নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: অর্থ আর পেশিশক্তির জোরে অনেকেই বিনা ভোটে সাংসদ থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হয়ে যেতেন। গত ৫৩ বছর ধরে একটা কথা চালু হয়ে গিয়েছিল, ‘জোর যার তিনিই মেম্বার।’ তবে ক্ষমতাশালীদের অর্থ আর পেশিশক্তির বিনিময়ে ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ। বিনা ভোটে এখন থেকে কেউ আর ভোটে জয়ী হতে পারবেন না।। কেননা ব্যালটে এবার প্রার্থীদের পাশাপাশি থাকছে ‘না’ ভোট (ভারতের নোটার আদলে)। ফলে ভোটের দিন ইচ্ছুক ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই (রমজান শুরুর আগে) দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আজ সোমবার (১১ অগস্ট) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসেছিল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ওই বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানান, ‘বিনা ভোটে জয়ী হওয়ার দিন শেষ হচ্ছে।। কোনও আসনে একজন প্রার্থী থাকলে তিনি আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন না। এক্ষেত্রে না ভোটের সঙ্গে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। এক্ষেত্রে না ভোটের চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বেশি ভোট পেলেই তিনি নির্বাচিত হবেন।’

যদি কোথাও ‘না’ এর ঘরে বেশি ভোট পড়ে তাহলে কী হবে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘কোনও আসনে একজন প্রার্থী থাকলে তাঁকে না ভোটের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। যদি ‘না’ ভোট বেশি হয়, তাহলে ফের নির্বাচন হবে। পরের নির্বাচনেও যদি একক প্রার্থী থাকে, তবে আর ভোট হবে না। ওই প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন।’ পাশাপাশি কোনও দল যদি জোট বাঁধে তাহলেও ওই জোটের প্রার্থীকে নিজের দলের প্রতীকেই লড়তে হবে। সেই সঙ্গে লটারিতে জয়-পরাজয় নিষ্পত্তির প্রথাও উঠে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার। তাঁর কথায় ‘নির্বাচনে এতদিন দুজন প্রার্থি সমান সংখ্যক ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে জয়ী নির্ধারণ করা হতো। এখন থেকেই বিজয়ী নির্ধারণের এই পন্থা আর থাকছে। সমান ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট আসনে পুনর্নির্বাচন হবে।’