নিজস্ব প্রতিনিধি: সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে বঙ্গ বিজেপির(Bengal BJP) সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার(Sukanta Majumdar) প্রস্তাব দেন উত্তরের ৮ জেলা বাংলার অংশ হিসাবে থাকলেও উত্তর-পূর্বের সঙ্গে জুড়ে দিতে। এতে উত্তরবঙ্গকে উত্তর-পূর্বের অংশ হিসাবে ধরা হলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাগুলি পেতে সুবিধা হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলেও মনে করেন তিনি। তারপর থেকেই বাংলা থেকে নির্বাচিত একের পর এক বিজেপি সাংসদ থেকে বিধায়কেরা বাংলা ভাগের দাবি তুলতে থাকেন। কারও চাই গ্রেটার কোচবিহার, কারও চাই গোর্খাল্যান্ড, আবার কিছুদিন আগেই বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে লোকসভায় দাবি তোলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বাংলার এটা অংশের জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে। তাই বাংলা ও বিহারের কয়েকটি জেলা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হোক। মালদা, মুর্শিদাবাদ, বিহারের কাটিহার, আরারিয়া ও কিষাণগঞ্জকে নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হোক। সেই সব প্রস্তাবের বিরুদ্ধে রাজ্য বিধানসভায়(West Bengal State Assembly) সরব হয়েছেন তৃণমূল(TMC) সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এবার রাজ্য বিধানসভায় এই বাংলা ভাগের প্রস্তাবগুলির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব(Censure Motion) আনল তৃণমূল।
আরও পড়ুন অভিষেকের বক্তব্যে জল্পনা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ ঘিরেও, তবে অধীরযুগ অতীত
বৃস্পতিবার বিধানসভার বুলেটিনে প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলা ভাগের চেষ্টার অভিযোগকে সামনে রেখে নিন্দা প্রস্তাব এনেছে তৃণমূল। বিধানসভায় ১৮৫ নম্বর ধারায় এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলা ভাগের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। রাজ্যের সকল শ্রেণির ঐক্য, সংহতি, শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গকে অটুট রাখার জন্য সকল স্তরের জনগণের কাছে আবেদন জানাচ্ছে বিধানসভা, বলা হয়েছে প্রস্তাবের শেষ অংশে। এই ধরনের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার জন্য বিধানসভা রাজ্য সরকারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ করছে বলেও উল্লেখ রয়েছে প্রস্তাবে। নাম না করে সুকান্ত মজুমদারের কথাও প্রস্তাবে বলা হয়েছে। উত্তর পূর্বের সঙ্গে সংযুক্ত করা রাজ্য ভাগের নামান্তর বলা হয়েছে শাসকশিবিরের আনা প্রস্তাবে। নাম না করে উল্লেখ করা হয়েছে নিশিকান্ত দুবের মন্তব্যও। শাসক শিবিরের বক্তব্য, বিজেপি নেতারা বিভাজনের পক্ষে সওয়াল করছেন। রাজ্য ভাগের গভীর চক্রান্ত করছেন অনেক বিজেপি নেতা বলেও প্রস্তাবে লেখা হয়েছে। বিজেপি আশানুরূপ ফল না করায় বিভাজনের রাজনীতি অবলম্বন করে উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান রাখেনি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে সেখানে। সংকীর্ণ রাজনীতির জন্য বিজেপি উন্নয়নে অর্থ দেয়নি বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর। আগামী সোমবার বিধানসভায় আলোচনার জন্য আসবে বাংলা ভাগ বিরোধী নিন্দা প্রস্তাব।
আরও পড়ুন ১৫ বছরের বেশি সময়ের বাস উঠে গেল রাস্তা থেকে, যাত্রী ভোগান্তির আশঙ্কা
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী একহাত নিয়েছে বাংলা ভাগের দাবি তোলা বিজেপি নেতা থেকে বিধায়ক ও সাংসদদের। জানিয়েছেন, ‘ভোট চলে গেলেই ভাগাভাগি ইস্যুকে নিয়ে আসা হয়। এক জন বলছেন, মুর্শিদাবাদ-মালদহ ভেঙে দাও। কেউ বলছেন, অসমের তিনটি জেলাকে নিয়ে নতুন কিছু করো। কেউ আবার উত্তরবঙ্গকে উত্তর-পূর্বের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে বলছেন। উত্তরবঙ্গ থেকে এত আসন পেল ওরা, তবু বাজেটে কিছু দিল না! এখন আবার বিভাজনের রাজনীতি করছে। আমি ধিক্কার জানাই। আসুক বাংলা ভাগ করতে, কী করে রুখতে হয় দেখিয়ে দেব। ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ করা হয়েছে। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আলোচনা হোক বিধানসভায়। ভোটাভুটি হোক। বিধানসভাকে এড়িয়ে বাংলা ভাগ করার কথা বলা যাবে না। বিচ্ছিন্নতা নয়, ভাগাভাগি নয়। যারা এসব দাবি তুলবে, তারা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলুক। ভোটের সময় বিজেপি শুধু বাংলা ভাগ করার কথা বলে! শুধু আদিবাসী, গোর্খা, রাজবংশীদের আলাদা করে দেয়। যারা বলে আমরা কাজ করিনি, তারা নিজেরা কী করেছে, সেটা আগে দেখান। বাংলা ভাগ তো হবেই না। এর বিরুদ্ধে যারা আলোচনা করছেন, তাঁদেরও আমরা চাই না।’