নিজস্ব প্রতিনিধি: একুশের ভোটের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল ধমকানি চমকানি। কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে জেলে ঢোকানোর কাহিনী। কিন্তু কোনও কিছুতেই কোনও লাভ হল না। বাংলার(Bengal) মাটিতে একুশের ভোট জিতেছে তৃণমূল(TMC), হেরেছে বিজেপি(BJP)। বাইশের পুরসভা নির্বাচন জিতেছে তৃণমূল, হেরেছে বিজেপি। তেইশের পঞ্চায়েত নির্বাচন জিতেছে তৃণমূল, হেরেছে বিজেপি। চব্বিশেও এর কোনও পরিবর্তন ঘটল না। লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে সব থেকে বেশি আসন পেল তৃণমূল, বাড়ল তাঁদের আসন সংখ্যাও। আর বিজেপি, কমে গেল তাঁদের আসন সংখ্যা। আর তাতেও স্পষ্ট, কেন্দ্রীয় এজেন্সির জুজু কাজে দিচ্ছে না। আর তাই দলীয় কর্মিসভায় গিয়ে খোদ বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার(Sukanta Majumdar) বার্তা দিয়ে এলেন, ‘ভোটে জিততে গেলে সংগঠন মজবুত করাই একমাত্র রাস্তা। ইডি(ED)-সিবিআই(CBI) দেখিয়ে বা কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোটে জেতা যাবে না!’ কার্যত শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari) বিজেপিতে আসা ইস্তক দলকে যে পথে হাঁটা করিয়েছেন, নিজে প্রকাশ্য সভামঞ্চ থেকে বার বার যে হুমকি ধমকি দিয়েছেন, এদিন সুকান্ত যেন সেই পথেই একটা দাঁড়ি টেনে দিলেন। প্রশ্ন, সুকান্তের এই বক্তব্য কী তাঁর নিজস্ব নাকি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই তিনি এমন বার্তা দিলেন!
হুগলির হিন্দমোটর ও পান্ডুয়ায় কর্মিসভায় গিয়েছিলেন সুকান্ত। দু’জায়গাতেই দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, সব ছেড়ে আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করার লক্ষ্যে ঝাঁপানো জরুরি। দুই সভা থেকে সুকান্ত বলেন, ‘মোদিজি এসে ম্যাজিক ছড়িয়ে দেবেন আর আমরা শ্রীরামপুর জিতে যাব, এটা হবে না। অনেকেই বলে, দাদা সিবিআইকে বলুন, ওকে অ্যারেস্ট করিয়ে নিতে। তা হলেই আমরা জিতে যাব। হবে না! অনেকে বলে, ওকে জেলে ঢুকিয়ে দিন, জিতে যাব। তা-ও হবে না! অনুব্রত মণ্ডল তো ছিলেন। আছেন তো জেলে? বীরভূম জিতেছি আমরা? আপনি পরিশ্রম করে যদি সংগঠন তৈরি করতে পারেন, তা হলে জিতবেন। আর যদি পরিশ্রম করে সংগঠন তৈরি করতে না পারেন, যাকে খুশি অ্যারেস্ট করুন, কোনও দিন জিততে পারবেন না। ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করিয়েও কিছু হবে না! জিততে হলে দলীয় নেতা-কর্মীদেরই আরও সক্রিয় হতে হবে। সেটা বিরিয়ানির মশলার মতো। বিরিয়ানির চাল আর মাংস দলের কর্মীদেরই হতে হবে। তবেই ভাল বিরিয়ানি হবে।’
সুকান্তের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল। শাসকদলের নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘বিলম্বিত বোধোদয়! এ কথা তো আমরাই অনেক আগে থেকে বলে আসছি। আসলে রাজ্য বিজেপির ব্যাপারটা হচ্ছে বিরিয়ানির মশলা দিয়ে চচ্চড়ি রাঁধার মতো।’ কার্যত একুশের ভোটের পর থেকেই রাজ্যে বিভিন্ন ঘটনা ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তভার ইডি-সিবিআইয়ের হাতে গিয়েছে। ভোট-পরবর্তী হিংসা থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি, গরু পাচার, কয়লা পাচার, রেশন দুর্নীতি মামলায় শাসকদলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ইডি-সিবিআইকে ‘হাতিয়ার’ এ রাজ্যে ভোটে জিততে চাইছে বিজেপি। এ ক্ষেত্রে তাদের নিশানায় মূলত থাকেন শুভেন্দুই। কারণ, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে নানা জনসভা, কর্মিসভা থেকে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআই ডেকে তদন্ত করানোর হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে। তারিখ বেঁধে দেওয়ারও কথা শোনা গিয়েছে শুভেন্দুর মুখে। রাজ্য বিজেপির নেতারাও হেঁটেছেন সেই পথে। কিন্তু তার পরেও রাজ্যে বিশেষ কোনও সুবিধা হয়নি বিজেপির। বরং বাংলায় বিজেপির পায়ের নীচে মাটি সরেছে।