নিজস্ব প্রতিনিধি : পাথর প্রতিমার ঢোলাহাটে বাজি বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার পুলিশের জালে চন্দ্রকান্তের ভাই তুষার বণিক। বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে প্রাণ কেড়েছিল ৮ জনের। তদন্তে নেমে সেই বাজি কারখানার মালিক চন্দ্রকান্ত বণিককে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এবার তাঁর ভাই তুষার বণিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকে ২ ভাই পলাতক ছিলেন।
বিস্ফোরণের ঘটনার পরেই বাজি ব্যবসায়ী পরিবারের দুই সদস্য চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তাঁর ভাই তুষারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছিল ঢোলাহাট থানা। সোমবারের বিস্ফোরণের পর থেকে পলাতক ছিলেন তুষার বণিকও। শুক্রবার অবশেষে ধরা পড়েছেন পুলিশের জালে।
ঘরে বিপজ্জনক বস্তু মজুত রাখা, অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা-সহ মোট ছ’টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। দমকল আইনেও মামলা রুজু হয়েছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। দুর্ঘটনার সময়ে চন্দ্রকান্ত, তুষার এবং তাঁদের মা বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।
বাজি বিস্ফোরণের পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য রূপা বণিককে। অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু পরে রূপার মৃত্যু হয়। ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে একটি পরিবার প্রায় এক লহমায় শেষ হয়ে যায়। শুধু যে তিন জন ওই সময় বাইরে ছিলেন তাঁরাই বেঁচে গিয়েছেন কপালজোরে। মারা গিয়েছেন পরিবারের ১১ জন সদস্য। তার মধ্যে রয়েছে একাধিক ছোট শিশুও।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানা এলাকার দক্ষিণ রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকা। বিস্ফোরণ হয় চন্দ্রকান্ত এবং তুষারের বাড়িতে। বাড়িতেই মারা যান পরিবারের সাত সদস্য। তাঁরা হলেন চন্দ্রকান্ত এবং তুষারের বাবা অরবিন্দ বণিক (৬৫), ঠাকুরমা প্রভাবতী বণিক (৮০) , চন্দ্রকান্তের স্ত্রী সান্ত্বনা বণিক (২৮), দুই সন্তান অর্ণব বণিক (৯) ও অস্মিতা বণিক (৮ মাস) এবং তুষারের দুই সন্তান অনুষ্কা বণিক (৬) এবং অঙ্কিত বণিক (৬ মাস) মারা গিয়েছেন।