নিজস্ব প্রতিনিধি: নবান্ন অভিযান শেষ হওয়ার আগেই ডেকে দেওয়া হয়েছিল বন্ধ(Bangla Bandh)। দলের কারও সঙ্গে আলাপ আলোচনা না করেই দলের রাজ্য সভাপতি হওয়ার দৌলতে একতরফা ভাবে ১২ ঘন্টার বাংলা বন্ধ ডেকে দিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার(Sukanta Majumdar)। কিন্তু গতকাল দিনভর দেখা গেল সেই বন্ধ কোনও দাগই কাটতে পারল না বাংলার জনমানসে। আর সেই কারণেই দলের মধ্যেই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছেন সুকান্ত। কেন তাড়াহুড়ো করে এই বন্ধ ডাকা হলো? কেননা গতকালের বন্ধের রাজনীতি যে বাংলার আমজনতা মেনে নেননি(People Rejected Bandh) সেটা দলে দলে সকাল সকালে মানুষের কাজে বার হওয়ার ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে। সরকারি অফিস হোক কী বেসরকারি অফিস সর্বত্রই হাজিরা ১০০ শতাংশের কাছাকাছি। কল্কাতা ও শহরতলি এলাকা বাদ দিয়ে বিজেপিকে(BJP) সেভাবে কোথাও খুঁজেই পাওয়া যায়নি বন্ধ সফল করার জন্য। এমনকি যে উত্তরবঙ্গে বিজেপি গত লোকসভা নির্বাচনেও ৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল, সেখানেও বন্ধের কোনও প্রভাব চোখে পড়েনি। আর তাই প্রশ্ন ঘুরছে বিজেপির অন্দরেও কেন দাগ কাটল না এই বন্ধ?
আরও পড়ুন, ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও ফাঁসি বাস্তবে কঠিন, দাবি আইনজীবীদের
পদ্মশিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও আড়ালে আবডালে অনেকে স্বীকার করে নিচ্ছেন, বন্ধ আর মানুষ চাইছেন না। বাম জমানার বন্ধ চিত্র মানুষ এখনও ভুলে যাননি। তাই যে দলই বন্ধ ডাকুক না কেন, তা যেন সিপিএমের সমর্থক হয়ে উঠেছে। আর তাই মানুষ কোনও দলের ডাকা বন্ধই সমর্থন করছেন না। এই সারসত্য বিজেপির নেতারা বুঝে উঠতে পারছেন না বা তা তাঁরা চাইছেন না। তাছাড়া রাতারাতি বন্ধ ডেকে তাকে সফল রূপ দিতে যে শক্তপোক্ত সংগঠনের প্রয়োজন তা দলের এখন রাজ্যের কোথাও নেই। স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকাতেই বন্ধ সফল করতে দলের নেতাকর্মীদের দেখাই মেলেনি। ১২ ঘণ্টা বন্ধের ডাক দিয়ে বিজেপি নেতৃ্ত্বের দাবি ছিল, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মিলবে, বন্ধ সর্বাত্মক হবে। বাস্তবে রাজ্যজুড়ে বন্ধের বড় কোনও প্রভাব পড়েনি। বেসরকারি বাস কম চলেছে, কিছু এলাকায় আংশিক দোকানপাট বন্ধও ছিল। এর বাইরে কোনও প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। রাজ্যজুড়ে সর্বত্র সরকারি অফিস খোলা ছিল, খোলা ছিল স্কুল-কলেজ, দৈনন্দিন যাপনের ছবিও টোল খায়নি। দিনের শেষে বিজেপি কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, আচমকা এ ভাবে বন্ধ ডেকে আদৌ কোনও লাভ হল কি? বরঞ্চ দলের অগোছাল অবস্থা আরও প্রকট হয়ে গেল!
আরও পড়ুন, আর জি কর কাণ্ডে আরও কী কেউ জড়িত, খুঁজেই চলেছে সিবিআই
গতকাল সকাল থেকে বন্ধের সমর্থনে রাজ্যের নানা প্রান্তে যে মিছিলগুলি বের হয়েছিল বিজেপির পক্ষে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই মিছিলে দলের নেতা-কর্মীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ফলে। যে দুই-চারটি দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছিল, মিছিল পেরিয়ে যাওয়ার পরে সেগুলিও খুলে দেওয়া হয়। আবার কোথাও কোথাও আমজনতার বন্ধ বিরোধী মানসিকতা এবং পুলিশের সাড়াশি চাপেও বন্ধ সমর্থকেরা পিছু হঠতে বাধ্য হন। সব থেকে বড় কথা, উত্তরবঙ্গের মতো জায়গায় যেখানে বিজেপি রীতিমত শক্তিশালী সেখানেও বন্ধের সমর্থনে সেভাবে মিছিল পর্যন্ত হয়নি! হয়নি সুকান্তের নিজের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরেও। রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় গতকাল ট্রেন আটকানো হয়েছিল। কিন্তু সামগ্রিক ভাবে রাজ্যে ট্রেন চলাচলে সেভাবে কোনও প্রভাবই পড়েনি। বন্ধে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না-মেলার পিছনে তাই দলের আদি নেতারা দলের বর্তমান সংগঠনকেই দায়ী করছেন।আদি নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, সংগঠনের জোর থাকলে বন্ধের দিনে বড় মিছিল করা যায়। কিন্তু গতকাল সেটাই করা যায়নি। যদিও রাজনীতির অভিজ্ঞদের মতে, মানুষ যে আর বন্ধ চাইছেন না, সেটা গতকালের ছবি বলে দিয়েছে। আগামী দিনে শুধু বিজেপি কেন, বাম-কংগ্রেস, যে কেউ ডাকুক না কেন তা সফল হবে না।