন্ন রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে—শিশু ঈশ্বর, কৌতুকপ্রিয় বালক, আদর্শ প্রেমিক, ঐশ্বরিক নায়ক এবং সর্বজনীন পরমসত্তা হিসেবে। তাঁর চিত্ররূপেও এই বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটে—যেমন মাখন খেতে থাকা শিশু, বাঁশি বাজানো কিশোর, রাধা ও গোপীদের পরিবেষ্টিত যুবক, কিংবা অর্জুনের সারথি ও উপদেশদাতা।

জানা যায়, প্রাচীন গ্রন্থ ও পুরাণ অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোহিণী নক্ষত্রে, বুধবার, শ্রাবণ মাসের অষ্টমী তিথিতে হয়েছিল। তিনি পৃথিবীতে মোট ১২৫ বছর লীলাবিলাস করে বৈকুণ্ঠে গমন করেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ৮৯ বছর, আর যুদ্ধের ৩৬ বছর পরে তিনি দেহত্যাগ করেন। কিছু বর্ণনায় তাঁর জীবনকাল ১২৫ বছর, ৮ মাস ও ৭ দিন ধরা হয়েছে অর্থাৎ, ১২৫ বছর পূর্ণ করে ১২৬ বছরে পড়ার পরেই লীলা পুরুষোত্তমের লীলাবসান ঘটে।

শ্রীকৃষ্ণের জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখযোগ্য—৩২২২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি গোবর্ধন পর্বত উত্তোলন করেন, যা দেবতুল্য শক্তির প্রকাশ। ৩২১৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে, মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি মথুরার অত্যাচারী রাজা তাঁর আপন মামা কংসকে বধ করেন ও বেশ কিছু কাল মথুরাতে রাজত্ব করেন। কথিত আছে, এরপর কংসের শ্বশুর জরাসন্ধ মথুরা আক্রমণ করলে শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকায় নিজের রাজধানী স্থাপন করেন। কিছু প্রাপ্ত প্রাচীন পুঁথি অনুসারে ৩১৪০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ৮৯ বছর বয়সে, তিনি মহাভারতের ঘোষণা দেন এবং ১৮ দিনের ভয়ঙ্কর কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে পাণ্ডবদের পক্ষে কৌশল ও উপদেশ দেন। যুদ্ধ শেষে তিনি দ্বারকায় ফিরে যান।

৩১০২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গুজরাতের ভালকা অঞ্চলে জরা নামক এক ব্যাধের তীরে তাঁর মানবজীবনের অবসান ঘটে। সেই দিনটি ছিল মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথি। এই দিনেই এই মহাজীবনের জীবনাবসান হয়ে কলিযুগের সূচনা হয়। হিন্দু ধর্ম মতে, কলিযুগের শুরু ৩১০১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এবং ২০২৫ সালে কলির বয়স দাঁড়ায় ৫১২৬ বছর। এভাবে হিসাব করলে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৫২৫১ বছর পূর্বে; অর্থাৎ, খুব সহজেই বুঝতে পারা যাচ্ছে, ১৪৩১ সালের (ইং ২০২৫) জন্মাষ্টমী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫১ তম জন্মাষ্টমী।

শ্রীকৃষ্ণের লীলাময় জীবন ভক্তদের কাছে শুধু ধর্মীয় অনুপ্রেরণাই নয়, ন্যায়, প্রেম, সাহস ও করুণার এক অসীম উদাহরণ। শৈশবে গোপালরূপে দুষ্টুমি, কৈশোরে গোপীদের সঙ্গে প্রেমলীলা, যৌবনে রণাঙ্গনে বীরত্ব, এবং জীবনের অন্তিম পর্বে ত্যাগ—সবই তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি। তিনি শুধু দেবতা নন, মানবীয় গুণাবলী ও দৈব শক্তির সমন্বয়ে এক অনন্য মহাপুরুষ, যিনি যুগে যুগে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন।

আজও ভক্তরা বিশ্বাস করেন, শ্রীকৃষ্ণের বাণী ও কর্মে নিহিত সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম। জন্মাষ্টমীর প্রতিটি উদযাপন শুধু তাঁর জন্মস্মরণ নয়, বরং মানব জীবনে প্রেম, ন্যায় ও শান্তির বার্তা পুনরুজ্জীবিত করার একটি পবিত্র মুহূর্ত। হরে কৃষ্ণ।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00