নিজস্ব প্রতিনিধি: স্তম্ভিত খোদ আদালত। যে মা(Mother) ১০ মাস ছেলেকে(Son) গর্ভে ধারণ করে তাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে সেই মার গলা কেটে দিতে বিন্দুমাত্র হাত কাঁপলো না ছেলের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে এ রাজ্যের বুকেই পূর্ব বর্ধমান(Purba Burdwan) জেলার উত্তর সদর মহকুমার ভাতার থানার(Bhatar PS) কুরুম্বা গ্রামে। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে সেই ঘাতক ছেলেকে। এদিন তাকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। ধৃতের নাম মটরা হাঁসদা। তার মায়ের নাম হরিদাসী হাঁসদা(৬৫)। সেই অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে ধারাল বটি দিয়ে কুপিয়ে খুনের(Murder) অভিযোগ উঠেছে মটরার বিরুদ্ধে।  

আরও পড়ুন, আর জি কর কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

জানা গিয়েছে, হরিদাসী দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। তাঁর তিন স্বামী ও ছেলে তাঁকে দেখভাল করতেন। সোমবার বাড়িতে মৃতার স্বামী ছাড়া আর কেউ ছিল না। সেই সুযোগে তার বড় ছেলে ধারালো বঁটি দিয়ে তাঁর গলায় আঘাত করে। রক্তাক্ত বটি দেখে সন্দেহ হয় হরিদাসীর স্বামীর। এরপরই ঘরে গিয়ে তিনি দেখেন হরিদাসী রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে। তড়িঘড়ি বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে এবং মঙ্গলবার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান পুলিশ মর্গে পাঠায়। মাকে খুনের অভিযোগে গ্ৰেফতার করা হয় অভিযুক্ত ছেলে মটরাকে। এদিন তাকে আদালতে পেশ করে পুলিশ ৫ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়েছে।

আরও পড়ুন, হাইকোর্ট ধমক দিতেই ১৫ দিনের ছুটিতে সন্দীপ ঘোষ

ঘটনার জেরে হরিদাসীর মেজ ছেলে বাচ্চু হাঁসদা জানিয়েছেন, ‘দাদা বেশ কয়েক মাস ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। গ্ৰামের পুজোয় নেশা করে হয়তো এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভাতার থানার পুলিশ।’ তবে গ্রামবাসীদের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, কেউ কোন মানসিক অবসাদে ভুগছিল না। হরিদাসীর নামেই রয়েছে জমি আর ভিটে। সেই জমি আর ভিটের ভাগ দখল নিয়ে ওই পরিবারের বিবাদ দীর্ঘদিনের। সেই সূত্রেই খুন। আর বড় ছেলে খুন করছে মাকে, বাড়িতে থেকেও কেন তা টের পেলেন না হরিদাসীর স্বামী? পুলিশও অবশ্য এই প্রশ্নের উত্তর খতিয়ে দেখছে।