Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

শান্তনুর যাত্রাভঙ্গের আশায় প্রহর গুণছেন বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের ক্ষুব্ধ ভোটাররা

বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে ১ বারের বেশি কেউই জয়ী হতে পারেনি। দেখার বিষয় এবারে শান্তনু ঠাকুরের ভাগ্যে কী আছে।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০০৯ সালের আগে এই লোকসভা কেন্দ্রের কোনও অস্তিত্বই ছিল না। কিন্তু এই লোকসভা গঠনের পরে এই কেন্দ্র থেকে পর পর ২ বার কেউ জিততে পারেননি। এবার অনেকেই তাই তাকিয়ে আছেন, এই অঘোষিত প্রথা এবারে কেউ ভেঙে দেখাতে পারেন কিনা তা দেখতে। যদিও ভোটারদের একটা বড় অংশই দাবি করছেন, তাঁরা আদতে এই অঘোষিত প্রথা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। মাথা ঘামাচ্ছেন শান্তনু ঠাকুরের(Shantanu Thakur) সাম্রাজ্যের পতন ঘটাতে। নজরে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র(Bongna Constituency)। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর, গাইঘাটা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ ও বাগদা এবং নদিয়া জেলার হরিণঘাটা ও কল্যাণী এই ৭টি বিধানসভা নিয়ে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র গঠিত হয় ২০০৯ সালে। সেবার জয়ী হন তৃণমূলের প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র নস্কর। ২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকেই ফের জয়ের মুখে দেখেছিল তৃণমূল। তবে বদলে গিয়েছিল প্রার্থী। সেবার তৃণমূলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর জেরে ২০১৫ সালে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন কপিলকৃষ্ণের স্ত্রী মমতাবালা ঠাকুর। আবার ২০১৯ সালে এই মমতাবালাকে হারিয়েই জয়ী হন শান্তনু ঠাকুর। অর্থাৎ ১ বারের বেশি কেউই কেন্দ্র থেকে জয়ী হতে পারেনি। দেখার বিষয় এবারে শান্তনুর ভাগ্যে কী আছে।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ১০ বছর বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র ছিল তৃণমূলের(TMC) দখলে। সেই দখলের নেপথ্যে ছিল মতুয়া সমাজের সমর্থন। অবিভক্ত বাংলায় নমঃশূদ্র হিন্দুদের একত্রিত করে তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও সামাজিক মানোন্নয়নের সর্বাত্মক প্রয়াস নিয়েছিলেন হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুর। মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেকই বিভিন্ন দল থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে আইনসভায় গিয়েছেন। কিন্তু চূড়ান্ত রাজনৈতিক সচেতনতা থাকলেও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাতি প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের আগে ঠাকুরবাড়ির কেউ সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু মতুয়াদের ঠাকুরবাড়ির ২জন সদস্যকে লোকসভায় পাঠিয়েছেন। কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর ও তাঁর স্ত্রী মমতাবালা ঠাকুরকে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মমতাবালা পরাজিত হন শান্তনুর কাছে। কিন্তু গতবছর মমতাবালাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে দিয়েছেন মমতা। সেই হিসাবে শান্তনু আগামী দিনে আর সাংসদ থাকতে পারুন বা না পারুন, মমতাবালা কিন্তু সাংসদ থেকেই যাচ্ছেন। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এবারে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হচ্ছে সব থেকে কঠিন সময়ের মধ্যে। একদিকে CAA লাগুর আতঙ্ক, অন্যদিকে NRC লাগু হওয়ার ভয়। মতুয়া(Matua Society) অধ্যুষিত এই কেন্দ্র এই দুই কারণেই কার্যত ফুঁসছে বিজেপির বিরুদ্ধে।

মতুয়ারা দীর্ঘদিন ধরেই নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েই ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে মতুয়াদের ভোট চেয়েছিল বিজেপি(BJP)। সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে মতুয়ারা দুই হাত ভরে ভোট দিয়েছিল বিজেপিকে। তার জেরেই বিজেপি প্রার্থী হিসাবে শান্তনু ঠাকুর জয়ী হয়েছিলেন ১ লক্ষ ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে। তিনি পেয়েছিলেন ৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ভোট আর তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে মমতাবালা পেয়েছিলেন ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ভোট। উনিশের ভোটে বাংলায় জোট ছিল না বাম-কংগ্রেসের। দুই দলই আলাদা আলাদা ভাবে তাই প্রার্থী দিয়েছিল। বাম প্রার্থী অলকেশ দাস ৯০ হাজার ভোট পেয়ে উঠে এসেছিলেন তৃতীয় স্থানে আর কংগ্রেস প্রার্থী চতুর্থ হয়েছিলেন মাত্র ২২ হাজার ভোট পেয়ে। ওই নির্বাচনে স্বরূপনগর ব্যতীত বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা বাকি ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রেই লিড তুলেছিল বিজেপি। একুশের ভোটেও ওই ৬ বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল বিজেপি, স্বরূপনগরে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু সেই জয়ের পরেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র এলাকায় মুখ থুবড়ে পড়ে বিজেপি। নেপথ্যে ছিল বিজেপির তরফে CAA লাগু করা নিয়ে দেরী করার ঘটনা।

কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের ঘোষণার কিছুদিন আগেই কেন্দ্রের মোদি সরকার দেশজুড়ে সেই CAA লাগু করেছে। কিন্তু তাতে চূড়ান্ত ভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন মতুয়ারা। তাঁদের দাবি ছিল নিঃশর্ত নাগরিকত্ব। কিন্তু কেন্দ্রের সরকার তাঁদের দিচ্ছে শর্তসাপেক্ষ নাগরিকত্ব। আর তাতেই দলে দলে মতুয়ারা বিজেপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই ৫ বছরে শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে বিজেপির আদিনেতাকর্মীদের পাশাপাশি মতুয়া সমাজের একটা বড় অংশেরই। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করে আসা নেতা-কর্মীদের হাত থেকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র ও মহকুমা এলাকায় দলের ব্যাটন কার্যত চলে গিয়েছে শান্তনু ঠাকুরের হাতে। ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের আদি-নব্য বহু নেতা। শান্তনুবাবুর ঘনিষ্ঠ লোকজন ছাড়া আলোকবৃত্তে আসার সুযোগ পাচ্ছেন না কেউ। এঁদের একটা অংশ দলে নিজেদের অস্তিত্ব ও গুরুত্ব বোঝাতে শান্তনুর বিরুদ্ধে বিভীষণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। মতুয়া সম্প্রদায় এই কেন্দ্রে আলাদা নির্দল প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপির বিক্ষিব্ধ নেতা এই কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন। বিজেপির বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসাবে জিতেও বিশ্বজিৎ দাস এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন। সেই সঙ্গে বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে অনেকটাই বদলে গিয়েছে বনগাঁ লোকসভায় গেরুয়া রাজনীতির হালচাল। এখন পদ্মশিবিরেরই অনেকে বলছেন, ‘অহংকারী’ শান্তনু ঠাকুরের নিয়ন্ত্রণ থেকে দলকে মুক্ত করতে যা করা উচিত, এবার তাঁরা সেটাই করবেন। এক বিভীষণে ধ্বংস হয়েছিল সোনার লঙ্কা। ২৪’র ভোটে(Loksabha Election 2024) শান্তনুর বিরুদ্ধে তাল ঠাউকছে একাধিক বিভীষণ। কেউ মতুয়া সমাজের, কেউ বিজেপির। যা অবস্থা, তাতে মোদি এলেও এবার ঠাকুরের তরী তীরে ভিড়বে বলে মনে হচ্ছে না! কারণ, হাওয়া বড্ড এলোমেলো। এর পাশাপাশি মাথাচাড়া দিয়েছে, হারের আতঙ্ক। গৃহযুদ্ধে বিদীর্ণ গেরুয়া শিবিরের পোড় খাওয়া যোদ্ধারা সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন। সকলের একতা জিজ্ঞাস্য, দ্বিতীয়বার একই আসনে দাঁড়িয়ে পরাজয়ের ইতিহাস কী ভাঙতে পারবেন শান্তনু? অনেকেই কিন্তু মনে করছেন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা মাত্র। শান্তনুর পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।

কৃষ্ণনগরের ঈশিতা খুনে গ্রেফতার ‘প্রেমিক’ দেশরাজ, পৈত্রিক বাড়িতেই ৭দিন লুকিয়ে

সাময়িক বিরতির পর দক্ষিণবঙ্গে ঝেঁপে আসছে বৃষ্টি, কোন কোন জেলা ভিজবে?

মানসিক স্ট্রেস কমাতে হেড ম্যাসাজ মুশকিল আসান

শুধু মিষ্টি নয়, দাঁত ক্ষতি করতে পারে আপনার প্রিয় খাবারগুলি, জেনে নিন সেগুলি কী কী?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এই ৩টি জিনিস দেখা বয়ে আনে দুর্ভাগ্য

এই ফুলগুলি দিয়ে পুজো করলে প্রসন্ন হন গণপতি

0:00