নিজস্ব প্রতিনিধি: পৃথিবীর ভয়াবহ অস্ত্রগুলির মধ্যে একটি হল সবথেকে সেরা হল পরমাণু বোমা। ১৯৪৫ সালে তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে এই বোমা নিক্ষেপ করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিমেষের মধ্যে পুরোপুরি মৃত্যুপুরীতে পরিনত হয়েছিল এই দু’টি শহর। পরমাণু বোমা ফাটার সঙ্গে-সঙ্গেই নিহত হয়েছিল লক্ষ-লক্ষ মানুষ। শুধুতাই নয় পরমাণুর প্রভাবে বছরের পর বছর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। যেই কারণে এখনও পর্যন্ত জাপানে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হয়ে থাকে। যা এককথায বলতে গেলে মর্মান্তিক।

বিস্ফোরণের দিন সকালে ভীষণ জোরে একটি শব্দ শুনতে পান হিরোশিমা ও নাগাসাকির লোকেরা। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কালো ধোঁয়াতে চারিদিক ঢেকে যায়। দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষদের চামড়া রীতিমতো পুঁড়ে গিয়েছি। ইতিহাসের পাতায় থাকা ভয়াবহ এই ঘটনাটি প্রায়  সকলেরই জানা।  

তবে ১৯৪৫ সালের পর ফের একবার পরমাণু যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন চলতি যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই ভয়াবহ হাতিয়ার প্রয়োগ করার হুমকি এসেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমের দেশগুলিকে সতর্কবার্তা দিয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, যদি কোনও দেশ রাশিয়া-ইউক্রেনের মাঝে নাক গলাতে আসে তাহলে তার পরিণতি এমন হবে যা এর আগে কেউ দেখেনি। আর পুতিনের এই হুঁশিয়ারিকে পরমাণু যুদ্ধে হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

তাদের মতে পরমাণু যুদ্ধ হলে সুন্দর এই পৃথিবী প্রায় ১৮ হাজার বছর পিছিয়ে যাবে। অবাক হলেও সুইৎজারল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ সংস্থা এই বিষয়ে গবেষণা করে জানিয়েছেন যে, পরমাণু বোমা এক ধাক্কায় ১০ লক্ষ লোককে মেরে ফেলতে পারে। আর যদি কোথাও একই সঙ্গে বা পরপর ১০টি পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় তাহলে লক্ষ-লক্ষ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে বদলে যাবে আবহাওয়া এবং জলবায়ুর অবস্থাও। শুধু তাই নয় গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের ২ শতাংশেরও কম পরমাণু অস্ত্র যুদ্ধে ব্যবহার করা হলে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ অনাহারের পথে চলে যাবে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধে ৫০০টি পরমাণু বোমা ব্যবহার করা হলে মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে ১০ কোটির বেশি মানুষের মৃত্যু হবে।