নিজস্ব প্রতিনিধি, তিরুঅনন্তপুরম: ওয়েনাডের ভূমিধসে মৃত্যুর মিছিল যেন ঘড়ির কাঁটাকেও হার মানাচ্ছে। ক্রমশই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুমিছিলের সারি। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৬। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিখোঁজের সংখ্যাও। নিখোঁজের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তুপের ভিতরে প্রিয়জনের খোঁজ চাল;ইয়ে যাচ্ছেন স্বজনহারানো। প্রকৃতির অভিশাপ এতটা নির্মমভাবে নেমে আসবে তাঁদের উপরে তা ভাবতেই পারেননি। সেনাবাহিনী-সহ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা যুদ্ধকালীন ত‍ৎপরতায় উদ্ধারকার্য চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিকুল আবহাওয়ার জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গত সোমবারেও পাহাড়ের ঢালে ছিল সুদৃশ্য চুরালমালা, মুন্ডাক্কাই, অট্টামালা এবং নুলপুঝা গ্রাম। কিন্তু মঙ্গলবার সেই দৃশ্য একেবারে বদলে গিয়েছে। গভীর রাতে নামা ধশে মুনডাকা্ই ও চুরালমালা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। ভূমিধসে তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে কয়েকশো বাড়ি ঘর। ঘুমের ঘোরেই ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে যান কয়েকশো সাধারণ মানুষ। উদ্ধারকার্য শুরু হওয়ার পর থেকে ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে ক্রমশই উদ্ধার হচ্ছে পচে গলে যাওয়া মৃত দেহ। ধ্বংসস্তুপের নিচে প্রিয়জন বেঁচে রয়েছেন এমন আশা নিয়ে পাগলের মতো খুঁজে  বেড়াচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। একসময়ে পর্যটকদের ভিড়ে যে দুই গ্রাম গমগম করত আজ সেই গ্রামগুলির আকাশ-বাতাস ভরে শুধু আর্তনাদ আর কান্নায়। সেই ভারী কান্না পরিবেশকে আরও আসহনীয় করে তুলেছে।

তবে প্রকৃতির রোষে বিপর্যস্ত ওয়েনাডের বিপদ এখনই কাটছে না। ভূমিধসে উদ্ধার কার্য চালাতে গিয়ে যখন হিমশিম খেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের তখনই দুসংবাদ শুনিয়েছেন মৌসম ভবন। কমলা সতর্কতা জারি করে পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওয়েনাড় এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দুর্যোগ এবং ভারী বৃষ্টির সতর্কতার কারণে কেরলের বিভিন্ন জেলায় বুধবার বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ। রাজ্যে দু’দিনের শোক পালনের ডাক দিয়েছে পিনারাই বিজয়নের সরকার। বুধবারই ভূমিধসে বিপর্যস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ওয়েনাডে যাওয়ার কথা ছিল রাহুল ও প্রিযাঙ্কা গান্ধির। কিন্তু প্রতিকুল আবহাওয়ার জন্য যেতে পারেননি। আজ বৃহস্পতিবার যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের।