নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্লোগান ছিল, ‘আবকে বার ২০০ পার’। কিন্তু বাংলার জনগন সেই শ্লোগানকে আর বাস্তবায়িত হতে দেননি। তাঁরা শ্লোগান তোলা দলকে থামিয়ে দেন লক্ষ্যের অর্ধেকেরও বহু দূরে। একুশের ভোটে বাংলার মাটিতে বিজেপির দৌড় থেমেছিল মাত্র ৭৭ আসন পেয়েই। কিন্তু তারপর সময় যত এগিয়েছে, বিজেপির পক্ষে আর সেই আসন সংখ্যাও ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কেননা প্রতিটি নির্বাচনে তাঁদের পায়ের নীচের মাটি আলগা হয়ে যাওয়ার ছবি ফুটে উঠছে। আর তাই এদিন বঙ্গ বিজেপির(Bengal BJP) অন্দরেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, এবার কী বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা সরকারি ভাবে ৭১ হয়ে যাবে। কেননা এদিন সকাল থেকেই রাজ্যের ৪ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের গণনার ট্রেন্ড দেখে মনে হচ্ছে, একুশের ভোটে জেরে রায়গঞ্জ, রানাঘাট দক্ষিণ ও বাগদা ৩ কেন্দ্রই হাতছাড়া হতে চলেছে বিজেপির।
একুশের ভোটে বিজেপি ৭৭টি আসন জিতলেও সঙ্গে সঙ্গে ইস্তফা দিয়েছিলেন দুই বিধায়ক। কেননা তাঁরা সেই সময় সাংসদও ছিলেন। সেই দুইজন হলেন নিশীথ প্রমাণিক ও জগন্নাথ সরকার। নিশীথ জিতেছিলেন কোচবিহার জেলার দিনহাটা থেকে আর জগন্নাথ জিতেছিলেন নদিয়া জেলার শান্তিপুর থেকে। সেই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয় তৃণমূল। আর তার জেরে বিজেপি আসন সংখ্যা কমে হয় ৭৫। পরে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক মারা যাওয়ায় সেখানেও উপনির্বাচন হয়। সেই উপনির্বাচনেও জয়ী হয় তৃণমূল(TMC) আর আসন হারায় বিজেপি। ৭৫ কমে হয় ৭৪। এবার এদিন যে ৪ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের(Bye Election of 4 Assembly Seats) ভোট গণনা চলছে তাতে দেখা যাচ্ছে একুশের ভোটে উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলায় বিজেপির জেতা রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে লিড তুলেছে তৃণমূল। একই ছবি নদিয়া জেলার রানাঘাট দক্ষিণ এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাগদায়। একুশের ভোটে বিজেপির জেতা এই দুই আসনেও বিপুল ভোটে এগিয়ে তৃণমূল। ভোট সমীক্ষকদের দাবি, ৩ আসনই হাতছাড়া হচ্ছে বিজেপি। আর সেক্ষেত্রে রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক সংখ্যা সরকারি ভাবে কমে হতে চলেছে ৭১।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় প্রাপ্ত তথ্য বলছে রায়গঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যানী এগিয়ে আছেন ১৮ হাজারেরও বেশি ভোটে। রানাঘাট দক্ষিণে তৃণমূল প্রার্থী মুকুটমণি অধিকারী এগিয়ে আছেন ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে। বাগদায় তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর এগিয়ে ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে। মানিকতলায় তৃণমূল প্রার্থী সুপ্তি পাণ্ডে এগিয়ে আছেন ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে। আর তাই বিজেপির তরফেও এখন কেউ দাবি করছেন না যে তাঁরা রায়গঞ্জ, রানাঘাট দক্ষিণ আর বাগদা তাঁরা ধরে রাখতে পারবেন। বরঞ্চ বিজেপি নেতাদের শারীরি ভাষা বলে দিচ্ছে তাঁরা হার মেনে নিচ্ছেন। তবে গপ্পো একঝানেই শেষ নয়।
এখনও উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন বাকি আছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সেখানে ভোট হতে পারে। সেক্ষেত্রে একুশের ভোটে জেতা সেই আসন যদি উপনির্বাচনে বিজেপি ধরে রাখতে না পারে তাহলে বিজেপি আসন সংখ্যা রাজ্য বিধানসভায় কিন্তু সরকারি ভাবে কমে হবে ৭০। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেওয়া উচিত যে বিজেপির আরও ৩ বিধায়ক তৃণমূলে আগেই চলে এসেছেন তবে তাঁরা পদত্যাগ করেননি। সরকারি ভাবে তাই তাঁরা এখনও বিজেপির বিধায়কই আছেন। তাই রাজ্য বিধানসভার(West Bengal State Assembly) অন্দরে পদ্মে বিধায়কদের সংখ্যা ক্রমশই কমতির দিকেই হাঁটছে। অন্যদিকে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ২১৮ থেকে বেড়ে হতে চলেছে ২২১, মাদারিহাটেও জিতলে তা হবে ২২২।