নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতার নরেন্দ্রনাথ দত্ত থেকে স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে ওঠা যুবকের জীবনের গল্প হয়েতো কমবেশি সকলেই জানেন। মহান এই মহান মনীষীর জন্ম হয়েছিল ১২ জানুয়ারি ১৮৬৩ সালে। ছোটবেলা থেকে বিলে ছিলেন খুব দস্যি। একদন্ড চুপ করে বসে থাকতে পারতেন না তিনি। একদিন রেগে গিয়ে মা ভুবনেশ্বরী দেবী বলেছিলেন ‘মহাদেব নিজে আমার ঘরে না এসে তাঁর একটা ভুত পাঠিয়ে দিয়েছেন।’ সেই দস্যি বিলে একসময় পরিণত হল মহান ব্যক্তিত্বে। যার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছিল বিশ্ববাসী।
যিনি শিখিয়েছিলেন জীবের সেবা করে মানেই ঈশ্বরের সেবা করা। ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় ভারতবর্ষ ও হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং আমেরিকার শিকাগোতে বক্তৃতা দেন। তাঁর তেজময়ী ভাষণে মুগ্ধ হয়ে যান উপস্থিত শ্রোতারা। আমেরিকাতে বহু মানুষ এই হিন্দু সন্ন্যাসীর পরম অনুরাগী হয়ে ওঠেন। বিবেকানন্দের শেষের কটা দিন খুব অদ্ভূতভাবে কাটে। ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন নিজের মৃত্যুর খবর আগে থেকেই জানতেন তিনি। এই নিয়ে নানান কাহিনী প্রচলিত আছে। স্বামীজির দেহ ত্যাগের পর শ্বশ্মানে নিয়ে যাওয়া হলে অনুরাগীরা চোখের জলে শেষ বিদায়টুকু জানান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বামীজির ভক্ত ভগিনী নিবেদিতাও। এরপর স্বামীজিকে চিতায় শুইয়ে দেওয়া হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন।
শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিবেদিতা। মনে মনে ভাবলেন‚ ‘প্রভুর ওই জ্বলন্ত বস্ত্রখণ্ডের এক টুকরো যদি পেতাম!’ হঠাৎ নিবেদিতার মনে হল কেউ তার হাতা টেনে ধরেছে। তিনি ঘুরে ফিরে একটি জাফরান রঙের একটি কাপড়ের ছোট টুকরো দেখতে পান। তিনি অনুভব করলেন চিতার উপর থেকে উড়ে এল এক টুকরো কাপড়। থেকে বেরিয়ে এসেছিল। স্বামীজির দেহ একটি জাফরান রঙের কাপড়ে মোড়ানো ছিল। স্বয়ং স্বামীজির বার্তা মনে করে নিবেদিতা কাপড়টি তুলে নিলেন। শেষ সম্বল হিসেবে নিজের কাছে রেখে দিন এই উপহারটুকু।
এরপরে স্বামীজির দাদা বিষয়টি খোলসা করেছিলেন।স্বামীজির মৃত্যুর পর তাঁর কাপড়ের একটি ছোট অংশ নিতে চেয়েছিলেন ভগিনী নিবেদিতা। যেটা তাঁর কাছে স্মৃতি হিসেবে রেখে দেবেন। কিন্তু, তিনি দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন যে এই কাজটি হয়তো ঠিক হবে না। স্বামীজি কিন্তু নিরাশ হয়ে ফেরাননি নিবেদিতাকে। তাঁকে শেষ উপহারটুকু দিয়ে গিয়েছিলেন।