Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

বিজেপিকে প্রধান শত্রু বানাননি বামেরা, তাই নিশ্চিহ্ন হয়েছেন! দাবি দীপঙ্করের

ভোটে বাংলা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পরে বাম শিবিরকে কাঠগড়ায় তুললেন সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সাফ জানালেন, বাংলার বাম শিবির বিজেপিকে তাঁদের প্রধান শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করতে পারেননি। তাই বাংলা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছেন। ছেড়ে কথা বললেন না মোদিকেও।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি কার্যত তৃণমূলের পক্ষেই বার্তা দিয়েছিলেন। সাফ জানিয়েছিলেন প্রধান শত্রু কে সেটা চিহ্নিত করে এ রাজ্যের বামেরা যেন মাঠে লড়াই করতে নামেন। সেই প্রধান শত্রু যে বিজেপি সেটাও সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর পরোক্ষ পরামর্শ ছিল, বাংলায় বিজেপিকে ঠেকাতে বামেরা যেন তৃণমূলনেত্রীর হাত শক্ত করেন। কিন্তু তাঁর সেই পরামর্শ পছন্দ হয়নি বাংলার বাম শিবিরের। এবার ভোটে বাংলা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পরে সেই বাম শিবিরকেই কাঠগড়ায় তুললেন তিনি, মানে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। রাজ্যের প্রথম শ্রেনীর এক দৈনিক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বাংলার বাম শিবির বিজেপিকে তাঁদের প্রধান শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করতে পারেননি। তাই বাংলা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছেন। একই সঙ্গে দীপঙ্করবাবু মোদির কৃষি আইন নিয়ে পিছু হটাকেও বিজেপির পরাজয় হিসাবেই চিহ্নিত করেছেন।

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে এবারে বামেরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছেন। স্বাধীনতের পরে এই প্রথম বাংলার বিধানসভায় একজনও বাম বিধায়ক নেই। সেই প্রসঙ্গ টেনেই দীপঙ্করবাবু জানিয়েছেন, ‘ভোটের আগেই আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম, প্রধান শত্রু এক জনই। এ ক্ষেত্রে সেটা ছিল বিজেপি। আমি বলেছিলাম, বামপন্থীরা রাজ্যে বিজেপি-কেই এক নম্বর টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করুক। তা হলে হয়তো পরিস্থিতি একটু অন্য রকম হত। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলই হয়তো ক্ষমতায় থাকতো, কিন্তু আসন হয়তো কমে ২০০ হত। বিজেপি-র আসন কমে ৫০-এর আশেপাশে থাকত। বামপন্থীদের অন্তত ২০-২৫টি আসন থেকে যেত। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিজেপিকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে পারলেন না আমার সিপিএমের বন্ধুরা। বিজেপিকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা গেলে ভোটের ফলও হয়তো খানিকটা অন্যরকম হত। বাংলার মানুষ বিজেপিকে রুখতে হাতের কাছে তৃণমূলকে বেছে নিয়েছে। কারণ গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষমাত্রই জানেন, বিজেপির থেকে অন্য যে কোনও দল অনেক ভাল। ২০২১ সালে দাঁড়িয়ে, বামপন্থী হয়ে বিজেপিকে প্রধান শত্রু বলতে পারছি না, এই ভুলটা আমরা করতে চাইনি। আর তাই আমরা আলাদা থেকেছি।’

তবে দীপঙ্করবাবু এটাও জানাচ্ছেন যে এ রাজ্যে এখনও চাইলে বামেরা ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। তাঁর অভিমত, ‘বিধানসভার পর পরিস্থিতি একটু ভাল। কারণ বিজেপির উচ্চকিত কোলাহলে অনেকেই মনে করেছিলেন, রাজ্যে বুঝি বিজেপি সরকার তৈরি হয়েই গেল। কিন্তু দেখা গেল, বিজেপি তার ধারেকাছেও পৌঁছতে ব্যর্থ। এই মুহূর্তে বামপন্থীদের কাজ হওয়া উচিত, বিজেপি-কে রাজ্যে তৃতীয় শক্তিতে পরিণত করা। তৃণমূল ক্ষমতায় আছে, সেখানে বামপন্থীদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসতে হবে। রাজ্যে বড় গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তার মধ্যে দিয়েই বাংলায় বামশক্তির পুনরুত্থান সম্ভব। বিজেপিকে তৃতীয় শক্তিতে পরিণত করাটা বামপন্থীদেরই কাজ। আগামী দিনে বামপন্থীরা বাংলায় প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাবেন কিনা, সেটা তার ওপরেই নির্ভর করছে। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর সরকার তৈরি হওয়ার সময় থেকে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বিভাজিকা তৈরি হয়েছে। মোদী-যোগীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক সম্পূর্ণ নতুন ধারার রাজনীতির। সেখানে বামপন্থা বা অবামপন্থা নিয়ে আলোচনার সময় নেই। রাজনীতির সম্পূর্ণ নতুন এই পর্যায়ে বামপন্থীদের সমস্ত বিজেপিবিরোধী শক্তিকে নিয়ে গণ আন্দোলনের পথে যেতে হবে।’

দীপঙ্করবাবু কেন্দ্র সরকারের কৃষি আইন প্রত্যাহার নিয়েও বিজেপিকে ঠুকেছেন। জানিয়েছেন, ‘শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, রাস্তায় পড়ে থেকে কৃষকরা ৫৬ ইঞ্চির প্রধানমন্ত্রীকে নতি স্বীকারে বাধ্য করেছেন, এটা বিরাট জয়। নরেন্দ্র মোদীর সরকার কেন এত দিন দৃঢ় ভাবে বিতর্কিত তিন কৃষি আইনের পক্ষে সওয়াল করেও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হল কেন? আসলে এর পিছনে আছে নির্বাচনী সমীকরণ। হালের উপনির্বাচনে বিজেপি-র ফলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা আগামীর নিশ্চিত ভরাডুবি দেখতে পেয়ে সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদীরা। বিজেপি বুঝতে পেরেছে অবস্থা খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে। তাই মরিয়া হয়ে কৃষকবান্ধব সাজার চেষ্টা করছেন মোদী। আন্দোলনকারী কৃষকদের কিছু দিন আগে পর্যন্ত খালিস্তানি, মাওবাদী, দালাল, উগ্রপন্থী— কত কিছু বলা হয়েছে। তার ফল কী হল? প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণাতেও লুকিয়ে আছে চালাকি এবং অহঙ্কার। উনি বললেন, দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি, কৃষকদের একটা ছোট অংশকে আমি বোঝাতে পারিনি। কৃষকরা কৃষি বোঝে না? ওটা আরএসএস, অম্বানী, আদানিরা বোঝে? এক বছর আগে কৃষকদের দাবি মেনে নিলে এতগুলো লোককে প্রাণ হারাতে হত না। যত ক্ষণ না পর্যন্ত আইন সংসদে বাতিল হচ্ছে, তত ক্ষণ কৃষকরা রাস্তায় থাকবেন। না আঁচালে বিশ্বাস নেই।’

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00